ভাঙ্গুড়ায় চরম অবহেলায় নিম্নবর্ণের হিন্দুদের শ্মশান -জাতি ভেদে বৈষম্যের অভিযোগ।

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিয়ারপাড়া এলাকায় ডোম, মুচি ও মেথর গোত্র ভুক্ত নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত শ্মশানটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও জাতি ভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্চ বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের বাধার কারণে তারা কেন্দ্রীয় শ্মশানে মরদেহ দাহের সুযোগ পান না। ফলে একই ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও মৃত্যুর পরেও মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

সরেজমিনে দেখা যায়, দিয়ারপাড়া এলাকার শ্মশানটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে আছে। শ্মশানের চারপাশে কোনো বাউন্ডারি ওয়াল নেই, নেই স্থায়ী দাহস্থল কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দাহস্থল জুড়ে ঝোপঝাড় ও আবর্জনা জমে রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দাহকাজ শেষে মরদেহের অবশিষ্টাংশ কিংবা মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ অনেক সময় কুকুর ও শেয়ালে টেনে নিয়ে যায়। এতে মৃতের স্বজনদের চরম মানসিক যন্ত্রণা ও অপমানের মধ্য দিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়।

ভুক্তভোগীরা পরিবার গুলো জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা সামাজিক অবহেলা, পেশাগত বৈষম্য ও দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করে আসছেন। জীবিত অবস্থায় নানা কষ্ট সহ্য করলেও মৃত্যুর পর অন্তত সম্মানজনক ও নিরাপদ শেষকৃত্যের প্রত্যাশা করেন তারা। কিন্তু বাস্তবে সেই ন্যূনতম মানবিক অধিকারও নিশ্চিত হচ্ছে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উচ্চ বর্ণের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সামাজিক ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে ডোম, মুচি ও মেথর গোত্র ভুক্ত হিন্দুদের শ্মশান ব্যবহারে বাধা দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে শ্মশান উন্নয়ন কার্যক্রমেও তারা নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।

তারা আরও জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে নিম্ন বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের আবেদনের পর সরকারিভাবে শ্মশান উন্নয়নের জন্য প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই অর্থ দিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো কাজই হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার না করে একটি মহল তা আত্মসাৎ করেছে।

ভুক্তভোগী মতিলাল দাস বলেন, একই ধর্মের মানুষ হয়েও আমাদের মরদেহ উচ্চবর্ণের শ্মশানে নিতে দেওয়া হয় না। বাধ্য হয়ে এই অনিরাপদ শ্মশানেই দাহ করতে হয় যেখানে ন্যূনতম পরিবেশ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ঝন্টু দাস বলেন, শ্মশানটি বহু বছর ধরে এমন অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষাকালে কাদা-পানিতে দাহকাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। উন্নয়নের জন্য টাকা বরাদ্দের কথা শুনলেও কোনো কাজ চোখে পড়েনি।

আরেক ভুক্তভোগী শুটকা দাস বলেন, জীবনভর অবহেলা সহ্য করেছি। মৃত্যুর পর অন্তত সম্মান পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখানেও আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

নিম্ন বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানের সভাপতি রঞ্জন দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অবহেলার মধ্যে আছি। শ্মশানে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। দাহের পর মরদেহের অবশিষ্টাংশ পশুতে টেনে নিয়ে যায়। জীবিত অবস্থায় বৈষম্য সহ্য করলেও মৃত্যুর পর অন্তত মরদেহের সম্মান চাই।

শ্মশানের সাধারণ সম্পাদক মানিক দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ডোম, মুচি ও মেথর মানুষ সমাজের অবহেলিত পেশায় কাজ করে জীবন চালাই। জীবিত অবস্থায় অবহেলা সহ্য করেই বেঁচে আছি। কিন্তু মৃত্যুর পরেও যদি মরদেহের মর্যাদা না থাকে, তাহলে রাষ্ট্র ও সমাজ কিসের জন্য?

অভিযোগের বিষয়ে ভাঙ্গুড়া কেন্দ্রীয় শ্মশানের সভাপতি সংগীত কুমার পাল বলেন, মরদেহ দাহে বাধা দেওয়া হয় এমন অভিযোগ সঠিক নয়। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরের বরাদ্দের বিষয়ে আমার কোনো কিছু জানা নেই।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। অনিয়ম বা বৈষম্যের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ছবি: ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিয়ারপাড়া এলাকায় নিম্ন বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত শ্মশান দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও উন্নয়নহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সংস্কারবঞ্চিত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে: চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়নকাজে গতি আনতে সরেজমিনে তদারকি অব্যাহত রেখেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের চলমান কার্পেটিং কাজ পরিদর্শন করেছেন তিনি।

পরিদর্শনকালে মেয়র সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং কার্পেটিং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

দীর্ঘদিন সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে যাওয়ায় এ পথে চলাচলকারী নগরবাসীর দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কার্পেটিং কাজ শেষ হলে সড়কটি দিয়ে চলাচল আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিন সংস্কারবঞ্চিত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে। কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকবে। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আমরা মাঠে থেকে কাজের অগ্রগতি তদারকি করছি।

কার্পেটিং কাজ শেষ হলে অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়ক ব্যবহারকারী বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ার পাশাপাশি নগরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা, অস্বস্তিতে ক্রেতারা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্রগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজারে চলছে অস্থিরতা। চাল-ডাল-তেলসহ সব ধরনের শাক-সবজির বাজারে এখনও স্বস্তি ফেরেনি। বাজারে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে সীমিত আয়ের মানুষের।নগরীর কর্ণফুলী মার্কেট, রিয়াজ উদ্দিন বাজার, কাজির দেউড়ি, চকবাজার ও ২ নম্বর গেইট কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বরবটির দাম গত সপ্তাহের ৮০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ১২০ টাকা হয়েছে, কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে। বেগুন গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৪০ টাকা, অর্থাৎ ২০ টাকা বেড়েছে। শিমের কেজি ২০০ থেকে ২১০; যা কিছুদিন আগেও ১৮০ থেকে ২০০ ছিল। কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। গত সপ্তাহে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৮০ টাকা। কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। গাজর গত সপ্তাহের মতোই ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙে ও করলার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পটলের দামও গত সপ্তাহের সর্বনিম্ন দামের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের সবজি বিক্রেতা শামসুল আলম বলেন, সবজির দাম প্রতিদিন একরকম থাকে না। পাহাড়তলী আড়তে সরবরাহ ও কেনা দামের ওপর নির্ভর করে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা ওঠানামা করে।
বহদ্দারহাট বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবজির দাম এখনও পুরোপুরি সহনীয় পর্যায়ে আসেনি। একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি কিনতে গেলে মোট খরচ বেশ বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের মাছ বিক্রেতা জুয়েল শেখ বলেন, আড়তে মাছের দাম বেশি থাকায় আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পরিবহন ও অন্যান্য খরচও রয়েছে। তাই খুচরা বাজারে মাছের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে বাজারে অনেকটা চড়া দামে ফার্মের মুরগি ও ডিম বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা।

চকবাজারের ডিম বিক্রেতারা জানান, ডিমের দাম কয়েকদিন ধরে প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। পাইকারি বাজারে দাম খুব একটা কমছে না। গত পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও গরমে অনেক খামারে ডিম পাড়া ও ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা কমেছে। এতে সার্বিকভাবে সরবরাহে ঘাটতি থাকায় ডিম-মুরগির দাম কমছে না।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ