আজঃ শুক্রবার ২০ মার্চ, ২০২৬

গজারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হাজারো প্রাণের মিলনমেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

“স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে, এসো মিলি প্রাণের বন্ধনে” এই আহবানে বন্ধন ফাউন্ডেশন গজারিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে পালিত হয়েছে দ্বীপজেলা ভোলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ গজারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮০ বছর পূর্তি উৎসব ।

১৯ মার্চ ২০২৬ বিদ্যালয়টির উন্মুক্ত প্রান্তরে রকমারি ইফতার মাহফিল ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্যাপিত হাজারো প্রাণের মিলনমেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন- গজারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বাবুল পঞ্চায়েত ।

গজারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দিন মনুর সভাপতিত্ব উৎসব স্মারক পাঠ করেন মোঃ জসিম উদ্দিন । শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- বিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী ও জাতীয় কবিতা পরিষদ ভোলার শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক বীরের সন্তান কবি নজরুল ইসলাম জামাল ।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের আহবায়ক ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এর আজীবন সদস্য, সিনিয়র প্রভাষক কবি শাহাবুদ্দিন রিপন শান , সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ রোদসী কৃষ্টিসংসারের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নাট্যকার আব্দুল মান্নান হেডমাস্টার, ভোলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ এরশাদ, লালমোহন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সাধারণ সম্পাদক ক্রীড়াবিদ মতিউর রহমান কাজল, সাবেক শিক্ষার্থী ডাঃ রুহুল কুদ্দুস খান , লালমোহন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ মঞ্চের সিনিয়র সদস্য শিক্ষাবিদ সাংবাদিক মোঃ মাহবুব আলম, লালমোহন ইসলামিক মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও দৈনিক আমার দেশের লালমোহন প্রতিনিধি মাওলানা মোঃ আজিম উদ্দিন খান , লালমোহন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহীন আলম মাকসুদ, দৈনিক নয়াদিগন্তের লালমোহন প্রতিনিধি এম আর পারভেজ, সাংবাদিক ইউসুফ আহমেদ, দিগন্ত চ্যানেলের অনলাইন এডিটর শহিদুল ইসলাম তন্ময়, রুপালি বাংলাদেশ এর লালমোহন প্রতিনিধি ইব্রাহিম আকাশ, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম জিহাদ প্রমুখ ।

হাজারো প্রাণের মেলায় হৃদয়ের সেতুবন্ধন তৈরি হয়ে বিনম্র ঐক্যের কুহুতানে গজারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অযুত শিহরিন জেগেছিল যেন ৮০ বছর পূর্তির সৌহার্দ্য উৎসবে ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এর আজীবন সদস্য হলেন কবি রিপন শান ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি রিপন শান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এর আজীবন সদস্যপদ লাভ করেছেন ।
নজরুল ইনস্টিটিউট এর নির্বাহী পরিচালক দেশবরেণ্য গীতিকবি লতিফুল ইসলাম শিবলী ১৫ মার্চ ২০২৬ দুপুরে
কবি রিপন শান এর হাতে অফিসিয়ালি আজীবন সদস্য পদের প্রত্যয়ন তুলে দিয়েছেন ।

শৈশব থেকেই নজরুলানুরাগী ও নজরুল কবিতার দরাজকণ্ঠের আবৃত্তিশিল্পী কবি রিপন শান পেশায় কলেজ শিক্ষক ও সাংবাদিক । তিনি ভোলার লালমোহনের বদরপুর মহাবিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রভাষক # বাংলা দীর্ঘদিন ধরে অধ্যাপনায় নিয়োজিত আছেন। স্বতন্ত্রধারার সংবাদপত্র দৈনিক অমৃতালোক এর ফিচার এডিটর হিসেবে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন ।

১৯৯৮ সালে বরেণ্য অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী সম্পাদিত পাক্ষিক নটনন্দন দিয়ে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করা বহুমাত্রিক লেখক সংগঠক রিপন শান বিভিন্ন সময়ে যুক্ত ছিলেন- সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ, সাপ্তাহিক খবরের কাগজ (আজকের কাগজ), সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজ, সাপ্তাহিক দ্বীপকথা,দৈনিক খবরপত্র, বাংলারিপোর্ট২৪, বজ্রকণ্ঠ, দৈনিক দেশজনপদ, দৈনিক বাংলাদেশ বাণী, ইউরোসমাচার,ইউরোবাংলাটাইমস,

বিডিনিউজ২৪ইউরোপ, দৈনিক ভোরের আকাশসহ দেশী-বিদেশী বিভিন্ন গণমাধ্যমে। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা থেকে প্রকাশিত বাংলা গণমাধ্যম ইউরোবাংলাটাইমসে ম্যানেজিং এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন টানা তিন বছর । অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের বাংলাদেশ কো- অর্ডিনেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন টানা পাঁচ বছর।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অবিস্মরণীয় “কবিকণ্ঠে আবৃত্তি সন্ধ্যা ২০০৭” অনুষ্ঠানের গ্রন্থিক ও উপস্থাপক, লালমোহন উপজেলা শিল্পকলা একাডমির নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবি রিপন শান, টানা তিন টার্ম লালমোহন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।

তাঁর সনদীয় নাম মোঃ শাহাবুদ্দিন রিপন । লেখালেখি, সমাজকর্ম ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে রিপন শান নামেই সমধিক পরিচিত। মূলত কবি হিসেবে সমাদৃত হলেও তুখোড় বক্তা, আবৃত্তিশিল্পী, উপস্থাপক, মঞ্চ নাট্যকার, নির্দেশক, লিটলম্যাগ সম্পাদক, সাংবাদিক, কলেজ শিক্ষক, সমাজকর্মীএবং কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও বহুমাত্রিক পরিচয় রয়েছে তাঁর।

১৯৭৫ সালের ৩ মার্চ দ্বীপজেলা ভোলার লালমোহন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চতলা গ্রামে এক বনেদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । পিতা একাত্তরের রণাঙ্গনের বীরমুক্তিযোদ্ধা শিক্ষাবিদ মরহুম সালাউদ্দিন আহমাদ। মাতা লালমোহনের প্রথম এন্ট্রান্স শিক্ষিতা মরহুমা বেগম রওশান আরা পঞ্চায়েত। পিতামহ মরহুম মাওলানা মনসুর আহমাদ গোল্ডমেডেলিস্ট ছিলেন ভোলা সরকারি কলেজের খ্যাতিমান অধ্যাপক। মাতামহ মরহুম দানবীর মজিবুর রহমান পঞ্চায়েত ছিলেন লালমোহন ইউপির জননন্দিত চেয়ারম্যান ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অভিমানী সাবেক ছাত্র রিপন শান ঢাকা কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। জীবনের শিক্ষাধারায় তিনি- চতলা বোর্ড মডেল গভর্নমেন্ট প্রাইমারি স্কুল, লালমোহন মডেল হাইস্কুল, সরকারি তিতুমীর কলেজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এর মেধাবী ছাত্র ছিলেন । চিত্রনায়ক বুলবুল আহমেদের তত্ত্বাবধায়নে ঢাকার স্বপ্নীল একাডেমি থেকে তিনমাসমেয়াদী নাট্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন । স্বরকল্পন আবৃত্তিচক্র থেকে শুদ্ধ উচ্চারণ, বাচনিক উৎকর্ষ ও আবৃত্তির মাসব্যাপী কর্মশালায় ঋষভ (প্রথম শ্রেণী) অর্জন করেন ।

রিপন শান ব্র্যাক সিইপি প্রযোজিত গণনাটক নতুন সকাল এর কেন্দ্রীয় মাস্টার চরিত্রে ৫৬ টি শোতে অনবদ্য অভিনয় করে সাউন্ডবাংলা কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে সংবর্ধিত হয়েছেন । আব্দুল গাফফার চৌধুরী রচিত, বাংলার মুখ প্রযোজিত ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ নাটকের বোস্টার চরিত্রের সফল অভিনেতা । সাংস্কৃতিক কর্মধারায় বিভিন্ন সময়ে যুক্ত ছিলেন- ক্রান্তি, উদীচি, স্বপ্নকুঁড়ি, কপোতাক্ষ সাহিত্য পরিষদ, বাঙালি সংস্কৃতি মঞ্চ, বাঙালি সাংস্কৃতিক বন্ধন, ন্যাচার কনজারভেশন কমিটি, বাংলাদেশ বার্ড ওয়াচার সোসাইটি, বাংলাদেশ রাইটার্স গিল্ড.. এর সাথে । তিনি ভোলার লালমোহনের সাড়াজাগানো সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘তোলপাড় কৃষ্টি সংসার’ এর প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি । লালমোহন ফাউন্ডেশন ঢাকার উদ্যোক্তা ও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ।

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম # দ্বীপজেলার সেরা অর্জন ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের মহাতারকা দ্বীপান্তরের বন্দি নলিনী দাস আছে । বাঙালির শ্রেষ্ঠ সময় একাত্তরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল আছে । আছে জাতীয় মঙ্গলের কবি মোজাম্মেল হক । আছে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমেদ, আছে সব্যসাচী লেখক ও রাজনীতিক মোশারেফ হোসেন সাজাহান । আছে ঢাকায় প্রথম স্মার্ট মেয়র নাজিউর রহমান মঞ্জু । বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বৃক্ষমঙ্গলের কবি নাসির আহমেদ আছে, এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিত আছে ; আছে জ্ঞানীগুণী নামজাদা কতো মানুষ ।

অসংখ্য মন্ত্রী ছিলো, এমপি ছিলো ; ঝানু ঝানু নবীন প্রবীণ রাজনীতিবিদে ঠাসা এখনো পলিমাটির জেলা- বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপজেলা ভোলা ।কিন্তু কখনো স্পিকার ছিলোনা ।এবার সেই অভাব পূরণ করলো লালমোহন তজুমদ্দিনের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান একাত্তরের অসম সাহসী বীরযোদ্ধা বীরবিক্রম মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

বরিশালের কবি কুসুম কুমারী দাশের কবিতার সেই অমিয় পঙতি “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড়ো হয়ে কাজে বড়ো হবে” হৃদয়ে ধারণ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রীয় সম্মানাসন *স্পিকার* নির্বাচিত হয়ে দক্ষিণ বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস পাল্টে দিলেন জীবন্ত কিংবদন্তী রাজনীতিবিদ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রীড়াবিদ, সুসাহিত্যিক সমাজপতি একাত্তরের রণাঙ্গনের তুমুল সেনানী মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম ।

পিতা সাবেক এমপি ডাক্তার আজহার উদ্দিন আহমেদ এর ন্যায়ননীতি, সততা ও দেশপ্রেমের ধারাবাহক মেজর হাফিজ ১১৭ ভোলা ৩ আসন থেকে সাতবার এমপি নির্বাচিত হয়ে যেমন রেকর্ড গড়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়ে তিনি ফের নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন । তিনি দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসেন ; দেশের মানুষও তাঁকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে । এই ভালোবাসাবাসির যথাযথ প্রতিদান দিয়েছেন গণতন্ত্রের ভূমিপুত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান । ভোলার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে তিনি প্রথমে মুক্তিযুদধ বিষয়ক মন্ত্রী বানিয়েছেন, সততা ও যোগ্যতার বাছবিচারে জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনয়ন দিয়ে তিনি একাত্তরের মহান মুক্তিসংগ্রাম এবং সংগ্রামীকে অধিকতর সম্মানিত করেছেন ।্

১২ মার্চ ২০২৬ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার মনোনীত হয়েছেন- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম । বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর হাফিজ গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৯১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াত সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়ে ১১৭ ভোলা ৩ আসন থেকে সপ্তমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যেসব সামরিক কর্মকর্তা জীবন বাজি রেখে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম তাঁদের অন্যতম। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসারির যোদ্ধা, সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্র কর্তৃক সম্মানিত “বীরবিক্রম”, স্বনামধন্য সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং একাধারে একজন লেখক— যাঁর জীবন বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ১৯৪৪ সালে ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নদীবেষ্টিত বাংলার দক্ষিণাঞ্চলের এই অঞ্চলটি ছিল শান্ত–সরল ও প্রকৃতিনির্ভর গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবি।

শৈশবকাল থেকেই তিনি ছিলেন পরিশ্রমী, নিয়মশৃঙ্খলাপরায়ণ এবং আত্মসম্মানে দৃঢ়। তাঁর পারিবারিক পরিবেশ ও সামাজিক বাস্তবতা তাঁকে দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিবেশ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান তাঁর চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশ, জাতি ও রাষ্ট্র নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তখনই সুস্পষ্ট হতে শুরু করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৬৮ সালে তিনি কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অফিসার হিসেবে তার সামরিক জীবনের সূচনা ঘটে। একজন অফিসার হিসেবে তিনি ছিলেন দৃঢ়, কর্তব্যনিষ্ঠ এবং অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ তাঁর নেতৃত্বগুণকে আরও পরিণত করে।
১৯৭১ সাল—বাংলার ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বীরত্বময় অধ্যায়। সেই বছরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্মম গণহত্যা শুরু করলে বাঙালি অফিসাররা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সেই প্রতিরোধযোদ্ধাদের প্রথম সারির একজন ছিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি যখন ভয়াবহ রূপ নিতে থাকে, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন—এই বাহিনীতে থেকে নয়, বরং তাদের বিরুদ্ধে থেকেই যুদ্ধ করবেন। তিনি তাঁর ইউনিটের সৈন্যদের সাথে নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রতিরোধে যুক্ত হন।
পরে তিনি পুর্ব পাকিস্তান প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন এবং বিভিন্ন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন। সিলেট, কানাইঘাট, ধলাই—অসংখ্য যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব ও কৌশলী ভূমিকার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় অর্জন করে।

যুদ্ধের সময় তাঁর অসীম সাহসিকতা, দৃঢ়তা এবং অপার শান্ত–স্বভাবের নেতৃত্বে বহু অপারেশন সফল হয়েছিল। দেশের স্বাধীনতায় অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়—যা মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। স্বাধীনতার পর সামরিক জীবনের পর্ব যুদ্ধ শেষে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। তবে দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, রাষ্ট্র নির্মাণের জটিলতা এবং সমাজ পুনর্গঠনে তাঁর অংশগ্রহণের ইচ্ছা তাঁকে ধীরে ধীরে ভিন্ন পথে ভাবতে বাধ্য করে। সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও সংবেদনশীল ও দূরদর্শী করে তোলে, যা পরবর্তীতে তাঁর রাজনৈতিক পথচলায় কাজে লাগে।

সামরিক জীবন শেষে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পরে যোগ দেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)-তে । অল্প সময়েই তিনি দলের নীতি, সংগঠন ও নেতৃত্বে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন। তিনি ভোলা ৩ আসন থেকে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপি–জোট সরকারের সময়ে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নদীশাসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি ব্যবস্থাপনা—এই সবখাতে তিনি বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেন, যা দেশব্যাপী আলোচিত হয়। তিনি ধীরে ধীরে বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং পরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন—যা বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। রাজনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি গণতন্ত্র, নির্বাচনব্যবস্থা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। সংসদে, গণমাধ্যমে এবং রাজনৈতিক মঞ্চে তিনি সবসময়ই একজন যুক্তিসংগত ও দৃঢ়চেতা বক্তা হিসেবে পরিচিত। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি উপযুক্ত প্রয়োজনে নিজ দল ও নেতৃত্বের সমালোচনা করতেও ছাড়েন না।

তিনি বারবার অকপটে বলেছেন দল ও মার্কা দেখে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত না করে ব্যক্তির যোগ্যতা সততা ও দেশপ্রেম দেখে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা উচিত।  প্রতিবশী দেশের সম্ভাব্য আগ্রাসন থেকে দেশকে বাঁচাতে ছাত্রসমাজকে সামরিক প্রশিক্ষণের বারবার তাগিদ দেন তিনি যা আজ বাংলাদেশের জন্য বাস্তবতা হয়ে দাড়িয়েছে।

রাজনীতিবিদ বা সামরিক কর্মকর্তা—এতেই তাঁর পরিচয় সীমাবদ্ধ নয়। তিনি লেখক হিসেবেও অত্যন্ত প্রভাবশালী। মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা, সামরিক জীবনের নানা স্মৃতি, রাজনীতির জটিলতা ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে তিনি একাধিক বই লিখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
রক্তেভেজা একাত্তর, সৈনিক জীবন : গৌরবের একাত্তর,রক্তাক্ত পঁচাত্তর, গণতন্ত্র রিমান্ডে, গৌরবাঙ্গনে ।
এইসব গ্রন্থে তিনি যুদ্ধের ভয়াবহতা, ত্যাগ এবং মানবিকতার বিজয়কে অত্যন্ত সরল অথচ গভীরভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখার ভাষা সহজ, প্রাঞ্জল এবং বাস্তবতার প্রতি নিষ্ঠ। রাজনীতির অভিজ্ঞতা ও সমকালীন সংকটও তাঁর লেখনীতে বিশেষভাবে ফুটে ওঠে ।
ব্যক্তি মেজর হাফিজ ♦️

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ব্যক্তিজীবনে একজন নম্র, শান্ত ও মানবিক চরিত্রের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি দেশ, মানুষ ও সংগঠন—এই তিনটিকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দু মনে করেন। তাঁর নেতৃত্বগুণ, কৌশলী চিন্তাশক্তি এবং কঠিন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অসংখ্য সৈনিক, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে।

উজ্জ্বল ইতিহাসের বীরযোদ্ধা মেজর হাফিজ ♦️
বীরমুক্তিযোদ্ধা, বীর অফিসার, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, লেখক—এই সব পরিচয়ের সমষ্টিই তাঁকে একজন পূর্ণাঙ্গ “রাষ্ট্রচিন্তক” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁর অবদান, রাজনৈতিক বাস্তবতায় দীর্ঘ পথচলা এবং লেখালেখির মাধ্যমে ইতিহাসকে সংরক্ষণ—সব মিলিয়ে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। তাঁর জীবনপথ নতুন প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয় যে—স্বাধীনতা শুধুই একটি দিনের অর্জন নয়; এটি রক্ষা, লালন এবং সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সাহস, সততা ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজন ।
এদিকে বীরমুক্তিযোদ্ধা মেজর হাফিজ জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনীত হওয়ায় লালমোহন তজুমদ্দিন সহ পুরো দক্ষিণ বাংলায় আনন্দের জোয়ার বইছে ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ