আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামের দুই হাসপাতাল নির্মাণের ডিপিপি চূড়ান্ত, অনুমোদনের অপেক্ষায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের দুইটি হাসপাতাল নির্মাণের নির্মাণের প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। প্রকল্প দুটি এখন একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত। চট্টগ্রামের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার দ্বার খুলতে হাটহাজারী ও কর্ণফুলীতে প্রস্তাবিত দুই বৃহৎ হাসপাতাল প্রকল্প। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে হাটহাজারীর হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জমি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জেলা সিভিল সার্জন বরাবর ওই জমি হস্তান্তর করেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই দুই প্রকল্প হল হাটহাজারীতে ৬০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং কর্ণফুলীতে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হাটহাজারী ও কর্ণফুলীর রোগীরা গুরুতর চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নগরে ছুটতে বাধ্য হন। নতুন এই হাসপাতাল দুটি চালু হলে মা ও শিশু স্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, সার্জারি ও বিশেষায়িত সেবাসহ আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা স্থানীয় পর্যায়েই নিশ্চিত হবে। যা উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাটহাজারীর ফটিকা এলাকায় বিটিসিএলের ২০ একর জমিতে ৬০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল, নার্সিং ইনস্টিটিউট, আবাসিক সুবিধা ও আঞ্চলিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে কর্ণফুলী উপজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের নিজস্ব খালি জমিতে ২৫০ শয্যার একটি আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাটহাজারীর হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জমি ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই প্রকল্পের ডিপিপি চূড়ান্ত হয়েছে এবং একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই দুটি হাসপাতাল চালু হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজসহ নগরীর বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং স্থানীয় মানুষ নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, এই প্রকল্প দুটি কেবল হাসপাতাল নির্মাণ নয়, বরং আধুনিক ও বিকেন্দ্রীকৃত স্বাস্থ্যসেবার একটি নতুন মডেল হবে বলে আশা করছি।

সূত্র জানায়, জাতীয় উন্নয়ন ও পরিকল্পনা একাডেমির (এনএপিডি) বিশেষজ্ঞ টিম দুই প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন সম্পন্ন করে। গত ২ ডিসেম্বর হাটহাজারী এবং ৩ ডিসেম্বর কর্ণফুলী উপজেলার নির্ধারিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এনএপিডির প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। পরিদর্শনকালে প্রকল্প এলাকার ভূ-অবস্থান, অবকাঠামোগত উপযোগিতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবেশগত দিক, রোগীর চাহিদা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ম্যাপ ও কারিগরি তথ্য সরবরাহ করা হয়।

তারও আগে দুই হাসপাতালের প্রাথমিক ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) বিআরটিসি বিভাগের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা পরিচালনা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা যাচাই করে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেড়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগান সামনে রেখে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে পরিচালিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে।মেয়র বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।তাই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান উৎস নোংরা ড্রেন ও জমে থাকা বর্জ্য। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬০ জনের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।মেয়র বলেন, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গিবাজার, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষভাবে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। আমেরিকা থেকে আনা কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহার করায় ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহর শুধু সিটি করপোরেশনের নয়—এটি সবার শহর। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সব সময় উন্নয়ন ও উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেট, কেবি ফজলুল কাদের সড়ক এবং প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং মশক নিধনে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ