আজঃ সোমবার ৮ জুন, ২০২৬

কক্সবাজার মন্দিরের সেবায়েতের মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার।

কক্সবাজার প্রতিনিধি :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কক্সবাজার খুরুশকুলে নয়ন দাশ নামে মন্দিরের এক সেবায়েতের মরদেহ পাহাড়ে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের পুলিশ্যাঘোনা এলাকার পাহাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এব্যাপারে কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় মরদেহ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।নয়ন দাশ (৪০) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী এলাকার গোপাল দাশের ছেলে।

তিনি খুরুশকুল সার্বজনীন শ্রী শ্রী শিব কালী মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
নয়ন দাশের স্ত্রী অঞ্জনা শীল বলেন- গত ১৯ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি নয়ন দাশকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে আর ঘরে না ফেরায় তিনি আশপাশের সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে মন্দির থেকে অন্তত ৫০-৬০ গজ দূরে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের জঙ্গলে স্বামীর পরিহিত চাদর জাতীয় কাপড় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এতে নয়নের স্ত্রী অঞ্জনা শীল ধারণা করেন- তার স্বামীর বিপজ্জনক কিছু ঘটেছে। এই আশঙ্কা থেকে তিনি কক্সবাজার সদর থানায় জিডি করেন।

বুধবার সকালে খুরুশকুলের পুলিশ্যাঘোনা এলাকার পাহাড়ে গাছের সঙ্গে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।পুলিশ পরিদর্শক বলেন, মরদেহের শরীরে পচন ধরায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানের চামড়াও উঠে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজের দিনই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জনি ধর বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার ৩ দিন পর পাহাড়ে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নয়ন দাশের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে কারও শত্রুতা না থাকলেও কারা, কী কারণে এ ঘটিয়েছে; এ ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

নিরাপদ কর্মপরিবেশেই প্রকৃত ক্ষমতায়ন সম্ভব: সিএমপি কমিশনার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ালেও প্রকৃত ক্ষমতায়ন আসে নিরাপদ, সম্মানজনক ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই যেন সমতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে জাতির সেবায় নিয়োজিত হতে পারেন, সে পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

রোববার (৭ জুন) নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মেট্রোপলিটন শুটিং ক্লাবে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) ‘কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৭ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ৭০ জন কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন নেতারা অংশ নেন।

কমিশনার হাসান মো. শওকত আলম বলেন, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয় তখনই, যখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব পুলিশ সদস্যের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও সহায়ক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।এমন পরিবেশেই সবাই সমতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকতে পারেন।

বিপিডব্লিউএনের সভাপতি ও পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (লজিস্টিকস) নাসিমা আক্তার বলেন, নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সংগঠনের লক্ষ্য।নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব পুলিশ সদস্যের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দিনব্যাপী কর্মশালায় বিপিডব্লিউএনের প্রতিনিধিরা সংস্থাটির কৌশলগত পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা বিষয়ে বিভিন্ন অধিবেশন পরিচালনা করেন। ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিরা জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনায় জেন্ডার-রেসপনসিভ পুলিশিং, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, সাইবার নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মঘণ্টা, বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। অংশগ্রহণকারী পুলিশ কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সঞ্জয় সরকার ও ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি সাদিয়া তাসনীম প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ইউএন উইমেন ও বিপিডব্লিউএন দীর্ঘদিন ধরে নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করছে। এর মধ্যে জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক সেবা জোরদারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট, জেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ১৭ হাজার ৯৮৮ জন নারী সদস্য কর্মরত রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ