আজঃ সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ : এক সাহসী দেশপ্রেমিকের জীবনকথা।

বিশেষ প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অসংখ্য বীর সন্তানের আত্মত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। সেইসব গৌরবোজ্জ্বল নামের ধারাবাহিকতায় বীর চট্টলার এক কৃতী সন্তান হলেন বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ। তিনি শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধাই নন, বরং একজন সৎ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে সমাজে বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর জীবন সংগ্রাম, চিন্তা-চেতনা ও কর্মধারা দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মহান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এ তিনি সরাসরি গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। দুঃসাহসিক অভিযান, অদম্য মনোবল ও দেশমাতৃকার প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের এক সাহসী সৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যুদ্ধের সময় তিনি শত্রুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গেরিলা অভিযানে অংশ নিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সেই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা আজও দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয়।

ফজল আহমদ একজন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সুবক্তা হিসেবেও পরিচিত। সমাজ, রাষ্ট্র, ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে তাঁর চিন্তা ও লেখনী পাঠকের কাছে গভীর অনুপ্রেরণা জাগায়। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে সমাজের উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। একজন সংগঠক হিসেবে তিনি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন রত্নগর্ভ পিতা ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষ। তাঁর পরিবার ও সমাজজীবনে সততা, আদর্শ ও নৈতিকতার প্রতিফলন দেখা যায়। মানবকল্যাণ ও সমাজসেবামূলক কাজে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁকে একজন আলোকিত নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তিনি আজীবন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ধারণ করেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান-এর প্রতি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর জীবনদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই আদর্শকে ধারণ করেই তিনি সমাজে ন্যায়, মানবতা ও দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের গর্বিত সন্তান হিসেবে ফজল আহমদের অবদান স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সাহসী বক্তব্য, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বগুণ তাঁকে সময়ের একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাঁর সততা, সাহস ও দেশপ্রেমের জন্য তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার চোখে দেখেন।

সংগ্রাম, আদর্শ ও দেশপ্রেমে ভাস্বর এই মানুষটি আমাদের জাতীয় জীবনের এক মূল্যবান সম্পদ। বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদের জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর মতো দেশপ্রেমিক মানুষের অবদানই বাংলাদেশের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ ও গৌরবান্বিত করেছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নানান আনন্দ ও আয়োজনে বর্ষবিদায় জানিয়ে নতুন বর্ষবরণে আন্তর্জাতিক বিশ্বতান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের চৈত্র সংক্রান্তি ১৪৩৩।বর্ষবিদায়ের মধ্যে দিয়ে বর্ষবরণের আয়োজন। চৈত্র সংক্রান্তি ১৪৩৩, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল ২০২৬ উৎযাপিত হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব নববর্ষ। এই উৎসবের আমেজ অন্যান্য উৎসবের তুলনায় ভিন্ন যা প্রত্যেক বাঙালির বাঙালী মনোভাবকে ফুটিয়ে তুলে।নানান রকম আয়োজনের মধ্যে দিয়ে প্রতিবারের ন্যায় এইবার ও চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমী, সি আর বি শিরীষ তলা, চন্দনাইশ,এপেক্স ক্লাব,বন্ধুই শক্তি ক্লাব -২০০০ চট্রগ্রাম থিয়েটার প্রাঙ্গণে তাদের বর্ষবিদায়ের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি উৎসব পালন করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্বতান এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নরেন সাহার নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক বিশ্বতান টীম।

নাচ, গান, আবৃত্তি ও অভিনয় সব কিছু মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বতানের শিল্পীরা ফুটিয়ে তুলেছিলেন ও সাজিয়েছিলেন উৎসবটিকে।নৃত্য পরিচালনায় ছিলো হৃদিতা দাশ পূজা ও সংগীত লিড এ ছিলেন অনিক দাশ। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যগণ।

ভাঙ্গুড়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মাষ্টার এর দাফন সম্পন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মাষ্টার এর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
বুধবার ২২ এপ্রিল বিকেলে পার-ভাঙ্গুড়া মাদ্রাসার মাঠ প্রাঙ্গণে তাকে গার্ড অব অনারের মাধ্যমে সন্মান জানিয়ে অবশেষে পার-ভাঙ্গুড়া কবরস্থান সংলগ্ন ঈদগাঁ মাঠে জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

ভাঙ্গুড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মিজানুর রহমান রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন।
এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিয়ে আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্প অর্পণ করা হয়।পাবনা জেলা পুলিশ লাইনের একটি চৌকস দল বীর মুক্তিযোদ্ধা কে গার্ড অব অনার দিয়ে সন্মান প্রদান করেন। এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে পার-ভাঙ্গুড়া ঈদগাঁ মাঠে জানাজা এবং মাঠ সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফজলুল হক মাষ্টার কে গার্ড অব অনার দিয়ে সন্মানিত করেন ভাঙ্গুড়া থানার ওসি তদন্ত মোঃ আরিফুল ইসলাম, পাবনা পুলিশ লাইনের এস আই সবুজার হোসেন ও তারদল।বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফজলুল হক মাষ্টারের জানাজা নামাজে উপস্থিত ছিলেন,পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী,বিভিন্ন এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রভাষক, প্রধান শিক্ষক,এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,রাজনৈতিক ব্যক্তি সহ গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মাষ্টার চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজ বাড়ি টলটলীপাড়াতেসকাল সাড়ে ১০টায় ইন্তেকাল করেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী,১ সন্তান সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ