আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

পটিয়ার ঐতিহাসিক কালো মসজিদ: ঈমান, অলৌকিকতা ও এক বিস্ময়কর ইতিহাস।

ইমরান হোসেন মুন্না

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এক সময় এই জনপদে নেমে এসেছিল এক ভয়ংকর বিপর্যয়—বসন্ত রোগ। চারদিকে তখন কেবল আতঙ্ক, কান্না আর অসহায় মানুষের দীর্ঘশ্বাস। চিকিৎসাব্যবস্থা বলতে তেমন কিছুই ছিল না। মৃত্যু আর জীবনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো তখন তাকিয়ে ছিল একমাত্র আল্লাহর রহমতের দিকে।কিন্তু প্রশ্ন ছিল—এই ভয়াবহ রোগ থেকে মুক্তির পথ কোথায়?

দিকনির্দেশনা খুঁজতে এলাকার ধার্মিক মানুষগুলো ছুটে যান হযরত আবুল খায়ের সুলতানপুরী (রহ.)-এর দরবারে। তিনি তখন এক অবাক করা কথা বলেন—
“তোমাদের পাশেই একজন আল্লাহর ওলি রয়েছেন। তাঁর শরণাপন্ন হও। আল্লাহর দয়ায় এই রোগ থেকে মুক্তি মিলবে।”

এই কথাই যেন বদলে দেয় পুরো জনপদের ভাগ্য। স্থানীয় মানুষজন ছুটে যান হযরত মাসুম আউলিয়া (রহ.)-এর দরবারে। আর আশ্চর্যের বিষয়—আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে সেই ভয়াবহ বসন্ত রোগ পুরোপুরি মিলিয়ে যায়।
এরপর থেকেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে হযরত মাসুম আউলিয়া (রহ.)-এর অলৌকিক খ্যাতি। জনশ্রুতি আছে, তিনি আরব দেশ থেকে এই অঞ্চলে আগমন করেন পবিত্র ইসলাম ধর্ম প্রচারের মহৎ উদ্দেশ্যে। আজও তাঁর মাজার ঘিরে মানুষের অগাধ ভক্তি, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা অটুট।

🛕 যে মসজিদ জন্ম নিয়েছিল প্রয়োজন থেকে, টিকে আছে বিশ্বাসে

পটিয়া মূল শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে, চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের কচুয়াই গ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি স্থানীয়ভাবে পরিচিত “কালো মসজিদ” নামে। ইতিহাস ও জনশ্রুতি বলছে, প্রায় ২৫০ বছর আগে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর ইবাদতের সুবিধার্থে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।

সে সময় শ্রীমাই ব্রিজ এলাকা থেকে অলিরহাট পর্যন্ত আর কোনো মসজিদ ছিল না। দূরত্ব, কষ্ট আর প্রয়োজন—সবকিছুকে জয় করেই ঈমানদার মানুষের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে গড়ে ওঠে এই পবিত্র উপাসনালয়।

শুরুর দিকে মসজিদটি ছিল মাটি দিয়ে তৈরি, আর এর ওপর দেওয়া হতো আলকাতরার প্রলেপ। সেই প্রলেপের কারণেই মসজিদটি কালো রঙ ধারণ করে—আর তখন থেকেই এর নাম হয়ে যায় কালো মসজিদ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মাটির কাঠামো হারিয়ে যায়। ১৯৮০ সালের দিকে মসজিদের মাটির দেয়াল ভেঙে ইটের গাঁথুনিতে রূপান্তর করা হয়। আজ ঐতিহ্যের স্মৃতি ধরে রাখতে মসজিদের দেয়ালে লাগানো হয়েছে কালো রঙের আধুনিক টাইলস—যেন অতীত আর বর্তমান এক সুতোয় বাঁধা।

🌙 মসজিদ, মাজার ও দ্বীন শিক্ষার এক পবিত্র কেন্দ্র

বর্তমানে মসজিদ, কবরস্থান ও ঈদগাহসহ মোট প্রায় ৮০ শতক জমির উপর এই ধর্মীয় কমপ্লেক্স বিস্তৃত। এর মধ্যে মূল মসজিদটি রয়েছে প্রায় ৪০ শতক জমির ওপর।
মসজিদের পাশেই অবস্থিত হযরত শাহ মাসুম আউলিয়া (রহ.)-এর মাজার শরীফ—যেখানে প্রতিদিন ভক্তরা এসে দোয়া, জিয়ারত ও আল্লাহর নিকট প্রার্থনায় নিমগ্ন হন। এছাড়া মসজিদের দক্ষিণ পাশে বর্তমানে এতিমখানা ও হিফজখানা নির্মাণাধীন, যা ভবিষ্যতে দ্বীন শিক্ষার নতুন আলো ছড়াবে, ইনশাআল্লাহ।

🤲 আজও কেন মানুষ ছুটে আসে কালো মসজিদে?

আজও এই ঐতিহাসিক কালো মসজিদ ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি জুমার দিন ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মুসল্লি এখানে এসে ইবাদতে শরিক হন। পাশাপাশি হযরত মাসুম আউলিয়া (রহ.)-এর মাজারে জিয়ারত করে অনেকেই খুঁজে নেন হৃদয়ের প্রশান্তি, দোয়ার কবুলিয়াত ও আত্মিক সান্ত্বনা।

মাটির দেয়াল থেকে ইটের দালানে রূপান্তরিত হলেও, এই কালো মসজিদ আজও বহন করে চলেছে তার ঈমানি ইতিহাস, অলীদের স্মৃতি ও শতাব্দীপ্রাচীন বিশ্বাসের গল্প।

মনে হয়—এটি যেন একটি পুরোনো, অমূল্য গ্রন্থ; যার মলাট আধুনিক হলেও ভেতরের বাণী, বিশ্বাস আর ইতিহাস আজও অমলিন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

নাড়ির টানে বন্দর নগরী ছাড়ছে মানুষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

:পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে গন্তব্যে ছুড়ছে মানুষ। পথে পথে ভোগান্তি এড়াতে মানুষ আগ থেকে বন্দর নগরী ছাড়তে শুরু করেছে। শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম রেল ষ্টেশন, বাস টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এর আগে শুক্রবার থেকে তাদের এই ঈদ যাত্রা শুরু হয়।

চট্টগ্রাম মহানগরের এ কে খান মোড়, অলংকার ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাস ও ট্রেনে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন অনেকে। কেউ যাচ্ছেন কুমিল্লা, কেউ ঢাকা, কেউ সিলেট বা রাজশাহীর দিকে। যাত্রীর সংখ্যা এখনো খুব বেশি না হলেও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে বলে জানান পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সম্ভাব্য ঈদের তারিখ ধরা হচ্ছে আগামী ২১ মার্চ। ফলে এখনো কয়েক দিন সময় থাকলেও অনেকেই বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন।মূলত ঈদের আগমুহূর্তে বাড়তি যাত্রী চাপের ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আগেভাগে শহর ছাড়ছেন।

পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দিন দিন ঈদযাত্রা আরও জমে উঠবে। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি অফিসে ছুটি শুরু হলে নগর ছাড়ার মানুষের ঢল নামতে পারে। তখন এ কে খান, অলংকার, কদমতলী বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশন এলাকায় যাত্রীদের বড় ভিড় দেখা যাবে।

এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের পূর্বাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ট্রেনযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে নানামুখী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ বছর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে ১০৫টি অতিরিক্ত কোচ প্রস্তুত করা হয়েছে। বাড়তি যাত্রী পরিবহনে এসব কোচ বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিশেষ ট্রেন, বাড়তি ইঞ্জিন যুক্ত করাসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, যাত্রীর চাপ বাড়ায় পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনে ১০৫টি অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হচ্ছে। চলমান ৭৫টি ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে আরও ১০টি ইঞ্জিন। এ ছাড়া চালানো হবে আটটি বিশেষ ট্রেন। এরমধ্যে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ ও ২ চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর আসা-যাওয়া করবে। এর যাত্রী ধারণক্ষমতা ৬৬৮ জন। এছাড়া ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে স্টেশন এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে এ কে খান এলাকায় ঢাকাগামী যাত্রী আবুল কালামের সঙ্গে কথা হলো। তিনি বলেন, তিনি নগরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এবার একটু আগেভাগেই বাড়ি যাচ্ছেন। কারণ, বাড়িতে একজন অসুস্থ আত্মীয় রয়েছেন।

ঈদের সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে চান বলেই আগে বেরিয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে নোয়াখালীগামী একটি বাসে উঠেছিলেন সায়েরা আক্তার। দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি গ্রামে ফিরছেন। সায়মা বলেন, পরে গেলে খুব ভিড় থাকে। বাচ্চাদের নিয়ে যাতায়াত কষ্ট হয়। তাই আগেই চলে যাচ্ছি। তবে তাঁর স্বামী হায়দার আলী এখনই যেতে পারছেন না। তিনি জানান, তাঁর স্বামীর এখনো ছুটি হয়নি। ঈদের আগের দিন তিনি বাড়ি যাবেন।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এবারের ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের মাঝে প্রতিদিন পূর্বাঞ্চলের ১৬টি ট্রেনের ৮ হাজারের বেশি অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। গত ৩ মার্চ থেকে ট্রেনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছিল। ৯ মার্চ শেষ হয়েছে। অগ্রিম টিকিটের যাত্রীরা যেতে শুরু করেছেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ