আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শর্টগান হাতে অসুস্থ কর্মীকে দেখতে গেলেন বিএনপি নেতা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

নেতার দাবি অস্ত্রটি বৈধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক দলীয় কর্মীকে দেখতে গিয়ে হাতে শটগান নিয়ে উপস্থিত হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু তাহের। অসুস্থ কর্মীর শিয়রে আগ্নেয়াস্ত্রসহ তার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নেতার দাবি, অস্ত্রটি তার লাইসেন্স করা বৈধ শটগান।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, সাদা জুব্বা ও টুপি পরা আবু তাহের অন্যদের সঙ্গে বসে আছেন এবং তার হাতে একটি লম্বা ব্যারেলের শটগান ধরা রয়েছে। অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা ছবি দেখে ধারণা করছেন, এটি একটি ‘পাম্প-অ্যাকশন’ শটগান, যার গঠনশৈলী ‘মসবার্গ ৫০০’ সিরিজ বা সমজাতীয় তুর্কি মডেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সাধারণত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পেশাদার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নুর ছাফা সাবু সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। তাকে দেখতে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার বাড়িতে যান আবু তাহের। সেখানে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আবু তাহের সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

গত রোববার রাতে ‘সাজিদ চৌধুরী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ছবিটি পোস্ট করার পর থেকেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেও তা জনসমক্ষে প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। আত্মরক্ষার প্রয়োজনে অস্ত্র বহন করলেও তা সর্বদা দৃষ্টির আড়ালে রাখতে হয়। আগ্নেয়াস্ত্র আইন ও লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, জনসমক্ষে অস্ত্র প্রদর্শন করলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারেন। এমনকি নিয়মবহির্ভূত এই আচরণের জন্য ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে আবু তাহের বলেন, অস্ত্রটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে এটি সঙ্গে রাখা স্বাভাবিক বিষয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ছবি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, ছবিটি তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে আইনের কোনো ব্যত্যয় বা লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের প্রমাণ মিললে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ওসি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ