আজঃ রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরিষা ক্ষেতে ব্যস্ত মৌচাষিরা, কোটি টাকার মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা।

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষা ক্ষেত থেকে বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। শীত মৌসুমের শুরু থেকেই উপজেলার বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেতে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে হাজার হাজার মৌমাছির বাক্স। চলতি মৌসুমে এ উপজেলা থেকে প্রায় কোটি টাকার মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মৌচাষিরা।


মৌচাষিরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ডিসেম্বর মাস থেকে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। যশোর, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, নাটোর সহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌচাষিরা বিখ্যাত চলনবিল অঞ্চলের পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে দিন-রাত মধু সংগ্রহ করছেন। প্রতি বছর ভাঙ্গুড়া উপজেলা থেকে প্রায় কোটি টাকার মধু উৎপাদন হয়ে থাকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উপজেলার ছয় টি ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলে দিগন্ত জোড়া সরিষা ক্ষেত হলুদ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। এসব মাঠে সারিবদ্ধভাবে বসানো মৌমাছির বাক্স থেকে লাখ লাখ মৌমাছি সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছে।


প্রতিটি মৌমাছির বাক্সে প্রায় এক লাখ কর্মী মৌমাছি ও একটি রানী মৌমাছি থাকে। আট থেকে দশ দিন পরপর প্রতিটি বাক্স থেকে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। গত মৌসুমে উপজেলা থেকে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন হয়েছিল, যা এ বছর আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভাঙ্গুড়ায় মধু সংগ্রহে করতে আসা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার মৌচাষি জয়নাল আবেদীন জানান, ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করা হয়। বছরের ছয় মাস মধু সংগ্রহের পাশাপাশি বাকি ছয় মাস মৌমাছি পালন করা হয়। তিনি দুইজন কর্মচারী ও ১৫০টি মৌমাছির বাক্স নিয়ে উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে মধু সংগ্রহ করছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি মধু ৪০০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরেক মৌচাষি নাটোরের কামাল হোসেন বলেন, ভাঙ্গুড়ার সরিষা ক্ষেত বড় হওয়ায় এখানে মধু উৎপাদন ভালো হয়। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে স্বল্প খরচে বেশি মধু সংগ্রহ করা সম্ভব। তাই প্রতি বছরই আমরা এখানে এসে মৌমাছির মধু সংগ্রহ করি।

স্থানীয় মধু ক্রেতা আব্দুল হালিম বলেন, ভাঙ্গুড়ার সরিষা ফুলের মধু খুবই খাঁটি ও মান-সম্মত। তাই আমরা সরাসরি মাঠ থেকেই মধু কিনে থাকি।

আরেক ক্রেতা সাখাওয়াত হোসেন জানান, এই মধুর স্বাদ ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় প্রতি বছর এখান থেকেই আমরা মধু সংগ্রহ করি। বাজারের তুলনায় এখানে খাঁটি মধু পাওয়া যায়।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করেছে স্থানীয় কৃষকরা। মধু সংগ্রহে মৌচাষিদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মৌচাষে আগ্রহ বাড়ানো গেলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং তারা সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চরফ্যাশনে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় রসুলপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম ভুট্টোকে (৪৫) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১০টার দিকে উপজেলার নজরুলনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলেরহাট সড়কের মাথায় এ ঘটনা ঘটে।

মধুুমাস ঋতুরাজ বসন্ত মাসে প্রকৃতি তার নিজেকে সাঁজাতে ব্যস্ত থাকে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শীতের মাসী যখন বিদায় নিতে ব্যস্ত ঠিক তখনই মধুমাস ঋতুরাজ তার ফাল্গুনী হওয়ার শুভেচ্ছার আগমনী নিয়ে হাজির বসন্ত।
প্রতি বছরের ন্যায় এই ফাল্গুন মাসে প্রকৃতি তার নিজেকে সাঁজাতে ব্যস্ত থাকে।

সারা বাংলাদেশের ন্যায় পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়ায় মধু মাস ঋতুরাজ বসন্ত আসার আগাম বার্তা নিয়ে এসেছে আম গাছে মুকুল,সজ্জিনা গাছে ফুল। বর্তমানে পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতে আমের মুকুলের গন্ধে মৌমাছি,মৌ মৌ করে উড়ে উড়ে ফুলের মধু সংগ্রহ করছে।
প্রকৃতির দিকে তাকালে অনেক রকম ফুল চোখে পড়ছে ও দৃষ্টিনন্দন পাগল করা মুকুল এর ঘ্রাণে মন ভরে উঠছে।

প্রকৃতি তার ব্যস্ত সময় পার করছে।প্রকৃতিতে বসন্তের আপন মহিমায় ফোটা শুরু করেছে আমের মুকুল, ফুটেছে সজ্জিনা ফুল,প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই চোখ জুড়ানো আমের মুকুল,সজ্জিনা ফুল ফুটেছে।
বিভিন্ন বাড়ীর ছাদবাগানের আমের গাছগুলো ভুল করেনি প্রকৃতি শোভায় মুকুল ছড়াতে। পাবনা জেলার প্রতিটি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে হরেক রকমের সুস্বাদু আমের চাষ। বাংলাদেশ সহ বাঙালির হৃদয়ের স্পন্দনে মিশে থাকা
বিশ্ব কবি,কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের একটি লাইন..
“ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রানে পাগল করে..
মরি হায়, হায় রে-
“ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রানে পাগল করে”..

পল্লীকবি জসীম উদ্দিন তার মামার বাড়ি কবিতার লিখেছেন..
আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাই..
ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ি যাই।
ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ..
পাকা আমের মধুর রসে রঙিন করি মুখ…।
মধুমাসের স্বাদ নিতে বাকি আর মাত্র কয়েক মাস।
তবে মুকুলের ঘ্রাণ বইতে শুরু করেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মানুষ। গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল ও সজ্জিনার ফুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ ফুলের গন্ধ।
যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল। ভাঙ্গুড়ার বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা মিলছে আমের মুকুল ও সজ্জিনা ফুলের, গ্রামগুলোর মধ্যে খালি জায়গা, পুকুর পাড়, রাস্তার ধারে ও বাড়ির আঙ্গিনার গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে কেবলই আমের মুকুল ও সজ্জিনা ফুল।

আলোচিত খবর

নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে চীনের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ভারত-পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিতে যাচ্ছে নতুন সরকার।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ