অমর একুশে : সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার সুনিশ্চিত করা জরুরী 🇧🇩 ফজল আহমেদ

লেখক : প্রবন্ধকার ও মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ড, চট্টগ্রাম। সাবেক যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

অমর একুশের এই দিনে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


২১ শে ফেব্রুয়ারি যুগে যুগে বাঙালি জাতির জন্য প্রেরণার উৎস। ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের পর পাকিস্তান সরকার ঊর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করলে পূর্ব বাংলার জনগণের মনে গভীর ক্ষোভের দানা বাঁধতে শুরু করে এবং মাতৃভাষা বাংলাকে সম-মর্যাদার দাবিতে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

১৯৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ছাত্রসমাজ প্রতিবাদ মিছিল করে ১৪৪ ধারা ভাঙলো। এসময় পুলিশ মিছিলের উপর গুলি ছুড়লে সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অনেকেই শহিদ হন। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় বুকের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে রাজপথ। শেখ মুজিবুর রহমান তখন কারারুদ্ধ।

তীব্র ভাষা আন্দোলনের মুখে পড়ে বাংলা ভাষাকে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিল পাকিস্তানী সরকার এবং ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সকল রাজবন্দীকে মুক্তি দিলে ২৩ তারিখ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এ বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

বঙ্গবন্ধু বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা, সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু, সংসদের দৈনন্দিন কার্যাবলী বাংলায় চালু প্রসঙ্গে আইন সভায় তুলে ধরেছিলেন এবং ১৯৫৩ সালে একুশের প্রথম বার্ষিকী পালনেও বলিষ্ঠ ভূমিকায় ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে ১৯৭১ সালে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাীধনতা লাভ করে বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীনের পর মহান সংবিধানে বাংলাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করেন। এটাই পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম বাংলা ভাষায় প্রণীত সংবিধান। ১৯৭৪ সালের জাতিসংঘে ভাষণটিও বঙ্গবন্ধু বাংলায় দিয়েছিলেন।

যেটি বিশ্ব দরবারে বাংলা ভাষাকে ও বাঙালি জাতিকে আত্মমর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সকল অফিসের কাজে বাংলা ভাষা প্রচলনের প্রথম সরকারী নির্দেশ জারি করেন। স্বাধীনতার পর থেকে ২১ শে ফেব্রুয়ারী এই দিনটি জাতীয় শহীদ দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যাপিত হয়ে আসছে। ২০০০ সালে ইউনেস্কো বাংলা ভাষা আন্দোলন, মানুষের ভাষা এবং কৃষ্টির অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যা এখন বিশ্বের বহু দেশে গভীর শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সাথে প্রতি বছর উদ্যাপিত হয়। মাতৃভাষার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অবদান বাংলা ভাষাবাসীদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর তরুণ প্রজন্ম বাংলা ভাষার প্রতি চরম উদাসীন। তারা শুদ্ধরূপে বাংলা ভাষার চর্চাকে গুরুত্ব না দিয়ে ইংরেজি-হিন্দি ভাষা মিশিয়ে ফরমালিনের থেকে বেশি বিষাক্ত করে তুলছে আমাদের মাতৃ ভাষা বাংলাকে। যেখানে পুরো বিশ্বে একমাত্র জাতি হিসেবে বাঙালিই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে ও বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে সেই বাঙালির মাতৃভাষা আজ বিলুপ্তি বা হুমকির মুখে। যত্রতত্র দেয়ালে, ফ্যাস্টুনে, ব্যানারে, আলাপচারিতার মধ্যে বাংলা ভাষাকে ছোট করে ভাষার অপব্যবহার বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে বাংলা নামটি ছোট করে লিখে ইংরেজিতে নামটি বড় করে লিখা হচ্ছে। উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা বিধায় সেটিকে আয়ত্ত করতে হবে ভালো কথা কিন্তু সেক্ষেত্রে বাংলাকে করতে হবে মূখ্য ভাষা এবং ইংরেজিকে করতে হবে গৌণ ভাষা এই বিষয়টিকে তরুণ প্রজন্মের খেয়াল রাখতে হবে।

পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে পারিবারিকভাবেও সন্তানদের বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ শিক্ষায় পারদর্শি করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
স্বাধীনতা-পরবর্তীতে বছর ঘুরে ফেব্রুয়ারীর একুশ দিনটি আসলে সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের রুল জারি সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও দুঃখের বিষয় দিবস চলে গেলে সেই প্রক্রিয়াটি স্তবির হয়ে পড়ে। কিন্তু এত কিছুর পরও সব জায়গায় এখনো বাংলা ভাষা ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি।

আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে যেমন তথ্যপ্রযুক্তির ওপর জোর দিতে হবে তেমনি বাংলা ভাষার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশ্বায়নের যুগে শিল্প-সাহিত্য, সংগীত, স্থাপত্য, ঐতিহ্য ও নিদর্শন সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের বাংলা ভাষার দুয়ার খুলতে হবে। স্মরণে রাখতে হবে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, শরৎচন্দ্র, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন, দীনবন্ধু মিত্র, গিরিশ চন্দ্র সেন, বঙ্কিমচন্দ্র, মীর মোশাররফ হোসেন, কামিনী রায়, রজনীকান্ত সেন, প্রমথ চৌধুরী, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, যতীন্দ্রমোহন বাগচী, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সুকুমার রায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অসংখ্য গুণ্য সাহিত্যিকরা বাংলা ভাষায় লিখনীর মাধ্যমে বিশ্ব সভায় সুখ্যাতি অর্জন করেছেন।

আমাদের ঔপনিবেশিক মনোভাব থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ঔপনিবেশিক অসংস্কৃতি এখনো বাংলাদেশে বিরাজমান। এই অপসংস্কৃতিকে দূর করে শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের মাতৃভাষাকে পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরী। বাংলাদেশে বসবাসরত প্রতিটি নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা থাকলেও এদের মধ্যে বেশির ভাগের ভাষারই নেই নিজস্ব বর্ণমালা। লিখিত রূপ না থাকায় তাদের ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা যেন শুধু আবেগতাড়িত না হয়ে অমর একুশের কথা না বলি। একুশ তখনই সার্থক হবে, যখন প্রতিটি জনগোষ্ঠী তার নিজের মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারবে। শিল্প-সাহিত্য সৃষ্টি করতে পারবে।

বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের এই আত্মত্যাগ তখনই স্বার্থক হবে যখন আমরা আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে পুরোপুরিভাবে সব জায়গায় প্রচলন করতে পারবো। অমর একুশের এই দিনে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।
f

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নদী আছে,ব্রিজ নেই-দুর্ভোগে দুই পাড়ের সাধারণ মানুষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চড়-ভাঙ্গুড়া খাঁপাড়া ও সরকার পাড়ার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে গুমানি নদী। এই গুমানি নদীতে একটি ব্রিজ না থাকায় দুই পাড়ের সাধারণ মানুষ কে ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিত্যদিন।

স্থানীয়দের দাবি, গুমানি নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে আশপাশের ৩০-৪০টি গ্রামের সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। এই গুমানি নদীর উপর একটি ব্রিজ আছে নৌবাড়ীয়া, এই নৌবাড়িয়া ব্রিজ বা সেতু ঘুরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায় ছয় থেকে সাত কিলোমিটার পথ কমবে। এতে কৃষকের কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় সুবিধা বাড়বে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এই গুমানি নদীতে ব্রিজ বা সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন বক্তব্য যায়নি।

নাটোরে বড়াইগ্রামে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার থানার মোড় এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহেদুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ