আজঃ মঙ্গলবার ২ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগরে হাম-রুবেলা টিকা পাবে ৩ লাখের বেশি শিশু।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে হাম-রুবেলা টিকা পাবে ৩ লাখের বেশি শিশু। বৃহস্পতিবার লালদীঘির পাড়ে চসিক পাবলিক লাইব্রেরি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ তথ্য জানান।

এ সময় মেয়র নগরের শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত মাসব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে বলে জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। বক্তব্য রাখেন, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) শেখ ফজলে রাব্বী, সিভিল সার্জন ড. জাহাঙ্গীর আলম, চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ডা. হোসনে আরা, ডা. তপন কুমার, ডা. খাদিজা আহমেদ, ডা. আব্দুল মজিদ শিকদার, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর ডা. ইমং প্রো চৌধুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ফাহমিদা বেগম।

মেয়র আরো বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয় এবং পরবর্তীতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।তিনি জানান, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন বাদে) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

চসিক সূত্রে জানা যায়, এবারের ক্যাম্পেইনে ৭টি জোনের ৪১টি ওয়ার্ডে মোট ৩ লাখ ৩০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ৪৮টি স্থায়ী টিম, ২০৫টি অস্থায়ী টিম, ৪১টি মপ-আপ টিম এবং ১৪টি সন্ধ্যাকালীন টিকাদান সেশন চালু থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টিকা গ্রহণের জন্য অভিভাবকদের ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে নিবন্ধন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে নিবন্ধন না থাকলেও কোনো শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হবে না। বিশেষ করে বস্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে।

মেয়র আরও জানান, ক্যাম্পেইন সফল করতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতকরণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় সভা, মাইকিং ও গণসচেতনতা কার্যক্রম।

তিনি বলেন, এই কর্মসূচি সফল করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সাংবাদিক, শিক্ষক, ইমাম, পেশাজীবীসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই আমরা একটি সুস্থ, নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে পারবো।
আগামী ২০ এপ্রিল সকাল ১০টায় চসিক জেনারেল হাসপাতাল মিলনায়তনে এ টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শহীদ জিয়ার ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে স্বেচ্ছাসেবক দল চান্দগাঁও থানার দোয়া মাহফিল ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের’ ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে, চট্টগ্রাম মহানগরের নির্দেশে চান্দগাঁও থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাজিদ হাসান রনির সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আসাদুর রহমান টিপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুগ্ম আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হালিম গুড্ডু, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ পারভেজ, সাজ্জাদ হোসেন খাঁন, স্বেচ্ছাসেবক দল চান্দগাঁও থানার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ জহির খাঁন সহ, থানা ও থানার অধীনস্থ ওয়ার্ড সমূহের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সন্ত্রাসীরা যাদেরই আশ্রয়ে থাকুক, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সন্ত্রাসীরা যাদেরই আশ্রয়ে থাকুক না কেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার দুপুর দেড়টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে মতবিনিময় সভায়

সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে কার্যকরভাবে এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক না কেন, তা নির্মূল করতে হবে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে যারা চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস দেখিয়েছে, তাদের আশ্রয়স্থল কোথায় আমরা দেখতে চাই। তাদের সর্বশেষ আস্তানাও আমরা নির্মূল করব।তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, সামরিক বাহিনী ও হেলিকপ্টারসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে অংশ নিয়েছে। প্রায় চার হাজার সদস্যের যৌথবাহিনী এখানে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সব বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে কাজ করবে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা। সন্ত্রাসীরা যাদেরই আশ্রয়ে থাকুক না কেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জঙ্গল সলিমপুর, আলীনগর এবং আশপাশের এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, সরকারি স্থাপনা নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন কারাগার স্থাপনের স্থানও পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসীকে উচ্ছেদ করা হবে না এবং যাদের পুনর্বাসনের প্রয়োজন হবে তাদের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। গণমাধ্যমের প্রতি সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আপনারা যদি সঠিক তথ্য দেন এবং সহযোগিতা করেন, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য তা অত্যন্ত সহায়ক হবে। জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রমুখ।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে চট্টগ্রামের লিংক রোডের পাশে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকা পরিদর্শনে যান। সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি সরজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, এখানকার অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে জঙ্গল সলিমপুরের স্থানীয় প্রকৃত অধিবাসীদের কাউকেই উচ্ছেদ করা হবে না। তাদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সরকার সেই ব্যবস্থা করবে।
তিনি বলেন, এই আলীনগর-জঙ্গল সলিমপুর, এই জায়গাটা আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসীদের এলাকা থাকবে না, অভয়ারণ্য থাকবে না। এর আশেপাশে দুইটা পাহাড় টিলা শ্রেণী আছে-একটা হচ্ছে বেতুয়া আরেকটা চা-বাগান।এই এরিয়াতেও সন্ত্রাসীদের আনাগোনা আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সেখান থেকেও তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাঁড়াশি এবং যৌথ অভিযানের মাধ্যমে, পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে সারা দেশব্যাপী মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া এবং চাঁদাবাজি-এই চারটাকে আমরা অ্যাড্রেস করেছি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে। এগুলোকে আমরা নির্মূল করার চেষ্টা করব এবং তার জন্য আমরা আইনি সংস্কার করছি। কারণ দেখা যায়, ১৮৬৭ সনের জুয়া আইনের মধ্য দিয়ে জুয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না; এখন অনলাইন জুয়া, অফলাইন জুয়া, বিভিন্ন রকমের মডারেট জুয়া এবং বেটিং চালু হয়েছে অনেক বছর আগে থেকে। এগুলোকে আমরা কখনোই আইনিভাবে অ্যাড্রেস করতে পারছি না। কারণ আইনটাই নেই অথবা আইনটাই দুর্বল। সেই আইনটা আমরা আগামী সেশনে পার্লামেন্টে নিয়ে আসার চেষ্টা করব, তাহলে আইনি কাঠামোগতভাবে এগুলোকে আমরা অ্যাড্রেস করব।

তিনি বলেন, একই সাথে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে আমরা যাতে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করতে পারি সেই সংশোধনীটাও আনব। এখানে হাজার হাজার মাদকের মামলা আছে যেগুলো বছরের পর বছর পেন্ডিং হয়ে আছে, সেগুলো নিষ্পত্তি হবে। এইভাবে আমরা আমাদের দেশকে বাঁচাতে পারি, যুব সমাজকে বাঁচাতে পারি।

আর কিশোর গ্যাংয়ের যে উৎপাত হয়েছে সেটার জন্য আমাদের কিছুটা আইনি সংস্কার আনতে হবে। কিশোর গ্যাং বলতে কত বয়স পর্যন্ত তাদেরকে কিভাবে কী সুবিধা দেয়া যায়, কারণ আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে কিশোরদের যে সুবিধা আছে (জুভেনাইল ডিলিনকোয়েন্সি) সেটা তারা নিচ্ছে। এই কিশোররা যারা কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত তারা আক্রমণাত্মক ও ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীতে পরিণত হচ্ছে। সুতরাং এখানে আইনের সংস্কার দরকার আছে।

আলোচিত খবর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান লিখেছেন, আমি দীপেন দেওয়ান, এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি।

আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে।বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির স্বার্থে আমার বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি। উপর্যুক্ত কারণে আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ