আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরিষা ক্ষেতে ব্যস্ত মৌচাষিরা, কোটি টাকার মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা।

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষা ক্ষেত থেকে বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। শীত মৌসুমের শুরু থেকেই উপজেলার বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেতে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে হাজার হাজার মৌমাছির বাক্স। চলতি মৌসুমে এ উপজেলা থেকে প্রায় কোটি টাকার মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মৌচাষিরা।


মৌচাষিরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ডিসেম্বর মাস থেকে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। যশোর, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, নাটোর সহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌচাষিরা বিখ্যাত চলনবিল অঞ্চলের পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে দিন-রাত মধু সংগ্রহ করছেন। প্রতি বছর ভাঙ্গুড়া উপজেলা থেকে প্রায় কোটি টাকার মধু উৎপাদন হয়ে থাকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উপজেলার ছয় টি ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলে দিগন্ত জোড়া সরিষা ক্ষেত হলুদ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। এসব মাঠে সারিবদ্ধভাবে বসানো মৌমাছির বাক্স থেকে লাখ লাখ মৌমাছি সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছে।


প্রতিটি মৌমাছির বাক্সে প্রায় এক লাখ কর্মী মৌমাছি ও একটি রানী মৌমাছি থাকে। আট থেকে দশ দিন পরপর প্রতিটি বাক্স থেকে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। গত মৌসুমে উপজেলা থেকে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন হয়েছিল, যা এ বছর আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভাঙ্গুড়ায় মধু সংগ্রহে করতে আসা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার মৌচাষি জয়নাল আবেদীন জানান, ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করা হয়। বছরের ছয় মাস মধু সংগ্রহের পাশাপাশি বাকি ছয় মাস মৌমাছি পালন করা হয়। তিনি দুইজন কর্মচারী ও ১৫০টি মৌমাছির বাক্স নিয়ে উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে মধু সংগ্রহ করছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি মধু ৪০০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরেক মৌচাষি নাটোরের কামাল হোসেন বলেন, ভাঙ্গুড়ার সরিষা ক্ষেত বড় হওয়ায় এখানে মধু উৎপাদন ভালো হয়। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে স্বল্প খরচে বেশি মধু সংগ্রহ করা সম্ভব। তাই প্রতি বছরই আমরা এখানে এসে মৌমাছির মধু সংগ্রহ করি।

স্থানীয় মধু ক্রেতা আব্দুল হালিম বলেন, ভাঙ্গুড়ার সরিষা ফুলের মধু খুবই খাঁটি ও মান-সম্মত। তাই আমরা সরাসরি মাঠ থেকেই মধু কিনে থাকি।

আরেক ক্রেতা সাখাওয়াত হোসেন জানান, এই মধুর স্বাদ ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় প্রতি বছর এখান থেকেই আমরা মধু সংগ্রহ করি। বাজারের তুলনায় এখানে খাঁটি মধু পাওয়া যায়।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করেছে স্থানীয় কৃষকরা। মধু সংগ্রহে মৌচাষিদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মৌচাষে আগ্রহ বাড়ানো গেলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং তারা সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নাড়ির টানে বন্দর নগরী ছাড়ছে মানুষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

:পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে গন্তব্যে ছুড়ছে মানুষ। পথে পথে ভোগান্তি এড়াতে মানুষ আগ থেকে বন্দর নগরী ছাড়তে শুরু করেছে। শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম রেল ষ্টেশন, বাস টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এর আগে শুক্রবার থেকে তাদের এই ঈদ যাত্রা শুরু হয়।

চট্টগ্রাম মহানগরের এ কে খান মোড়, অলংকার ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাস ও ট্রেনে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন অনেকে। কেউ যাচ্ছেন কুমিল্লা, কেউ ঢাকা, কেউ সিলেট বা রাজশাহীর দিকে। যাত্রীর সংখ্যা এখনো খুব বেশি না হলেও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে বলে জানান পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সম্ভাব্য ঈদের তারিখ ধরা হচ্ছে আগামী ২১ মার্চ। ফলে এখনো কয়েক দিন সময় থাকলেও অনেকেই বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন।মূলত ঈদের আগমুহূর্তে বাড়তি যাত্রী চাপের ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আগেভাগে শহর ছাড়ছেন।

পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দিন দিন ঈদযাত্রা আরও জমে উঠবে। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি অফিসে ছুটি শুরু হলে নগর ছাড়ার মানুষের ঢল নামতে পারে। তখন এ কে খান, অলংকার, কদমতলী বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশন এলাকায় যাত্রীদের বড় ভিড় দেখা যাবে।

এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের পূর্বাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ট্রেনযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে নানামুখী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ বছর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে ১০৫টি অতিরিক্ত কোচ প্রস্তুত করা হয়েছে। বাড়তি যাত্রী পরিবহনে এসব কোচ বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিশেষ ট্রেন, বাড়তি ইঞ্জিন যুক্ত করাসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, যাত্রীর চাপ বাড়ায় পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনে ১০৫টি অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হচ্ছে। চলমান ৭৫টি ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে আরও ১০টি ইঞ্জিন। এ ছাড়া চালানো হবে আটটি বিশেষ ট্রেন। এরমধ্যে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ ও ২ চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর আসা-যাওয়া করবে। এর যাত্রী ধারণক্ষমতা ৬৬৮ জন। এছাড়া ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে স্টেশন এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে এ কে খান এলাকায় ঢাকাগামী যাত্রী আবুল কালামের সঙ্গে কথা হলো। তিনি বলেন, তিনি নগরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এবার একটু আগেভাগেই বাড়ি যাচ্ছেন। কারণ, বাড়িতে একজন অসুস্থ আত্মীয় রয়েছেন।

ঈদের সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে চান বলেই আগে বেরিয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে নোয়াখালীগামী একটি বাসে উঠেছিলেন সায়েরা আক্তার। দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি গ্রামে ফিরছেন। সায়মা বলেন, পরে গেলে খুব ভিড় থাকে। বাচ্চাদের নিয়ে যাতায়াত কষ্ট হয়। তাই আগেই চলে যাচ্ছি। তবে তাঁর স্বামী হায়দার আলী এখনই যেতে পারছেন না। তিনি জানান, তাঁর স্বামীর এখনো ছুটি হয়নি। ঈদের আগের দিন তিনি বাড়ি যাবেন।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এবারের ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের মাঝে প্রতিদিন পূর্বাঞ্চলের ১৬টি ট্রেনের ৮ হাজারের বেশি অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। গত ৩ মার্চ থেকে ট্রেনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছিল। ৯ মার্চ শেষ হয়েছে। অগ্রিম টিকিটের যাত্রীরা যেতে শুরু করেছেন।

ফের অনিশ্চয়তায় সিসিসিআই নির্বাচন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠন চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) নির্বাচন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে উচ্চ আদালতের নির্দেশে নির্ধারিত ৪ এপ্রিলের নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেছে। তবে আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
তথ্যটি নিশ্চিত করে রিটকারী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বেলালের পক্ষে আইনজীবী আশফাকুর রহমান বলেন, আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত দিতে বলেছেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশ আমলে না নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

চেম্বার সূত্রে জানা যায়, ৩ মার্চ প্রায় পাঁচ মাস স্থগিত থাকার পর চট্টগ্রাম চেম্বারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের নতুন তফশিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তফশিল অনুযায়ী আগামী ৪ এপ্রিল নগরের আগ্রাবাদ এলাকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইনি মতামতের ভিত্তিতে সাধারণ ও সহযোগী গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে আদালতের নতুন আদেশে সেই নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেল।

এর আগে, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের আটটি সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল হাইকোর্টে রিট করেন এবং এফবিসিসিআইতেও অভিযোগ করেন।
রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ অক্টোবর হাইকোর্ট দুই শ্রেণিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে রুল জারি করেন এবং মন্ত্রণালয়ের ৪ সেপ্টেম্বরের চিঠির ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে আপিলের পর ৩০ অক্টোবর আদালত দুই সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেন।

পরবর্তীতে গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ছয়টি টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের ছয় প্রতিনিধিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধেও আপিল করেন রিটকারী মোহাম্মদ বেলাল। সেই আপিলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত এফবিসিসিআইয়ের ট্রাইব্যুনালে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন এবং মৌখিকভাবে বলেন, ৪ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৩ জন করে মোট ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এভাবে ২৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে একজন সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত হন।এবার টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ছয়জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে ছিলেন। তবে দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে নির্ধারিত সময়েও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং নতুন তফশিল ঘোষণার পরও তা আবার স্থগিত হয়ে গেছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ