এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাচ্ছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। রোববার সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর।নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেনের আশ্বাস বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় এ ধর্শঘট আহবান করেছেন বলে জানান পরিষদের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুণ, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, মার্চেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ক ইয়াসিন রেজা রাজুসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে নৌ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে পরিষদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। দাবিগুলো হচ্ছে- নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব-আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা, বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে আগের পদে ফিরিয়ে নেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা-হয়রানি না করা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দাবি, বৈঠকে নৌ উপদেষ্টা বদলি ও মামলা সংক্রান্ত দাবি নৌ মন্ত্রণালয় থেকে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। বাকি দুটি দাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করবেন বলে জানান।পরিষদের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, উপদেষ্টার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমরা কর্মবিরতি ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু আমাদের দাবির বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ এখনও পর্যন্ত নেয়নি। এ জন্য আমরা আবারও আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে আগের কর্মসূচিতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছি।বৃহস্পতিবার শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকের পর তাদের দাবির বিষয়ে নৌ উপদেষ্টা বলেছিলেন, দাবিগুলো তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। তবে চুক্তি ঠেকানো যাবে না জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দর সচল করার কাজে কেউ বাধা দিলে সরকার হার্ডলাইনে যাবে।

বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলেছিলেন, নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা পরদিন (শুক্রবার) সকাল থেকে কর্মবিরতি ৪৮ ঘণ্টা স্থগিত করেছেন। তবে এর মধ্যে সরকার দাবি মেনে নেওয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা না দিলে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হবে।ওই বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার রাতেই আন্দোলনকারী ১৫ জন সামনের কাতারের শ্রমিক-কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদের তথ্য যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।
গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে তিনদিন কর্মবিরতির পর ৩ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি শুরু করেন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। এ অচলাবস্থার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে এসে শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা। আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীরা বন্দর ভবনে প্রবেশের পথে উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন। পরে বন্দর ভবনের ভেতরে উপদেষ্টা হেঁটে ঢোকার সময়ও তারা আশপাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
এ সময় তাদের ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের দালালেরা- হুঁশিয়ার সাবধান, গো ব্যাক অ্যাডভাইজার গো ব্যাক, মা মাটি মোহনা- বিদেশিদের দেব না’- এমন নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়। অনেকে উপদেষ্টার গাড়ির সামনে গিয়ে ‘ভূয়া ভূয়া, দালাল দালাল’ বলে স্লোগান দেন।কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে প্রবেশ করে নৌ উপদেষ্টা বন্দরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারী প্রতিনিধি দল এবং বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।









