মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হবে : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থানসমূহ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, বিপ্লব উদ্যান, বধ্যভূমি, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র, জিয়া স্মৃতি জাদুঘরসহ মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থান সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হবে।বুধবার দুপুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে নগরীর পাহাড়তলীর জাকির হোসেন রোডে অবস্থিত বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ এর মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নির্মম গণহত্যা চালায়। সে সময় দিকনির্দেশনাহীন একটি জাতিকে চট্টগ্রাম থেকেই সাহস জুগিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার আহবানে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং বিপ্লব উদ্যান এলাকা থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ইতিহাস আমাদের গর্বের অংশ।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। আমরা এখনও সঠিকভাবে জানতে পারিনি কতজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, কতজন শহীদ হয়েছেন। একটি নির্ভুল গেজেট প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভ্রান্ত না হয়।

ডা.শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি এবং অযোগ্য ব্যক্তিরা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছে। যারা প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধ করেছেন, যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে আমরা কাজ করছি। তবে অনেক স্থাপনা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে সিটি কর্পোরেশনও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান এবং শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এসব ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে না পারলে জাতি হিসেবে আমরা দায়মুক্ত হতে পারব না।


এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা সহ বিভাগীয় ও শাখা প্রধানবৃন্দ, কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ ও স্থানীয় জনগণ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আগামী মাসে যুক্ত হচ্ছে আরও ১টি আন্তঃনগর ট্রেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম: ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেনে যাতায়াতের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই রুটে আগামী মাসে আরও একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করা মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন রুটে ট্রেনটি চলাচল শুরু করতে পারে। বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে দুই জোড়া এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে।

এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলোর মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমানে দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করলেও একটি মাত্র রেক দিয়ে চারটি ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে প্রায়ই সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত বিশ্বাস বলেন, কক্সবাজার রুটে বিপুল যাত্রীর চাহিদা রয়েছে। এ কারণে মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত চালানোর প্রস্তুতি চলছে। এতে যাত্রীরা আরও স্বস্তি ও নিরাপদে পর্যটন শহরে যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে রেলওয়ের আয়ও বাড়বে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত সাড়ে ৮টায় ছেড়ে সকাল ৬টার দিকে কক্সবাজার পৌঁছাতে পারে। ফিরতি ট্রেনটি সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। একদিকে যেতে সময় লাগতে পারে প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা। বর্তমানে মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পথে বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও কুমিরাসহ বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি রয়েছে। কক্সবাজার পর্যন্ত রুট বাড়ানো হলে এসব এলাকার যাত্রীরাও সরাসরি পর্যটন নগরীতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।তবে রুট সম্প্রসারণের আগে কক্সবাজারে ট্রেনটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন রুটে চলাচলের সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতাগুলো পর্যালোচনা করছে রেলওয়ে।

নিধারিত ভাড়া না মানলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যবস্থা: ইউএনও

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট না থাকলে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলার সব সিএনজি অটোরিকশায় দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বোয়ালখালী উপজেলা অডিটোরিয়ামে সিএনজির ভাড়া, যাত্রীসেবা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক।

সভায় যাত্রীদের স্বার্থ, চালক ও মালিকদের ন্যায্যতা এবং সিএনজি পরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে সিএনজিতে যাত্রী উঠানামার ভাড়া ৫ টাকা এবং ইউএনও কার্যালয় থেকে ফুলতল পর্যন্ত ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরিহিত কিংবা বৈধ পরিচয়পত্রধারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব গাড়িতে ভাড়ার চার্ট লাগানো নিশ্চিত করতে হবে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ভাড়ার চার্ট না থাকা গাড়ির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় না করা এবং যাত্রীদের সঙ্গে শালীন, ভদ্র ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে চালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, বোয়ালখালীর পাঁচটি স্টেশনে পূর্বের নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হবে। অন্য স্টেশনগুলোর ভাড়া আগের মতোই বহাল থাকবে।

সভায় বোয়ালখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইসহাক চৌধুরী, বিএনপি নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি অধীর বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন দুলালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, এস এম মোদাচ্ছের, বোয়ালখালী সিএনজি অটোরিকশা টেম্পু শ্রমিক ও মালিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. ইদ্রিস, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাবিবুর রহমান, শ্রমিকনেতা আবদুল সাত্তার এবং কালুরঘাট-ফুলতল, শাকপুরা, সিও অফিস, জোটপুকুর, কানুনগোপাড়া, দাশেরদীঘি, বেংগুরাসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি চালক ও সমিতির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যাত্রীবান্ধব, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সিএনজি পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ