আজঃ শুক্রবার ১ মে, ২০২৬

অভিযানে অংশ নিয়েছে ৪ হাজার সদস্য চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান।

আকাশপথে নজরদারি 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অভয়ারন্য চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নেয়।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, ভোর থেকে অভিযান শুরু হয়। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কিছু আলামত উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান চলায়।

 

এদিকে অভিযানের শুরুতেই জঙ্গল সলিমপুরের সব প্রবেশ ও বাহিরের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয় তল্লাশিচৌকি, যাতে কোনো চিহ্নিত অপরাধী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় বাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, অভিযানে প্রায় ৫৫০ জন সেনাসদস্য, ১ হাজার ৮০০ পুলিশ সদস্য, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র‌্যাব এবং ১২০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে কাজ করে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডগ স্কোয়াড।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় এটিই সবচেয়ে বড় ও সমন্বিত অভিযান। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কমান্ডো ধাঁচের এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি এই জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকাটিতে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করে সরকার।
এদিকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ায় এখন সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। সোমবার দুপুরে সলিমপুরে প্রবেশমুখে অভিযান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ড. জিয়াউদ্দীন বলেন, ভবিষ্যতে এই এলাকার উন্নয়নের জন্য সরকার যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করেছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত সহযোগিতায় সেই বাধা দূর হয়েছে।এখন থেকে সরকার পূর্বে গ্রহণ করা পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সলিমপুর এলাকা শহরের খুব কাছে হওয়া সত্ত্বেও এতদিন প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা ছিল। বিষয়টি অনেক আগেই সমাধান হওয়া উচিত ছিল। সম্প্রতি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার কারণে প্রশাসনের মনোযোগ সেদিকে ছিল। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই সমন্বিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে এলাকায় সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অনদিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী চক্রের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. আহসান হাবীব পলাশ। এদিন দুপুরে অভিযান নিয়ে সলিমপুরের প্রবেশমুখে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, প্রায় ২০০৩ সাল থেকে একটি চক্র সরকারি নিয়মকানুন উপেক্ষা করে এখানে অবৈধভাবে জমির কাগজ তৈরি, জমি দখল ও হস্তান্তরের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। পরিস্থিতি এমন ছিল যে- সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এলাকায় প্রবেশ করতে ভয় পেত।এর আগে চারবার এই এলাকায় অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। এবার পঞ্চমবারের মতো অভিযান চালিয়ে যৌথবাহিনী সফল হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা অংশ নেন। সম্মিলিত এই অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।

অভিযানের পর এলাকায় স্থায়ীভাবে দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। এখানে বাংলাদেশ পুলিশের একটি ক্যাম্প এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের একটি ক্যাম্প চালু থাকবে। যাতে ভবিষ্যতে এ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যায়। জঙ্গল সলিমপুরে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বিভাগীয় কমিশনারকে অনুরোধ জানান তিনি।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এখনও বিভিন্ন ইউনিট পুরোপুরি রিপোর্ট না দেওয়ায় চূড়ান্ত সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল এলাকার উপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, যা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। পরবর্তীতে তল্লাশি কার্যক্রম চালিয়ে আরও অস্ত্র উদ্ধার করা যাবে।

এটি অনেক বড় এলাকা। পুরো এলাকায় এখনো তল্লাশি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কোথাও কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, অভিযান শেষে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার রাখা হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আবার মাথাচাড়া দিতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শতভাগ বাস্তবায়ন করতে চান বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেছেন, সারা দেশের ন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়েও ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুদেরকে বিনামূল্যে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ চলমান রয়েছে। গত ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ ক্যাম্পেইন জেলা পর্যায়ে আগামী ১০ মে এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ মে পর্যন্ত এলাকায় চলমান থাকবে।

সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময়ে এ বয়সী শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১ ডোজ এমআর টিকা দেয়া হবে। ৬-৫৯ মাস বয়সী কোন শিশু যাতে টিকা পাওয়া থেকে বাদ না পড়ে সে বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগে প্রায় ৪২ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২৭ এপ্রিল সোমবার পর্যন্ত টিকা প্রদানের হার প্রায় ৪৪ শতাংশ। হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন আমরা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে চাই। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রয়োজন। মঙ্গলবার সকালে নগরীর সিনেমা প্যালেস সংলগ্ন লয়েল রোডস্থ চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক এসোসিয়েশন (বিপিএ) সদস্যদের সাথে আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় সভার আয়োজন করেন।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. ইমং প্রু চৌধুরী। সভায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুছা মিয়া, বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক এসোসিয়েশনের সেক্রেটারী জেনারেল ও চমেক হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ) ডা. মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ঢালী, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কর্ণেল (ডা.) তাহমিদ হক, বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক এসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম জেলা শাখার উপদেষ্টা ডা. মোঃ আবুল কালাম ও ইউসিসেফ’র ন্যাশনাল ইপিআই স্পেশালিষ্ট ডা. সরোয়ার আলম। ওরিয়েন্টেশন সভায় বিপিএ’র চট্টগ্রাম জেলা শাখার কর্মকর্তা ও সদস্যরা হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, হাম-রুবেলা নির্মূলে টিকাদান ক্যাম্পেইন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচী। বিভাগের কোন শিশু যাতে এই টিকার আওতার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্কদৃষ্টি রাখতে হবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। হাম-রুবেলার টিকা অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকরী। তারপরও কখনও কখনও সামান্য কিছু প্রতিক্রিয়া বা লক্ষণ দেখা দিলে ভয়ের কোন কারণ নেই, এমনিতেই সেরে যাবে। হাম একদিকে যেমন দ্রুত ছড়ায়, অন্যদিকে সঠিক সময়ে টিকার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করাও বেশ সহজ।

এটি মূলত ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা গোষ্ঠীগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মতো কাজ করে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বড় অংশকে যদি টিকার আওতায় এনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা যায়, তবে ওই এলাকার সব শিশু সুরক্ষিত থাকবে। অধিকাংশ শিশুকে এই টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হলে হাম ছড়ানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। সঠিক তথ্য প্রদান ও টিকাদান কার্যক্রমে শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ওরিয়েন্টেশন সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকরী। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞদের চেম্বারে চিকিৎসার জন্য আসা ৬-৫৯ বয়সী শিশুদেরকে এমআর টিকা দেয়ার জন্য অভিভাবকদেরকে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে হবে।

মূলতঃ পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরপর মিজেলস ছড়িয়ে পড়ায় এটি নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথমে দেশের ১৮ জেলার টিকাদান কর্মসূচী শুরু করেন। এ সময়ে শিশুদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রয়োজন থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ অপ্রতুল। তাই এমআর টিকাদান ক্যাম্পেইন সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে সারাদেশে শিশুদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের সরবরাহ নিশ্চিতসহ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ক্যাম্পেইন যাতে শুরু করা হয় সে ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ’র মাধ্যমে সরকারকে অনুরোধ জানানো হবে।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, জনসুরক্ষা (পপুলেশন ইমিউনিটি) বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময় পর পর হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন জরুরী। পূর্বে এমআর টিকা পেয়ে থাকলেও অথবা হাম বা রুবেলা রোগ হলেও ৬-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এ ক্যাম্পেইনের সময় ১ ডোজ এমআর টিকা দেয়া হবে।

অসুস্থ শিশুরা সুস্থ হলে কিংবা উদ্দিষ্ট শিশু পূর্বে হাম বা রুবেলা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকলেও ক্যাম্পেইন চলাকালে যে কোন টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবে। এমআর টিকা নিরাপদ হলেও কখনও কখন সামান্য কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ভয়ের কোন কারণ নেই, এগুলো এমনিতেই সেরে যাবে। ক্যাম্পেইনে টিকা পাওয়া সত্ত্বেও দুই বছরের কম বয়সী শিশুকে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় ২ ডোজ এমআর টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তবে দু’টি ডোজের মধ্যে অবশ্যই ২৮ দিনের বিরতি থাকতে হবে।

ক্যাম্পেইন নিয়ে যে কোন ধরনের গুজব রোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুর ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে এমআর টিকা নিতে পারবে, যাদের জন্মনিবন্ধন সনদ নেই তাদেরকে লাইন লিস্ট করে সরবরাহকৃত এমআর টিকা কার্ড পূরণ করে টিকা প্রদান করতে হবে। সভায় জানানো হয়, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ৫ এপ্রিল থেকেই দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় জরুরি ভিত্তিতে প্রথম দফায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। এ সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার রামু, মহেশখালী, চাঁদপুর জেলা সদর ও হাইমচর উপজেলাও কর্মসূচী শুরু হয়।

গত ১২ এপ্রিল ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বরিশাল ও ময়মনসিংহে দ্বিতীয় দফায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এই হাম-রুবেলার (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৪২ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে হাম-রুবেলার টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভাগের মোট ১৬৪টি স্থায়ী কেন্দ্র, ২৪ হাজার ৬৪০টি ভ্যাকসিনেশন সেন্টারে সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ টিকা দেয়া হবে। ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে ১ হাজার ১৫টি মপ-আপ টিম ও সান্ধ্যকালীন ১৬টি টিম এ টিকা প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।

লোহাগাড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাস খাদে পড়ে ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

লোহাগাড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাস খাদে পড়ে ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৫ জন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন-ইন্দাসারা ভিক্ষু প্রকাশ উচিমং মগ (৪৪)। তিনি খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি চৌধুরী পাড়ার মৃত মংশি মগের পুত্র। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত অন্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ