আজঃ রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ক্ষমতাকে আমানত হিসেবে রাখবো : আবু সুফিয়ান।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম- ৯ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বলেছেন, ফ্যাসিস্ট বিদায় হয়েছে। নতুন স্বপ্ন নিয়ে মানুষ জেগে উঠেছে যে, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা দেশ পরিচালিত হবে। মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করেছি। নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করবে। যদি নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারি, যদি আমার দল সরকার গঠন করতে পারে এটাকে কোনভাবে ক্ষমতা হিসেবে নিতে চাই না, পবিত্র আমানত হিসেবে নিতে চাই। মানুষের আকাঙ্খা পূরণে আমরা যেন সমর্থ হই। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ক্ষমতাকে আমানত হিসেবে রাখবো। আমার দলের পক্ষ থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখানে আমার দলের অনেক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তারপরও দল আমাকে দিয়েছে, আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমাদের সমস্ত নেতৃবৃন্দ নিজেরা প্রার্থী হলে যেভাবে কষ্ট করতেন সেভাবে উনারা ধানের শীষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর জামাল খানস্থ দাওয়াত রেস্টুরেন্টে চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতায় গেছে তারা জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে নিজের পকেট ভারি করেছে। দেশের সকল প্রতিষ্ঠান ফ্যাসিস্ট সরকারের কর্মকান্ডের কারণে ধংস হয়ে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলতে হবে। অতীতে যারা ভোট ছাড়া ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদের সম্পদ বেড়েছে। আজ ওয়াদা দিয়ে যেতে চাই, যদি সংসদে যাই আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করবো। প্রত্যেক জনপ্রতিনিধি যদি জনগণ ও দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় তাহলে যে নিরাপদ বৈষম্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ আমরা চাই সেই বাংলাদেশ পাব।

আবু সুফিয়ান বলেন, জনগণের যে আকাঙ্খা, একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন সে দিকে আমরা যাচ্ছি। নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে আগামী ২২ জানুয়ারী থেকে আমরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করব। বিএনপি জুলাই আন্দোলন এবং এর পূর্বেও গত ১৭ বছর ধরে দেশের জনগণের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার অর্জনের জন্য নিরলস সংগ্রাম করে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন। আমাদের নেতা বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন যাপন করেছেন। উনি যেদিন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন সেদিন সমাবেশে তিনি বলেছেন, নারী পুরুষ শিশু জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়বেন। এজন্য তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ সাহেবের গণসংযোগে গুলিবর্ষণ হয়েছে, একজন মারা গেছে। তারপর ঢাকায় ওসমান হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেছেন। আমরা এসমস্ত ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে নিতে পারিনা। আমরা মনেকরি এটা নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করার জন্যে কোন না কোন মহল যারা নির্বাচন করতে চায় না, যারা নির্বাচনকে বন্ধ করতে চায় তাদের কাজ।

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বেআইনী কর্মকাণ্ড করে তাদেরকে কঠোরভাবে আইনের আওতায় এনে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। এটা প্রশাসনের দায়িত্ব। প্রার্থী হিসেবে প্রশাসনকে যেটুকু সহযোগিতা করার সেটুকু আমরা করতে চাই।

এক প্রশ্নের জবাবে আবু সুফিয়ান বলেন, জামায়াত ও এনসিপির কেউ যদি ভোট চেয়ে থাকেন তাহলে তারা অপরাধ করেছেন। আমরা আচরণবিধি মেনে ২২ তারিখ থেকে প্রচারণায় যাব। তবে হ্যাঁ মানুষের সাথে আমাদের সম্পর্কটা একদম গভীরে। নির্বাচনে প্রচারণায় এখনো না গেলেও আমরা উনাদের চেয়ে এগিয়ে আছি।

তিনি বলেন, এক সময় নির্বাচনটা ছিল একটা উৎসব। ঈদের মত আনন্দ নিয়ে সবাই সপরিবারে ভোট কেন্দ্রে যেত। কিন্তু বিগত দিনে জনগণের উপর আস্থা হারিয়ে বিগত সরকার সেই ভোটের দিনকে আতঙ্কের দিনে পরিণত করেছিল, গুলি বোমা ককটেল এগুলো ফাটিয়ে। সেই কালো অধ্যায় থেকে বেরিয়ে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করতে চাই। মানুষের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রবণতা আমরা দেখতে পাচ্ছি। দেখবেন অন্যান্য ভোটের চেয়ে আরো বেশি মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে।

উৎসমবুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আবার ঘরে ফিরতে পারবে। এবং জনগণের প্রদত্ত ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হবে। এটাই প্রত্যাশা করছি।
আবু সুফিয়ান বলেন, ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ করে সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য যারা স্ট্রাইকিং ফোর্স আছে ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে, কোনভাবেই ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাওয়া আসায় কোন বাধার সৃষ্টি হবে না। তারা এটা সিরিয়াসলি মনিটর করে এ ব্যাপারে আমাদেরকে নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। তাদের সেই আশ্বাসে আমরা আস্থা রাখতে চাই। আশাকরি কোন অপশক্তি পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারবে না। কারণ জনগণ সচেতন আছে।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চিফ কোঅর্ডিনেটর, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ৯ আসনে সংসদ সদস্য প্রত্যাশী আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সামশুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল আলম ও আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল। উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, শিহাব উদ্দিন মোবিন, আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, মো. মহসিন, খোরশেদুল আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, ইসমাঈল বালি, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বাসস’র চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মো. শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বৈশাখী টিভির ব্যুরো প্রধান গোলাম মওলা মুরাদ সহ চট্টগ্রামে কর্মরত বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক দিলো জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকায় আগামীকাল সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করার পর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপি এবং নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে এদিন নির্বাচন কমিশন ভবনে উপস্থিত হয়েছিলেন তারা।

এদিন বেলা ১২টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনে ওই বৈঠক হয়।বৈঠক শেষে হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন নির্বাচনের পর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। এসব হামলার প্রতিবাদে সোমবার ঢাকার বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করবে ১১ দলীয় জোট।

৩০ আসনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে ইসিতে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারানজামায়াতে ইসলামীর এ নেতা অভিযোগ করেন, কালো টাকার ব্যবহারসহ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। লক্ষ্য করা গেছে, কোনো কোনো কেন্দ্রে কর্তব্যরত কর্মকর্তারা নিজে সিল মেরেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার ভোটগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে, ভীতি ছড়ানো হয়েছে। এসব কারণে ভোট কাস্টিং কম হয়েছে। আমরা যারা একসঙ্গে নির্বাচন করেছি, তাদের পক্ষ থেকে বারবার কমিশনকেও বলা হয়েছে, স্থানীয়ভাবেও বলা হয়েছে। কিন্তু এর কোনো পদক্ষেপ আমরা সন্তোষজনকভাবে পাই নাই।

তিনি অভিযোগে আরও বলেন -কিছু কিছু কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভোট কাস্টিং হয়েছে। এখানে অতিরিক্ত ব্যালট ব্যবহার হয়েছে। সবমিলে নির্বাচন প্রক্রিয়া ভালো ছিল না। ভোটগণনার সময় এজেন্টদের ফোর্স করে বের করা হয়েছে। ভোটের রেজাল্ট শিট ঘষামাজা করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে জামানত ফেরত পাবেন না ৭১ প্রার্থী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামানত হারিয়েছেন চট্টগ্রামের ৭১ প্রার্থী। চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এরমধ্যে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও চসিক আংশিক) আসনে ফলাফল বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি। এ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এদের মধ্যে ৭১ জন জামানত খুইয়েছেন। অর্থাৎ প্রার্থীদের ৬৭ শতাংশ জামানত হারিয়েছেন।

চট্টগ্রাম সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন মতে, প্রদত্ত ভোটের (কাস্টিং ভোট) ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকার জামানত ফেরত পাবেন না তারা।
জানা গেছে,

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আলোচিত প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ জামানত হারিয়েছেন। তিনি ছিলেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের চট্টগ্রামের একক প্রার্থী। তবে ওই আসনে জামায়াত প্রার্থী ডা. আবু নাছেরও মাঠে ছিলেন। জোটের এই দুই প্রার্থীকে ঘিরে ছিল নানা টানাপোড়েন। শেষতক জোটের দুই প্রার্থীই মাঠে ছিলেন।শুধু জোবাইরুল আরিফ নন, এ জোটের প্রার্থীদের মধ্যে পটিয়া আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম ও এলডিপির এম এয়াকুব আলীও জামানত হারিয়েছেন। সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ জামানত হারিয়েছেন গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া চট্টগ্রামের ১৫টি আসনের প্রার্থীদের ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আলোচিত প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ জামানত হারিয়েছেন। তিনি ছিলেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের চট্টগ্রামের একক প্রার্থী। তবে ওই আসনে জামায়াত প্রার্থী ডা. আবু নাছেরও মাঠে ছিলেন। জোটের এই দুই প্রার্থীকে ঘিরে ছিল নানা টানাপোড়েন। শেষতক জোটের দুই প্রার্থীই মাঠে ছিলেন।শুধু জোবাইরুল আরিফ নন, এ জোটের প্রার্থীদের মধ্যে পটিয়া আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম ও এলডিপির এম এয়াকুব আলীও জামানত হারিয়েছেন। সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ জামানত হারিয়েছেন গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া চট্টগ্রামের ১৫টি আসনের প্রার্থীদের ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া যায়। জামানত হারালেন যারা:
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) সংসদীয় আসনে ভোট পড়েছে দুই লাখ ২৪ হাজার ১২০ ভোট। বিধিমতে, জামানত রক্ষা করার জন্য প্রার্থীকে ২৮ হাজার ভোট পেতে হবে। সেই হিসাবে এই আসনের ৫ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, জেএসডির এ কে এম আবু ইউছুপ, ইসলামী আন্দোলনের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিখার বুলবুল চৌধুরী, জাপার সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন। আর জামানত রক্ষা করেছেন বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও জামায়াতের মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে পড়েছে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১৩ ভোট। ৭ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির সরোয়ার আলমগীর ও জামায়াতের নুরুল আমিন ছাড়া জামানত হারিয়েছেন ৫ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ কবির, জিন্নাত আকতার, জনতার দলের মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলী, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ জুলফিকার আলী মান্নান, গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান ও সুপ্রিম পার্টির শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ জামানত হারিয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে পড়েছে এক লাখ ২০ হাজার ৯৫০ ভোট। চার প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা ও বিজিত প্রার্থী জামায়াতের মুহাম্মদ আলা উদ্দিন ছাড়া অন্য দুই প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। ইসলাম আন্দোলনের আমজাদ হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা জামানত হারিয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও চসিক আংশিক) আসনে পড়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার ৬১৬ ভোট। ৬ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও খেলাফত মজলিমের মো. নাছির উদ্দিন ছাড়া চার প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, ইসলামী আন্দোলনের মতিউল্লাহ নূরী, ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদ, লেবার পার্টির মো. আলা উদ্দিন।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে পড়েছে এক লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ ভোট। চার প্রার্থীর মধ্যে শুধু জামানত হারিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দিন তালুকদার। বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ছাড়া জামানত রক্ষা করেছেন জামায়াতের মো. শাহাজাহান মঞ্জু ও ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াস নূরী।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে পড়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৭৬ ভোট। আট প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন জামানত খুইয়েছেন। তারা হলেন, ইসলামী আন্দোলনের আবদুল্লাহ আল হারুন, কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরণ বড়ুয়া, এবি পার্টির মো. আবদুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দিন, জাপার মো. মেহেদী রাসেদ। জামানত রক্ষা করেছেন বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী, বিজিত প্রার্থী জামায়াতের ডা. এ টি এম রেজাউল করিম ও ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাসান।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ বায়েজিদ আংশিক) আসনে পড়েছে দুই লাখ ৬০ হাজার ৯৫৮ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতের ডা. মো. আবু নাছের ও ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়্যদ মুহাম্মদ হাসান ছাড়া অন্য তিন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ এমদাদুল হক, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল আলম।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে পড়েছে এক লাখ ৭৪ হাজার ৯৪৪ ভোট। পরাজিত প্রার্থী জামায়াতের ডা. এ কে এম ফজলুল হক ছাড়া আট প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের আবদুস শুক্কুর, ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ নঈদ উদ্দিন, নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদার, সমাজতান্ত্রিক দলের মো. শফি উদ্দিন কবির, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী ও গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারূপ।

চট্টগ্রাম-১০ (খুলশী-পাহাড়তলী- হালিশহর) আসনে পড়েছে দুই লাখ ১৪ হাজার ১৫৪ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির সাঈদ আল নোমান ও জামায়াতের সামশুজ্জামান হেলালী ছাড়া ৭ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) আসমা আকতার, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. লিয়াকত আলী, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের সাবিনা খাতুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আরমান আলী, জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরী ও লেবার পার্টির মো. ওসমান গণি।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা-ডবলমুরিং) আসনে পড়েছে দুই লাখ ২ হাজার ৫৩৬ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিজিত প্রার্থী জামায়াতের শফিউল আলম ছাড়া অন্য নয় প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, জাতীয় পার্টির আবু তাহের, সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) দীপা মজুমদার, গণফোরামের উজ্জ্বল ভৌমিক, ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ আবু তাহের, সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. নিজামুল হক আল কাদেরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. আজিজ মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের মো. নুর উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে পড়েছে এক লাখ ৯৪ হাজার ৪৯৩ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির এনামুল হক ও বিজিত প্রাথী ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু ছাড়া অন্যরা জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে জামায়াতের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম জামানত হারিয়েছেন। অন্যরা হলেন, ইসলামী আন্দোলনের এসএম বেলাল নূর, জাতীয় পার্টির ফরিদ আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন, এলডিপির এম এয়াকুব আলী।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে পড়েছে দুই লাখ ২১ হাজার ৩৫ ভোট। বিজয়ী বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম এবং জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান, ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান জামানত রক্ষা করেছেন। অন্য চার প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) মোহাম্মদ এমরান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মু. রেজাউল মোস্তফা, জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী, গণধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে পড়েছে এক লাখ ৮৬ হাজার ২৯০ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী জসীম উদ্দিন আহমেদ ও এলডিপির ওমর ফারুক ছাড়া অন্য ছয় প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, ইসলামী ফ্রন্টের মৌ. মো. সোলাইমান, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ বাদশা মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, স্বতন্ত্র শফিকুল ইসলাম রাহী, মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের এইচএম ইলিয়াছ।

চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিজয়ী তিন প্রার্থীদের মধ্যে বিজয়ী জামায়াত ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী, বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের শরীফুল আলম চৌধুরী জামানত হারিয়েছেন।

আলোচিত খবর

নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে চীনের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ভারত-পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিতে যাচ্ছে নতুন সরকার।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ