আজঃ শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মববরতিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে নৌ উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে এসে শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। কয়েক’শ শ্রমিক-কর্মচারী বন্দর ভবনে প্রবেশের পথে উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করে। পরে বন্দর ভবনের ভেতরে উপদেষ্টা হেঁটে ঢোকার সময়ও তারা আশপাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। বৃহস্পতিবার অনির্দিষ্টকালের কর্মববরতি চলাকালে এমন চিত্র দেখা গেছে। সকাল পৌনে ১১টার দিকে উপদেষ্টার বন্দর ভবনে প্রবেশ নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে এ উত্তেজনা তৈরি হয়।


জানা গেছে, নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন সরাসরি ঢাকা থেকে সকাল সোয়া ১০টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। পৌনে ১১টার দিকে উপদেষ্টাকে বহনকারী গাড়ি বন্দর ভবনের অদূরে কাস্টমস মোড়ে পৌঁছায়। সামনে-পেছনে পুলিশের নিরাপত্তার গাড়ি ছিল। উপদেষ্টার পেছনের গাড়িতে ছিলেন বন্দর চেয়ারম্যান, যিনি বিমানবন্দর থেকে উপদেষ্টাকে নিয়ে বন্দর ভবনে আসছিলেন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা চট্টগ্রাম বন্দরে আসার খবর পেয়ে সকাল থেকেই আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শত, শত শ্রমিক-কর্মচারী চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের অদূরে ৪ নম্বর জেটিগেট থেকে কাস্টমস মোড়সহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেয়। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীরা সকাল থেকেই অন্যান্যদিনের চেয়ে বাড়তি কঠোর অবস্থানে ছিলেন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টার গাড়িবহর কাস্টমস মোড়ে পৌঁছানোর সাথে সাথেই আশপাশে থেকে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীরা বেরিয়ে আসেন। তারা স্লোগান দিতে দিতে গাড়িবহর আটকে দেন। এ সময় তাদের ডিপি ওয়ার্ল্ডের দালালেরা- হুঁশিয়ার সাবধান, গো ব্যাক অ্যাডভাইজার গো ব্যাক, মা মাটি মোহনা- বিদেশিদের দেব না- এমন নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়। অনেকে উপদেষ্টার গাড়ির সামনে গিয়ে ভুয়া ভুয়া, দালাল দালাল বলে স্লোগান দেন।

প্রায় ১৫ মিনিট আটকে থাকার পর পুলিশ চারপাশে নিরাপত্তা বেস্টনী তৈরি করে গাড়িগুলোকে বন্দর ভবনের ভেতরে নিয়ে যায়। গাড়ি মূলফটক দিয়ে বন্দর ভবনে প্রবেশের সাথে সাথেই নিরাপত্তারক্ষীরা সেটি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী স্লোগান দিতে দিতে ভেতরে ঢুকে পড়েন।

উপদেষ্টা সাখাওয়াত বন্দর ভবনের নিচে গাড়ি থেকে নেমে ভেতরে প্রবেশের সময় শ্রমিক-কর্মচারীরা স্লোগান দিতে থাকেন। তখন উপদেষ্টাকে পুলিশও বন্দরের নিরাপত্তারক্ষীদের পাহারায় দ্রুত বন্দর ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে লিফটে ওপরে উঠতে দেখা যায়। বন্দর ভবনে নৌপরিবহন উপদেষ্টা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, অচলাবস্থা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন বলে জানা গেছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে বৃহস্পতিবারও পুরোপুরি বন্ধ আছে বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম। বহির্নোঙ্গর থেকে বন্দরের জেটিতে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। জেটিতে আটকে আছে পণ্য খালাসের জন্য আসা জাহাজ।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব-আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ, আন্দোলন দমাতে হয়রানি, দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে গতকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়।এর ফলে বন্দরের তিনটি টার্মিনাল জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটিসহ সব জেটিতে অপারেশাল কার্যক্রম বন্ধ আছে। তিন টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

এর ফলে পণ্য খালাসের জন্য আসা জাহাজগুলো ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি। বন্দরে পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন প্রবেশ বন্ধ আছে। ইয়ার্ড থেকে কনটেইনার ও পণ্য খালাস হচ্ছে না। ১৯টি অফডক থেকে বন্দরে কনটেইনার পরিবহনও বন্ধ আছে।

গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ও রোববার দুইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি পালন করে বিএনপিপন্থী দুই সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ। তৃতীয়দিনে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’র ডাকে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হয়। তিনদিনই কর্মবিরতি চলাকালে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকাংশই কাজে যোগ দেননি। এর ফলে প্রায় সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয় চট্টগ্রাম বন্দরে।

এ অবস্থায় সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে ১৫ জনকে বদলির সুপারিশ করা হয়, যাদের মধ্যে আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা বিএনপিপন্থী দুই শ্রমিক নেতাও আছেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের সই করা আদেশে দাফতরিক প্রয়োজনে বদলিপূর্বক সংযুক্তি প্রদান করার কথা জানানো হয়। এর মধ্যে আটজনকে পায়রা বন্দরে এবং সাতজনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়।বদলি-হয়রানির প্রতিবাদে এবং এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার ২৪ ঘন্টার কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়। ওই কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদ লাগাতার কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি দোকানে ড্রেসিং, মানুষ ক্যান্সার জীবাণুর ঝুঁকিতে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় সদবাজার ও চন্দ্রা এলাকার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগ উঠেছে। একই পানিতে দীর্ঘসময় ধরে শত শত মুরগি ড্রেসিং করায় জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাজারের মুরগি পট্টিতে একাধিক দোকানে গ্যাসের চোলাই গরম পানি দিয়ে পানিতে মুরগি চুবাচ্ছেন। পাশে ময়লাযুক্ত ড্রেসিং মেশিন ও ঝাড়ু পড়ে আছে। মেঝে কাদা-পানিতে একাকার। মেঝেতে বসে মুরগির পালক ছাড়ানো হচ্ছে, খাঁচায় গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে জীবন্ত মুরগি, আরেকজন কর্মচারী ড্রামের পানিতে মুরগি ধুচ্ছেন। পুরো জায়গাটি নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে। এক ড্রামে ৩০০ মুরগি, পানি বদলানোর বালাই নেই।
সরেজমিনে সদর বাজারসহ মুরগি পট্টিতে গিয়ে দেখা যায় ১৫-২০টি দোকানে একই চিত্র। প্রতিটি দোকানের সামনে বড় ড্রামে পানি গরম করা হচ্ছে। সকাল ৭টায় গরম করা পানি দিয়েই সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০০-৩০০ মুরগি ড্রেসিং করা হয়। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে পানি কালো হয়ে যায়, ভেসে ওঠে রক্ত, পালক ও নাড়িভুঁড়ির অংশ। তীব্র দুর্গন্ধে টেকা দায়।

এক মুরগি ব্যবসায়ী বলেন, ঘন ঘন পানি বদলাইতে গেলে গ্যাস বেশি লাগে, সময়ও নষ্ট হয়। কাস্টমার দাঁড়াইয়া থাকে। সকালের পানিই সারাদিন চালাই। সবাই তো এমনে করে। বাজারে মুরগি কিনতে আসা স্কুল শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, চোখের সামনে দেখতেছি কালো পানিতে মুরগি চুবাইতেছে। গন্ধে বমি আসে। বাসায় নিয়া আবার গরম পানি, লবণ, ভিনেগার দিয়া ধুই। তবুও ভয় লাগে। বাচ্চারা খায়। এইভাবে রোগজীবাণু ছড়াইতেছে।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার বলেন, একই পানিতে শত শত মুরগি ড্রেসিং করলে সালমোনেলা, ই-কোলাই, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর ও কলেরার জীবাণু সহজেই ছড়ায়। একটা অসুস্থ মুরগির জীবাণু বাকি সব মুরগিতে যায়। এই মাংস খেলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ফুড পয়জনিং, এমনকি কিডনি বিকলও হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, এই বিষয়টি খুব স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা ইউএনও মহোদয়ের অনুমতিক্রমে এসিল্যান্ড মহোদয়কে সাথে নিয়ে দ্রুত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যেসব দোকানে এই ধরনের কার্যক্রম করে তাদের তথ্য আপনারা দিয়ে সহযোগিতা করবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, “জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। প্রানী সম্পদ অফিসার কে সাথে নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও দোকান সিলগালা করা হবে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চললেও কার্যকর নজরদারির অভাবে ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত তদারকি জোরদার করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মর্যাদা রাখতে হবে: আবু সুফিয়ান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পদ পদবী নয়, দলের আদর্শ ধারণ করে জনগণের সেবাই প্রকৃত রাজনীতি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, পদ পদবী বড় বিষয় নয়, দলের আদর্শ ধারণ করে জনগণের পাশে থাকাই প্রকৃত রাজনীতি। আজকে এখানে কারো পদবী আছে, কারো নেই, এটা বড় কথা নয়। আমরা শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শে রাজনীতি করি। এই দলকে ভালোবেসেই আমরা রাজপথে থেকেছি। হতাশ না হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।তিনি শুক্রবার (৮ মে) বিকালে নগরীর লাভ লেইনস্থ স্বরনিকা কমিউনিটি সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম ৯ আসন বিএনপির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম ৯ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটনের পরিচালনায় এতে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ্ব শামসুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম, জাহাঙ্গীর আলম, এম এ সবুর।

ডা. শাহাদাত হোসেন নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, মনের মধ্যে হতাশা রাখবেন না। হতাশা মানুষকে দুর্বল করে দেয়। দল ক্ষমতায় এসেছে মাত্র দুই মাস হয়েছে। ধৈর্য ধরতে হবে।তিনি বলেন, অনেকে সুবিধার জন্য একসময় আওয়ামী লীগ, আবার বিএনপি কিংবা অন্য দলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসব সুবিধাবাদীদের থেকে দূরে থাকতে হবে। নৈতিকতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।

চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে মেয়র বলেন, যারা চাঁদাবাজি করবে, সন্ত্রাস করবে কিংবা দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করবে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতন, জেল জুলুম সহ্য করেও দল ত্যাগ করেননি। সেই ত্যাগের রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, নগরে চলমান খাল নালা সংস্কার ও পরিষ্কার কার্যক্রমের কারণে সাময়িক ভোগান্তি হচ্ছে। তবে এই কাজের সুফল আগামী ছয় মাসের মধ্যে নগরবাসী পাবে। ইনশাআল্লাহ, এবার চট্টগ্রাম শহরের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ জলাবদ্ধতা কমে যাবে।তিনি আরও বলেন, গত বছর মানুষ জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রামের আংশিক সুফল দেখেছে। এবার আরও বড় পরিবর্তন আসবে। এজন্য সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রতিটি ইউনিটকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে টিম গঠন করে কোথাও ময়লা আবর্জনা পড়ে আছে কিনা তা মনিটরিং করতে হবে। পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধেও সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না। তবে দলের নাম ব্যবহার করে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন অপকর্মে জড়ানোর চেষ্টা করছে। এসব প্রতিহত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করা এখন আমাদের দায়িত্ব। জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মর্যাদা রাখতে হবে।

আবু সুফিয়ান বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি দলের নাম ব্যবহার করে প্রবাসীদের জমিতে ঘর নির্মাণের সময় জোরপূর্বক ইট বালু সরবরাহের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারেক রহমান যতদিন দলের দায়িত্বে থাকবেন, ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশাজনক স্ট্যাটাস না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও ঐক্য বজায় রাখার পরামর্শ দেন।

বক্তব্যে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মসজিদ, মন্দির ও কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোরবানির আগে ওয়ার্ডভিত্তিক অসচ্ছল সাধারণ মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে। এই সহায়তা স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণ করতে হবে। দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও মানুষের কল্যাণে সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

এতে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম সাইফুল আলম, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মোবিন, আহবায়ক কমিটির সদস্য এম এ হান্নান, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, মো. মহসিন, খোরশেদুল আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, একে খান, মাহবুব রানা, ইসমাইল বালি, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মান্নান, শাহেদ বক্স, ইয়াসিন চৌধুরী আসু, শাহ আলম, হাজী মোহাম্মদ বেলাল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ তৈয়ব, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মন্জুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, বাকলিয়া থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আই চৌধুরী মামুন, কেন্দ্রীয় মহিলাদলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী মর্তুজা খান, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব ধর তমাল, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ আনাস সহ ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিববৃন্দ।

আলোচিত খবর

দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো ইস্টার্ন রিফাইনারি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। শুক্রবার সকাল ৮ থেকে চট্টগ্রামের এই শোধনাগারটিতে পুনরায় পরিশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরীফ হাসনাত বলেন, কুতুবদিয়ায় অবস্থানরত ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। এর পরপরই চালু করা হয় শোধনাগারটি।ইআরএল সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছায়নি। ফলে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে বুধবার দুপুরে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছায়। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি বাংলাদেশে আসে। ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়তে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকারে তেল খালাস করে পতেঙ্গার ইআরএলে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়াকে লাইটারিং বলা হয়।এদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা বিপিসির এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের বাকি জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলেরও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ