
চট্টগ্রাম মহানগরের দামপাড়া এলাকায় নবনির্মিত শপিং মল মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটিতে অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থার কারণে সড়ক ঘেঁষে রাখা থাকে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের গাড়ি। যার ফলে জিইসি মোড় থেকে ওয়াসা পর্যন্ত ব্যস্ততম এ সড়কে প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে। এতে ভোগিন্তর শিকার হচ্ছেন চলাচলরত মানুষ।
জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি পর্যন্ত অফিসে যাওয়ার সময় সড়কে যানজটের মুখোমুখি হতে হয় চলাচলরতদের। বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটায় দেখা গেছে, জিইসি মোড় থেকে ওয়াসা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট। কারণ ওয়াসার আগে মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটির সামনে এলোপাতাড়ি গাড়ি পার্কিং।
পুরো রাস্তা আধা ঘণ্টার বেশি সময় স্থবির ছিল। কিছুক্ষণ গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হলে ফের সৃষ্টি হয় যানজট। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায় সেই একই চিত্র দেখা গেল এই সড়কের। এ শপিং মলে অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থার কারণে সড়ক ঘেঁষে রাখা থাকে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের গাড়ি। তাই ব্যস্ততম এ সড়কে লেগে থাকে যানজট।
বৃহস্পতিবার শহর রুটের বাস চালক জসিম উদ্দিন বলেন, ২ নম্বর গেট থেকে দামপাড়া আসতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। পুরো সড়কজুড়েই যানজট, বিকল্প পথও পাইনি। সিএনজি অটোরিকশা চালক রহিম উল্লাহ জানান, এ সড়ক এখন ব্যবহার করতে মন চায় না। দুই নম্বর গেইট, জিইসি- এরপর এখন নতুন করে দামপাড়ায় যানজটে পড়তে হয়। ভোগান্তির যেন শেষ নেই।
সড়ক দখল করে গাড়ি পার্কিংয়ের বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের পরিদর্শক (প্রশাসন) সুশোভন চাকমা বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। গাড়ির চাপ অতিরিক্ত হলে যানজট তৈরি হয়। তবে মূল সড়ক দখল করে পার্কিং করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জানা গেছে, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক সুযোগ সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করেছিল মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটি।
উদ্বোধনের দিনেই তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন নগরের হাজারো মানুষ। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও এমন দুর্ভোগে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল করে শত শত গাড়ি পার্কিং করার ফলে যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। তীব্র যানজটে আটকে থাকতে দেখা যায় জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকেও।
সূত্র জানায়, ২৩ তলা বিশিষ্ট মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটির মিক্সড-ইউজ ভবনের প্রথম ১০ তলায় শপিং মল এবং ১১ থেকে ২৩ তলা পর্যন্ত বিলাসবহুল হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। কর্তৃপক্ষ এটিকে আধুনিক শপিং, বিনোদন ও লাইফস্টাইল ডেস্টিনেশন হিসেবে প্রচার করলেও বাস্তবে এর মিল পাচ্ছেন না নগরবাসী।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় বাণিজ্যিক স্থাপনা চালুর আগে ট্রাফিক ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট, পার্কিং ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান এবং জরুরি সেবার নির্বিঘ্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে কার্যকর প্রস্তুতির দৃশ্যমান প্রমাণ মেলেনি। এমন অবস্থা চলতে থাকলে নগরীর ট্রাফিক ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটির ম্যানেজার (ব্র্যান্ড) সমীর কুমার এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে অফিসে গিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন। মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটির ম্যানেজার (অপারেশন) মোহাম্মদ ফাহিমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।