আজঃ রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

যোগ্যদের স্বীকৃতি দিতে পেরে গর্বিত” মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাধীনতা পদক–২০২৬ ও সাহিত্য সম্মাননা প্রদান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, স্বাধীনতা বইমেলার সমাপনী দিনে যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। এই সম্মাননার মাধ্যমে সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জাতির প্রতি তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি।


শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম চত্বরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত “স্বাধীনতা বইমেলা চট্টগ্রাম–২০২৬” এর সমাপনী দিনে স্বাধীনতা পদক–২০২৬ ও সাহিত্য সম্মাননা পদক–২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, সম্মাননা প্রদানের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে যোগ্যতার ভিত্তিতেই নির্বাচন করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং তাদের অবদানই ছিল প্রধান বিবেচ্য। ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতিহাসকে বিকৃত করার কোনো সুযোগ নেই এবং দেশের জন্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে। ইতিহাস তার নিজস্ব ধারায় চলবে এবং ইতিহাসবিদরাই তা সংরক্ষণ করবেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির অর্জন শুধু এই অঞ্চলের নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সাতটি বিষয়ে এক্রেডিটেশন অর্জন করেছে এ প্রতিষ্ঠান, যা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে একটি মাইলফলক।একইসঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য নূর আহমেদ চেয়ারম্যানকে সম্মাননা প্রদানের পেছনের যুক্তিও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়া আমাদের একটি দুর্বলতা ছিল, সেখান থেকে বের হয়ে আসতেই আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি।

স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচন করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা অবদানকে মূল্যায়ন করেছি। মরহুম জননেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানকে স্বাধীনতা আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের জাতির ভিত্তি। এই ইতিহাসকে কোনোভাবেই বিকৃত বা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা, সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধে অবদান, সবকিছুই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ সকল ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে তাঁদের যথাযথ মর্যাদায় মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ইতিহাসকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখা উচিত নয়। ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতে চলবে, এবং আমরা সেই সত্যকেই ধারণ করতে চাই। কোনো ধরনের প্রোপাগান্ডা দিয়ে সত্যকে আড়াল করা সম্ভব নয়।

বইমেলার সফল আয়োজন প্রসঙ্গে মেয়র উল্লেখ করেন, এবারের মেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বই বিক্রি হয়েছে, যা পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকাশনা শিল্পকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পেরে সিটি করপোরেশন আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস. এম. নছরুল কদির এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু।

এবার স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননার জন্য মোট আটজন ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়। স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদানের জন্য প্রয়াত রাজনীতিবিদ আবদুল্লাহ আলম নোমান (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একরামুল করিম, শিক্ষাক্ষেত্রে চট্টগ্রাম পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নূর আহমদ চেয়ারম্যান (মরণোত্তর), চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডা. এম. এ. ফয়েজ এবং সাংবাদিকতায় দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক ডা. ম. রমিজ উদ্দিন চৌধুরী সম্মাননায় ভূষিত হন।

এছাড়া ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান, সমাজসেবায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, স্বাস্থ্যসেবায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), সঙ্গীতে শিল্পী আবদুল মান্নান রানা এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় অবদানের জন্য শিল্পী বুলবুল আকতার স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা লাভ করেন।

অন্যদিকে সাহিত্য সম্মাননা পদকের জন্য গীতিকবিতায় ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, শিশু সাহিত্যে সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার, প্রবন্ধ ও গবেষণায় হারুন রশীদ, কবিতায় শাহিদ হাসান এবং কথাসাহিত্যে জাহেদ মোতালেবকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এবং চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ বইমেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। পুরো মেলা জুড়ে পাঠক দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।সমাপনী অনুষ্ঠানে পদক প্রদান ছাড়াও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন টিভি ও বেতারের উপস্থাপিকা নাহিদা নাজু, চসিক স্কুলের শিক্ষিকা রুমিলা বড়ুয়া ও কংকন দাস

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গ্যাস সরবরাহ কম, জ্বালানি সংকট চাকা ঘুরছেনা চট্টগ্রামের ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রের, চরম ভোগান্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে, ফলে ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়, এমনকি দেখা দিয়েছে পানির সংকটও।জ্বালানি সংকটের কারণে এসব বিদ্যাৎকেন্দ্রগুলোর চাকা বন্ধ রয়েছে। যার ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। উৎপাদন কমে আসলেও গরমের কারণ বাড়ছে চাহিদা। ফলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে বাড়ছে ভোগান্তি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বৈশাখ মাসের গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।ফটিকছড়ির ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম বলেন, দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। দোকানে অনলাইনভিত্তিক কাজ করতে হয়। বিদ্যুৎ ছাড়া কাজ করা যায় না। আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।পিডিবির চট্টগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী লোডশেডিং কমবেশি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য। পিডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ১১টায় ১১টি ও সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ছিল শূন্যের কোঠায়। এরমধ্যে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সকাল-সন্ধ্যা উৎপাদনের বাইরে ছিল। এর মধ্যে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সকালে কিছু উৎপাদন মিললেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত নির্ভর করছে কয়েকটি কেন্দ্রের ওপর। সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট, শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে ২১৮ মেগাওয়াট এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামে পার্কিং থেকে গাড়ি চুরি, ১২ ঘণ্টায় উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশ এলাকায় পার্কিং থেকে চুরি হওয়া একটি প্রাইভেটকার ১২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত মো. ইব্রাহিম (৪০) নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইব্রাহিম কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং এলাকায় বসবাস করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৬ এপ্রিল ভোরে পাঁচলাইশ থানাধীন একটি বাসার পার্কিং এলাকা থেকে একটি টয়োটা প্রিমিও প্রাইভেটকার চুরি হয়। গাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এ ঘটনায় ১৭ এপ্রিল পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার পায় মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের উপ-কমিশনার হাবিবুর রহমান জানান, নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পূর্ব নাসিরাবাদ থেকে চুরি হওয়া গাড়িসহ মো. ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা গাড়িটি জব্দ করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা বা এটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাড়ি চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

আলোচিত খবর

সমুদ্রপথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ক্যাডেটরা প্রস্তুত: চট্টগ্রামে নৌ পরিবহনমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেরিটাইম খাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের সক্ষমতা তুলে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ২৮তম ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, শিক্ষা শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য শারীরিক ও মানসিক পূর্ণ বিকাশ।আপনারা শুধু ব্যক্তি নন, আপনারা জাতির সম্পদ। বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে গিয়ে আপনারা বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরবেন, দেশের সক্ষমতা ও স্মার্টনেস প্রদর্শন করবেন।যারা এই কোর্স সম্পন্ন করে সমুদ্রে যাবেন, তারা নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখেছেন। জাহাজ ব্যবস্থাপনা কিংবা নৌ চলাচল-যেখানেই থাকুন না কেন, দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশই জলভাগ, যা একসময় ছিল দুর্গম। তবে আধুনিক বিশ্ব সেই সীমাবদ্ধতা জয় করেছে।

কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, একমাত্র অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা অনেক সময় বেকারত্ব তৈরি করে। এর বিপরীতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেয়। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত মেরিটাইম প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থেকে ইতোমধ্যে হাজারো দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে এই খাত আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের উদ্দেশে তিনি স্বাস্থ্য সচেতনতার কথাও উল্লেখ করেন। দীর্ঘসময় রোদে প্যারেড করার কারণে সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া অনুষ্ঠানে মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন। পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ ও দক্ষতা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ