আজঃ শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬

বিএনপি আমলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি : চসিক মেয়র।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচন নিয়ে আজও তেমন কোনো প্রশ্ন ওঠে না, কারণ ওই নির্বাচনগুলো ছিল স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। একইভাবে ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার নির্বাচন নিয়েও বড় কোনো বিতর্ক নেই। সে সময় সব পক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া সরাসরি দেখেছে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে।

মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর আয়োজনে, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) সহযোগিতায় চট্টগ্রাম জেলার সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ’কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ১৯৯৪ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী নির্বাচন করেছিলেন এবং সে নির্বাচন নিয়েও কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। জোট সরকারের আমলেও তিনি আবার মেয়র নির্বাচিত হন, তখনও নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয়নি। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিএনপি কখনও নির্বাচনে ‘নগ্ন হস্তক্ষেপ’করেনি।

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন ও রেজাউল করিম চৌধুরীর ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতি দেখা গেছে, মহিউদ্দিন চৌধুরীর সময় সে রকম চিত্র দেখা যায়নি। এতে নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মেয়র বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সাংবাদিকতা কেবল খবর পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। গণমাধ্যম নেতৃত্ব গঠন, রাজনৈতিক ইমেজ নির্মাণ এবং গণআন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে আশির ও নব্বইয়ের দশকে ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির বিকাশে গণমাধ্যম ছিল এক অনিবার্য শক্তি।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পিআইবির পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উপকমিটির উপদেষ্টা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলী পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম ও পিআইবি প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন। এছাড়া প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশকারীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মোস্তাফিজুর রহমান, মনিরুল ইসলাম পারভেজ, মাইনুদ্দীন, জীবন মুছা ও আজিজা হক পায়েল।

অনুষ্ঠানে এসময় উপস্থিত ছিলেন, সহসভাপতি ডেইজি মওদুদ, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রূপম চক্রবর্তী, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ, কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী এবং আরিচ আহমেদ শাহ।
প্রসঙ্গত, পিআইবির আয়োজনে দুদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ১০০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টায় একজনের কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ
আত্মসাতের চেষ্টায় একজনের কারাদণ্ড
ছবি-৩
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে স্বাক্ষর নকল ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার দায়ে নজরুল ইসলাম একজনকে ৯ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন একটি আদালত। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান খানের আদালত এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. নজরুল ইসলাম পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন ইউনিয়নের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে।রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের বিশেষ পিপি মোকাররম হোসাইন। তিনি বলেন, রায়ের সময় আসামি পলাতক ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম ও মো. শাহাজাহান ডবলমুরিং এলাকার মেসার্স নবী এন্ড সন্সের কর্মচারী ছিলেন। নজরুল ইসলাম ছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার। ২০০৭ সালের ৩ জুন দুপুর ২টার দিকে নগরীর সদরঘাট এলাকার স্ট্যান্ড রোডের জনতা ব্যাংকের শাখা থেকে তারা দুই কর্মচারী মিলে প্রতিষ্ঠানের মালিকের বড় ভাই মো. সেলিমের স্বাক্ষর জাল করে ৬টি চেক জনতা ব্যাংকে জমা দেয় টাকা উত্তোলনের জন্য। পরে ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা টাকা দিতে নিষেধ করেন। পরদিন অর্থাৎ ওই বছরের ৫ জুন চেকগুলোর মাধ্যমে টাকা প্রদান না করার জন্য ব্যাংক বরাবর লিখিত আবেদন করেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবু সাদাত মোহাম্মদ শামীম। পরে ওই বছরের ১৮ জুলাই তিনি এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ ২ নম্বর আসামির সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় শাহাজাহানকে চার্জশিট থেকে বাদ দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। ওই মামলায় আজ আসামি নজরুল ইসলামকে ৯ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সৌদি আরবের উপহার চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ৫০০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরবের উপহার
চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ৫০০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ
ছবি-১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: সৌদি আরব থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া খেজুর চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ৫০০ কার্টন বরাদ্দ দয়ো হয়েছে। এদিকে খেজুর বরাদ্দ নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার বক্তব্যের পর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার খেজুর বরাদ্দের তালিকা সামনে আসতে শুরু করে এবং কোথায় কত কার্টন খেজুর গেছে তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়। একই সঙ্গে বরাদ্দের পরিমাণ, বণ্টনের স্বচ্ছতা এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে এসব খেজুর পৌঁছাচ্ছে কি না, এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার জানান, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় মোট ৫০০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফটিকছড়িতে ৩৯ কার্টন, আনোয়ারায় ২৫ কার্টন, হাটহাজারীতে ৩৫ কার্টন, পটিয়ায় ৩৭ কার্টন এবং সীতাকুণ্ডে ২৫ কার্টন খেজুর দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সন্দ্বীপে ৩৭ কার্টন, মিরসরাইয়ে ৩৭ কার্টন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩৫ কার্টন, বোয়ালখালীতে ২৫ কার্টন, রাউজানে ৩৫ কার্টন এবং চন্দনাইশে ২৫ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী বাঁশখালীতে ৩৭ কার্টন, লোহাগাড়ায় ২৫ কার্টন, সাতকানিয়ায় ৩৭ কার্টন, কর্ণফুলীতে ১৫ কার্টন এবং চট্টগ্রাম মহানগরে ২৫ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সৌদি আরবের বাদশাহ প্রতিষ্ঠিত ‘কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার’ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ১২ হাজার ২৫০ কার্টন খেজুর দেশের বিভিন্ন জেলায় বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গত ৫ মার্চ সংশোধিত এক আদেশের মাধ্যমে এই বরাদ্দ চূড়ান্ত করে জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে পাঠিয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাত ও ইউনিয়নের সংখ্যা বিবেচনা করে এই খেজুর বণ্টন করা হয়েছে বলে সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ