আজঃ সোমবার ৮ জুন, ২০২৬

আবদুল জব্বারের বলীখেলা অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসব :চসিক মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বুধবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি।


নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ১১৭তম আবদুল জব্বারের বলীখেলা। এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা আয়োজনেরও সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকরা। শনিবার বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এ বলীখেলা।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবকদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগর এ বলী খেলার সূচনা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় যুগের পর যুগ ধরে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে। মেলা কমিটির পক্ষ থেকে লালদিঘী মোড়কে জব্বারের মোড় করার দাবি জানানো হয়। আমি ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা মাথা রেখে চত্বরটিকে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়, এবারের ১১৭তম জব্বারের বলীখেলায় উদ্বোধক থাকবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। জব্বারের বলীখেলা ঘিরে ২৪ এপ্রিল থেকে বৈশাখী মেলা শুরু হবে। এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবারের মেলার সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২৬ এপ্রিল রোববার ভোরের মধ্যে মেলা শেষ হবে।

এসময় আরও জানানো হয়, মেলা ও বলীখেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সিএমপি ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন নজরদারি, সোয়াট ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন থাকবে। এছাড়া মেডিক্যাল টিম ও ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল ও সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, বলীখেলার ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে তারা কাজ করছেন। একইসঙ্গে মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান এবং চট্টগ্রামে একটি বলি খেলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলন শেষে লালদিঘী চত্বরে বলি খেলার প্রতিকৃতি সম্বলিত ম্যুরালের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় জব্বারের বলীখেলার প্রবর্তক আব্দুল জব্বারের নামানুসারে চত্বরটির নাম ‘জব্বার চত্বর’ নামকরণ করা হয়েছে। নবনির্মিত ম্যুরালে টেরেকোটার ত্রিভুজ আকৃতির এ চত্বরের একদিকে রাখা হয়েছে বলীখেলার প্রতিকৃতি, একপাশে হাতুরির প্রতিকৃতি দিয়ে ন্যায় বিচারের পীঠস্থান আর অপর পাশে দুই হাতে শেকল ভাঙ্গার প্রতিকৃতি দিয়ে লালদিঘীর ইতিহাস লেখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র সাংবাদিকদের আরো বলেন, আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা আমার কাছে অনুরোধ করেছিল এ চত্বরকে আব্দুল জব্বার চত্বর হিসেবে ঘোষণা করার। আমি তাদের কথা দিয়েছিলাম। আজকে সেটার উদ্বোধন করছি। আমরা এখানে এমন একটি ম্যুরাল নির্মাণ করেছি যা বলিখেলা, বীর চট্টলার সংগ্রামী ঐতিহ্য এবং আদালতে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির চেতনাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে। চট্টগ্রামের এ বলীখেলার ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মকে জানাতে হবে এই ভাবনা থেকে এই ম্যুরালটি নির্মাণ করা হল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে”‘জয় বাংলা’ স্লোগান, গ্রেপ্তার দুই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে চাচাতো বোনের মেহেদী অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল শনিবার (৬ জুন) রাত ১০টার দিকে আরাকান সড়কের আমতল এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দু’জন হলেন হাজী নুরুল হক ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ (২৬) এবং সদস্য মো. রায়হান (২৩)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোমদণ্ডী আলামিয়া টেণ্ডল বাড়িতে অনুষ্ঠিত কনের মেহেদী অনুষ্ঠানে তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর তদন্তের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করা হয়।

পরদিন কনের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত অবস্থায় আমতল এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ছাত্রলীগ সদস্যকে জুলাই আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের জুলহাস এর দ্রুত চিকিৎসা না হলে বাঁচানো সম্ভব নয়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ের জুলহাস উদ্দীন সে দীর্ঘদিন থেকে শারীরিক বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। 
জুলহাস উদ্দীন ৫০ সে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের ঢাঙ্গীপুকুর গুচ্ছগ্রামের মৃত ছামাদ আলীর ছেলে। 

তিনি পেশায় একজন দিন মজুর, গেল এক বছর থেকে বিভিন্ন রোগে ভুগছেন তিনি। নিজস্ব কোন জমি না থাকায় সরকারের আশ্রয়ের প্রকল্পের ঘরে বসবাস করছেন। অসচ্ছলতার কারণে ডাক্তার দেখাতে পারছেন না। টাকার অভাবে ঘরের মধ্যে অসুস্থ অবস্থায় ধুকে ধুকে দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে। পরিবারের অন্য কেউ হাল ধরার মতো নেই আশপাশের মানুষের সহযোগিতায় চলতে হয় তাকে।

গুচ্ছগ্রামের মানুষেরা জানান দীর্ঘদিন থেকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে বিছানায় আছেন দিনমজুরের কাজ করতেন জুলহাস, কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি আর কাজে যেতে পারছেন না। মানুষটিকে বাঁচাতে হলে অর্থের প্রয়োজন তাই সমাজের বৃত্তবান মানুষ ও সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব নয়।এদিকে জুলহাস জানান ডাক্তারের কথা অনুযায়ী তার চিকিৎসার জন্য প্রায় দুই লক্ষ টাকার উপরে প্রয়োজন। যেটা হলে দ্রুত অপারেশন করা সম্ভব হবে। তার কোন কিছুই নেই যেটা বিক্রি করে চিকিৎসা নিবেন। টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না, তাই তিনি সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।সকলের সহযোগিতায় একটি প্রাণ বেঁচে যেতে পারে। কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে এই নাম্বারে 01760918282 যোগাযোগ করতে পারেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ