আজঃ মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

ইজিপ্টে ইকামাহীনদের বিরুদ্ধে অভিযান, অনিশ্চয়তার মুখে আজহারি ছাত্রসমাজ।

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইদানীং মিসরে ইকামা (আবাসিক অনুমতি) বিহীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এই অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে আল-আজহার কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যেখানে ইকামা বিহীন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বহু বাংলাদেশি নাগরিককে মিসরীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে হেফাজতে নিয়েছে। বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগের স্বাভাবিক পদক্ষেপ মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের জটিল ও উদ্বেগজনক এক বাস্তবতা, যা ধীরে ধীরে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে।

মিসরকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপে অবৈধভাবে মানুষ পাচারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এই চক্র বাংলাদেশ থেকে মানুষ এনে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখায় এবং নৌপথে ইজিপ্ট হয়ে ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার আগেই মিসরীয় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এর ফলে একটি জাতিগোষ্ঠী হিসেবে বাংলাদেশিরা প্রশাসনিক সন্দেহের আওতায় চলে যাচ্ছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তি নিজেদের ছাত্র পরিচয় ব্যবহার করছে। এমনকি কিছু বাংলাদেশি অবৈধ ব্যবসায়ী ছাত্রদের নাম ব্যবহার করে বা ভুয়া ছাত্র পরিচয়ে এই নোংরা ব্যবসার অংশ হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ও গ্রুপ খুলে আকর্ষণীয় পোস্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। দিন দিন এই ধরনের তৎপরতা বেড়েই চলেছে, যা মিসরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে মিসরীয় প্রশাসন বিষয়টিকে শুধু অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে না; বরং জাতীয় নিরাপত্তা, মানবপাচার রোধ এবং জীবন রক্ষার প্রশ্ন হিসেবেই দেখছে। সে কারণেই ইকামাহীনদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই অভিযানের প্রভাব নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের জীবনেও এসে পড়ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসী ছাত্রদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ইকামা ও কাগজপত্র দ্রুত হালনাগাদ করা, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও অনলাইন প্রলোভন থেকে দূরে থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলাই এখন একমাত্র নিরাপদ পথ।

ইজিপ্টে আগত শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যেই এখানে অবস্থান করছেন—তারা কোনো অপরাধী নন। কিন্তু কিছু অসাধু ও লোভী চক্রের কারণে পুরো একটি সম্প্রদায় আজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যখন অপরাধ নীরবে বাড়ে, তখন তার মূল্য অনেক সময় নিরপরাধকেও দিতে হয়।

এই সংকট কেবল প্রশাসনিক নয়; এটি সচেতনতা, নৈতিকতা এবং দায়িত্ববোধেরও এক কঠিন পরীক্ষা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সৌদি আরব ও কাতার পাকিস্তানকে ৫০০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দেবে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব ও কাতার পাকিস্তানকে ৫০০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দেবে। এসহায়তা পেলে পাকিস্তান দুর্বল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের কারণে যে চাপ পড়েছে তা এড়াতে পারবে ইসলামাবাদ।জুনের মধ্যে বৈদেশিক দায়-দেনাও শোধ করতে পারবেন। জানা যায়,চলতি মাসের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দেনা ৩৫০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করার কথা ইসলামাবাদের। পাকিস্তানের অর্থনীতি ইরান যুদ্ধের কারণে আরও খারাপ পরিস্থিতিতে পড়েছে। মূল্যস্ফীতি ও আমদানি ঋণের চাপ আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

এ পরিস্থিতিতে দেশটিকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে রিয়াদ।শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-জাদান।
এ বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ ঊধ্র্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পাকিস্তান বিদ্যমান নগদ আমানতের সম্প্রসারণ ও

তেল অর্থায়ন সুবিধার সম্প্রসারণসহ বাড়তি আর্থিক সহায়তার অনুরোধ জানান। পাকিস্তানের তেল অর্থায়ন সুবিধা চলতি মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে ইসলামাবাদের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ঘোষিত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের প্রতিনিধি দলে রয়েছে, স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নিতে ইতিমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এর নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার।
সংগৃহীত –
[email protected]

আলোচিত খবর

পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত ৩১ জন নাবিকের হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ ৪০ দিন আটকে থাকার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পেয়ে আবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ফিরে যাওয়ার পথে রয়েছে।বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় শারজায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন চালু রাখতে হওয়ায় রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। ফলে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে নিরাপদে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ১১ মার্চ জেবেল আলীতে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে নতুন পণ্য বোঝাইয়ের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ