আজঃ বুধবার ২৫ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাচ্ছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। রোববার সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর।নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেনের আশ্বাস বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় এ ধর্শঘট আহবান করেছেন বলে জানান পরিষদের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুণ, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, মার্চেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ক ইয়াসিন রেজা রাজুসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে নৌ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে পরিষদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। দাবিগুলো হচ্ছে- নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব-আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা, বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে আগের পদে ফিরিয়ে নেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা-হয়রানি না করা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দাবি, বৈঠকে নৌ উপদেষ্টা বদলি ও মামলা সংক্রান্ত দাবি নৌ মন্ত্রণালয় থেকে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। বাকি দুটি দাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করবেন বলে জানান।পরিষদের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, উপদেষ্টার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমরা কর্মবিরতি ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু আমাদের দাবির বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ এখনও পর্যন্ত নেয়নি। এ জন্য আমরা আবারও আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে আগের কর্মসূচিতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছি।বৃহস্পতিবার শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকের পর তাদের দাবির বিষয়ে নৌ উপদেষ্টা বলেছিলেন, দাবিগুলো তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। তবে চুক্তি ঠেকানো যাবে না জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দর সচল করার কাজে কেউ বাধা দিলে সরকার হার্ডলাইনে যাবে।

বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলেছিলেন, নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা পরদিন (শুক্রবার) সকাল থেকে কর্মবিরতি ৪৮ ঘণ্টা স্থগিত করেছেন। তবে এর মধ্যে সরকার দাবি মেনে নেওয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা না দিলে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হবে।ওই বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার রাতেই আন্দোলনকারী ১৫ জন সামনের কাতারের শ্রমিক-কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদের তথ্য যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে তিনদিন কর্মবিরতির পর ৩ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি শুরু করেন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। এ অচলাবস্থার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে এসে শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা। আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীরা বন্দর ভবনে প্রবেশের পথে উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন। পরে বন্দর ভবনের ভেতরে উপদেষ্টা হেঁটে ঢোকার সময়ও তারা আশপাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় তাদের ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের দালালেরা- হুঁশিয়ার সাবধান, গো ব্যাক অ্যাডভাইজার গো ব্যাক, মা মাটি মোহনা- বিদেশিদের দেব না’- এমন নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়। অনেকে উপদেষ্টার গাড়ির সামনে গিয়ে ‘ভূয়া ভূয়া, দালাল দালাল’ বলে স্লোগান দেন।কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে প্রবেশ করে নৌ উপদেষ্টা বন্দরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারী প্রতিনিধি দল এবং বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রাণীহাটি ইউনিয়নের কুথালিপাড়া গ্রামে সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি বসতবাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। পরে দুপুর ১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠক চলাকালে রানিহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সমর্থক ও স্থানীয় সাবেক মেম্বার চান্দুর লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এ সময় উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে অর্ধশতাধিক ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোজাফফর নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মসজিদ-ঈদগাহ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ, আহত -৪।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের কলকতির ঝবঝবিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন-মোঃ কামিল ইসলাম (৩০), মোঃ হাসমত আলী (৩৬), মোঃ বাকি বিল্লাহ এবং মোঃ আব্দুল হাকিম (৩৫)। আহতরা সকলেই জামায়াতের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পূর্বের কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও সেটি বহাল ছিল। নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে পূর্বের কমিটির সভাপতি পুনরায় একই পদে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এতে অন্য পক্ষ আপত্তি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এদিকে এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মসজিদ, কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।

সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ এস এম আরাফাত ফয়সাল জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের আঘাত গুরুতর নয় এবং চিকিৎসা নিলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

খবর পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মুস্তাফিজুর রহমান পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ