চট্টগ্রামের দুই হাসপাতাল নির্মাণের ডিপিপি চূড়ান্ত, অনুমোদনের অপেক্ষায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের দুইটি হাসপাতাল নির্মাণের নির্মাণের প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। প্রকল্প দুটি এখন একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত। চট্টগ্রামের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার দ্বার খুলতে হাটহাজারী ও কর্ণফুলীতে প্রস্তাবিত দুই বৃহৎ হাসপাতাল প্রকল্প। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে হাটহাজারীর হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জমি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জেলা সিভিল সার্জন বরাবর ওই জমি হস্তান্তর করেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই দুই প্রকল্প হল হাটহাজারীতে ৬০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং কর্ণফুলীতে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হাটহাজারী ও কর্ণফুলীর রোগীরা গুরুতর চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নগরে ছুটতে বাধ্য হন। নতুন এই হাসপাতাল দুটি চালু হলে মা ও শিশু স্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, সার্জারি ও বিশেষায়িত সেবাসহ আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা স্থানীয় পর্যায়েই নিশ্চিত হবে। যা উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাটহাজারীর ফটিকা এলাকায় বিটিসিএলের ২০ একর জমিতে ৬০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল, নার্সিং ইনস্টিটিউট, আবাসিক সুবিধা ও আঞ্চলিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে কর্ণফুলী উপজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের নিজস্ব খালি জমিতে ২৫০ শয্যার একটি আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাটহাজারীর হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জমি ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই প্রকল্পের ডিপিপি চূড়ান্ত হয়েছে এবং একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই দুটি হাসপাতাল চালু হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজসহ নগরীর বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং স্থানীয় মানুষ নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, এই প্রকল্প দুটি কেবল হাসপাতাল নির্মাণ নয়, বরং আধুনিক ও বিকেন্দ্রীকৃত স্বাস্থ্যসেবার একটি নতুন মডেল হবে বলে আশা করছি।

সূত্র জানায়, জাতীয় উন্নয়ন ও পরিকল্পনা একাডেমির (এনএপিডি) বিশেষজ্ঞ টিম দুই প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন সম্পন্ন করে। গত ২ ডিসেম্বর হাটহাজারী এবং ৩ ডিসেম্বর কর্ণফুলী উপজেলার নির্ধারিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এনএপিডির প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। পরিদর্শনকালে প্রকল্প এলাকার ভূ-অবস্থান, অবকাঠামোগত উপযোগিতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবেশগত দিক, রোগীর চাহিদা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ম্যাপ ও কারিগরি তথ্য সরবরাহ করা হয়।

তারও আগে দুই হাসপাতালের প্রাথমিক ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) বিআরটিসি বিভাগের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা পরিচালনা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা যাচাই করে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ইঞ্জিন দ্রুত মেরামতে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের নির্দেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ), লোকোসেড, সিজিপিওয়াই, কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) ও পদ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এসব স্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে রেলওয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (সিই), চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস), চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম), চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং পাহাড়তলীর ডিএসডব্লিউসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় তিনি একাডেমির একাডেমিক ভবন, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ কক্ষ, ডরমেটরি ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।এরপর তিনি সিজিপিওয়াই, টার্ন টেবিল, ট্রায়াঙ্গেল লাইন, ইয়ার্ড লাইন ও লোকোসেড পরিদর্শন করেন। লোকোসেড পরিদর্শনকালে ইঞ্জিন দ্রুত মেরামত ও সচল রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন।

পরে সিজিপিওয়াই এলাকায় কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় সিসিবিএলের সঙ্গে রেলওয়ের বিভিন্ন চুক্তি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া দ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

চলতি বছর মৃতের সংখ্যা ১০ চট্টগ্রামে ডেঙ্গু কেড়ে নিল আরও এক শিশুর প্রাণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আবরার নামের আট বছর বয়সী ওই শিশু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন ছিল। গত ৯ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু রোগীর বিবরণীতে এ
তথ্য জানানো হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুটির বাড়ি নগরের হালিশহর এলাকায়। গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৯ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।

পরীক্ষায় এনএসওয়ান পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর ডেঙ্গু নিশ্চিত করা হয়েছিল। মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম’ উল্লেখ করা হয়েছে।সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬ জন, ২৫০ শয্যা চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন এবং চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) দুজন রয়েছেন। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আরও ছয়জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৩৮০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৪১৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯৬ জনে।

এ সময়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৫৬৯ জন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ