দেশে এখন ভোট উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে : আমির খসরু

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশে এখন ভোট উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ৪২টি দল মিলে ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে তাঁরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে যারা সংহতি প্রকাশ করবে, তাদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয়ভাবে নেওয়া হবে। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরের মেহেদিবাগের বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বিএনপি যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে ঐকমত্যের সরকার গঠনের কথা ভাববে বলে জানান। আমীর খসরু বলেন, দেশে এখন ভোট উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর নতুন প্রজন্ম ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। তিনি নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম-১১ আসনে ১১টি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়নে বন্দরের কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বন্দরের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম, ডেলিভারি টাইম ও পরিচালন দক্ষতা বিবেচনায় নেন। এসব সূচকে উন্নতি এনে চট্টগ্রামকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করা হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চট্টগ্রামকে ‘লজিস্টিক্যাল হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ভোটের দিন শঙ্কা প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই। নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বানও জানান তিনি।

ঐকমত্যের সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দর্শনগত মিল ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচিতে একমত হওয়া প্রয়োজন। ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হতে পারে।হ্যাঁ-না ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। দেশের মানুষ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়।

শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গ নিয়ে নির্বাচনী সময়ে আলোচনা না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন মূলত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপনের বিষয়। অতীতের মতো এবারও জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ তাদের প্রত্যাখ্রান করবে এবং ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ তাদের জবাব দেবে।

ভোট কারচুপির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পত্র পত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে নানা বিষয় উঠে আসছে। তারা ব্যালট ছাপাচ্ছে, বোরকা বানাচ্ছে, এনআইডি কার্ড নিয়ে যাচ্ছে, বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য মোবাইল নাম্বার নিচ্ছে। এসব করে তারা যে কিছু করতে পারবে না, কারণ জনগণ এসবে বিভ্রান্ত হবে না।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চব্বিশের চেতনা থাকলে হাসিনা আসতে পারবেন না : প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখার আহ্বান জানালেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।

চব্বিশের আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বললেন, তখন আমাদের ছাত্র জনতা সবার মধ্যে আন্দোলনের যে উদ্যম ছিল আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করেও সেটা দমাতে পারেনি। অনেকে প্রত্যক্ষভাবে জুলাই অভ্যুত্থানে ছিলেন না। কিন্তু আমাদের নানাভাবে খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে সহযোগিতা দিয়েছেন। নিউমার্কেট মোড় দখলে নিতে গিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে যারা আহত হয়েছেন, তামাকমুণ্ডি লেইনের ব্যবসায়ীরা তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।
তিনি জানান, এই যে আন্দোলনের নানাভাবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, ঐক্যবদ্ধ থাকা এটাই জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট। এই স্পিরিট আমাদের ধরে রাখতে হবে। তাহলে শেখ হাসিনা জীবনেও আর বাংলাদেশে আসতে পারবে না।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, কিছু মতানৈক্য দেখতে পাচ্ছি। এটা স্বাভাবিক। পথ চলতে গেলে থাকবেই। সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করুন। কিন্তু দেশের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে আমরা সবাই যেন জুলাই-আগস্টের গণভুত্থানের মতো কাঁধে কাধ মিলিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে পারি। বিনা বিচারে দেশবিরোধী শক্তি যেন আবার রাজনীতি করার দুঃস্বপ্ন না দেখে, সেই দুঃসাহস যেন তাদের না হয় সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
গত বছর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যে জুলাই জাতীয় সনদ ঘোষণা হয়েছে, সেটার আলোকে বিএনপি সরকার সব সংস্কার বাস্তবায়ন করবে বলেও আশ্বাস দেন মীর হেলাল।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, এরশাদ উল্লাহ ও সাঈদ আল নোমান, সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু। সকালে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন প্রাঙ্গনে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, নানা সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ।

পাঁচ হাজার মানুষ পেল এনসিপির ‘চিকেন বিরিয়ানি’ চট্টগ্রাম নগরের লালদিঘী মাঠে গণভোজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরের লালদিঘী মাঠে গণভোজ কর্মসূচি হয়েছে।‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ দিবসে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রামে আয়োজন করেছে এই গণভোজ কর্মসূচির। এনসিপি নেতারা জানালেন, এতে পাঁচ হাজার মানুষকে ‘চিকেন বিরিয়ানি’ রান্না করে খাওয়ানো হয়েছে। বুধবার দুপুরে মাঠজুড়ে সামিয়ানা টানিয়ে চেয়ার-টেবিল পেতে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়।

নগরের বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ভিক্ষুক, ভাসমান লোকজন, আন্দোলনকারী ও আহতরাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা গণভোজে অংশ নেন। দুপুর ১২টায় দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব।

নগর এনসিপির দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় বললেন, পাঁচ হাজার মানুষের জন্য গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির পক্ষ থেকে এ আয়োজন। সবার জন্য চিকেন বিরিয়ানি। গণভোজ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ আমাদের গণভোজে শরিক হয়েছেন। এনসিপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরির জন্য আনন্দমুখর এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানালেন রিদুয়ান হৃদয়।

পুরো আয়োজনে কত খরচ হয়েছে সেটা এখনও হিসাব করা হয়নি বলে জানালেন রিদুয়ান হৃদয়। তবে নগর এনসিপির আরেক নেতা বলছিলেন, গণভোজের জন্য সাত লাখ টাকা বাজেট করা হয়। মহানগর এনসিপি খরচের পুরো টাকা তাদের দলীয় তহবিল থেকে বহন করছে বলে জানালেন রিদুয়ান হৃদয়।

আলোচিত খবর

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন, যোগ দেবেন ৫ কর্মসূচিতে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার চট্টগ্রাম আসছেন তারেক রহমান। বন্দরনগরীর বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাংগঠনিক মতবিনিময় করারও সুযোগ পাচ্ছেন। এ নিয়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস উদ্দিপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। আগামীকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা দিতে চট্টগ্রামে আসবেন। এ সফরে দলের নেতাকর্মীদের বাইরে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তিনি একটি বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বললেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী একদিনের সফরে চট্টগ্রামে আসছেন। সফরসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকালে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পৌঁছাবেন। বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

দুপুর ১টায় ফটিকছড়ি উপজেলায় আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর হাটহাজারী উপজেলার আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমীর শাহ আহমদ শফির কবর জেয়ারত করবেন।
এরপর হাটহাজারী উপজেলায় যাবেন তারেক রহমান।

হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে দেবেন ১০ হাজার টাকা করে।
হাটহাজারী থেকে নগরীতে ফিরে প্রধানমন্ত্রী উঠবেন পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে। সন্ধ্যায় হোটেলের হলরুমেই হবে বিএনপির সাংগঠনিক সভা। রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন তিনি।


চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জানালেন, ‘সভায় নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সবাই থাকবেন। থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির প্রতিটি থেকে তিন থেকে পাঁচজন করে নেতা উপস্থিত হবেন। আহ্বায়ক কমিটিতে নেই এমন কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও চট্টগ্রামের সকল সংসদ সদস্য যোগ দেবেন এতে।’
প্রত্যেক সহযোগী সংগঠনের নগর কমিটি থেকে দুইজন করে নেতাকে সভায় যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির নেতারা সভায় অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ