আজঃ শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬

উপকূলে বাড়ছে বজ্রপাতের তাণ্ডব: জীবন রক্ষায় চাই বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতা

পাইকগাছা খুলনা, প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​দক্ষিণাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত খুলনা জেলার পাইকগাছাসহ উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে এখন বোরো ধান কাটার মহোৎসব চলছে। তবে এই উৎসবের আমেজকে বিষাদে রূপ দিচ্ছে আকাশের ‘অগ্নিঝলক’ বা বজ্রপাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছেন খোলা মাঠে কর্মরত কৃষকরা।

​পাইকগাছার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ এবং লোনা পানির ঘের সংলগ্ন এলাকায় কোনো বড় গাছপালা বা উঁচু স্থাপনা নেই। ফলে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা কৃষকরাই সরাসরি এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা গরম ও আর্দ্র বাতাসের সাথে উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষে এই উপকূলীয় অঞ্চলে মেঘের ঘর্ষণ বেশি হয়, যার ফলে বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা দুই-ই বাড়ছে।

​সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে খুলনা অঞ্চলে দুপুরের পর থেকেই কালবৈশাখী ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। ঠিক এই সময়েই কৃষকরা ধান কাটা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। পাইকগাছার অনেক কৃষকের মতে, হঠাত মেঘ জমলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আগেই বজ্রপাত শুরু হয়ে যায়। কাছাকাছি কোনো পাকা দালান বা উঁচু গাছ না থাকায় তারা চরম জীবনের ঝুঁকিতে থাকেন।

​বজ্রপাত থেকে বাঁচতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ কিছু পরামর্শ , আকাশে ঘন কালো মেঘ বা বিদ্যুৎ চমকানো শুরু করলে দ্রুত পাকা দালান বা টিনের চালের নিচে আশ্রয় নিন, বজ্রপাতের সময় মাছের ঘের, নদী বা খোলা ধানখেত থেকে দ্রুত সরে আসতে হবে, বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়ানো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ,ছাতা বা কাস্তের মতো ধাতব হাতলযুক্ত কোনো কিছু এ সময় ব্যবহার করবেন না, .কাজ করার সময় রাবারের জুতো বা গামবুট ব্যবহার করলে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব, বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।

​বজ্রপাতকে বর্তমানে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। পাইকগাছাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জীবন সুরক্ষায় মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

উপকূলে বাড়ছে বজ্রপাতের তাণ্ডব: জীবন রক্ষায় চাই বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​দক্ষিণাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত খুলনা জেলার পাইকগাছাসহ উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে এখন বোরো ধান কাটার মহোৎসব চলছে। তবে এই উৎসবের আমেজকে বিষাদে রূপ দিচ্ছে আকাশের ‘অগ্নিঝলক’ বা বজ্রপাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছেন খোলা মাঠে কর্মরত কৃষকরা।

​পাইকগাছার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ এবং লোনা পানির ঘের সংলগ্ন এলাকায় কোনো বড় গাছপালা বা উঁচু স্থাপনা নেই। ফলে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা কৃষকরাই সরাসরি এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা গরম ও আর্দ্র বাতাসের সাথে উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষে এই উপকূলীয় অঞ্চলে মেঘের ঘর্ষণ বেশি হয়, যার ফলে বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা দুই-ই বাড়ছে।

​সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে খুলনা অঞ্চলে দুপুরের পর থেকেই কালবৈশাখী ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। ঠিক এই সময়েই কৃষকরা ধান কাটা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। পাইকগাছার অনেক কৃষকের মতে, হঠাত মেঘ জমলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আগেই বজ্রপাত শুরু হয়ে যায়। কাছাকাছি কোনো পাকা দালান বা উঁচু গাছ না থাকায় তারা চরম জীবনের ঝুঁকিতে থাকেন।

​বজ্রপাত থেকে বাঁচতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ কিছু পরামর্শ , আকাশে ঘন কালো মেঘ বা বিদ্যুৎ চমকানো শুরু করলে দ্রুত পাকা দালান বা টিনের চালের নিচে আশ্রয় নিন, বজ্রপাতের সময় মাছের ঘের, নদী বা খোলা ধানখেত থেকে দ্রুত সরে আসতে হবে, বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়ানো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ,ছাতা বা কাস্তের মতো ধাতব হাতলযুক্ত কোনো কিছু এ সময় ব্যবহার করবেন না, .কাজ করার সময় রাবারের জুতো বা গামবুট ব্যবহার করলে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব, বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।

​বজ্রপাতকে বর্তমানে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। পাইকগাছাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জীবন সুরক্ষায় মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

পারিবারিক কলহ ও বকাঝকা করায় যশোরে শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পারিবারিক কলহ ও বকাঝকা করায় যশোরে শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুত্রবধূ মরিয়ম বেগমকে (২০) আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতয়ালি থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এ তথ্য জানান।পুলিশ জানায়, যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত সকিনা বেগম (৬০) লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী এবং ওই এলাকার বাসিন্দা।

আলোচিত খবর

দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো ইস্টার্ন রিফাইনারি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। শুক্রবার সকাল ৮ থেকে চট্টগ্রামের এই শোধনাগারটিতে পুনরায় পরিশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরীফ হাসনাত বলেন, কুতুবদিয়ায় অবস্থানরত ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। এর পরপরই চালু করা হয় শোধনাগারটি।ইআরএল সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছায়নি। ফলে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে বুধবার দুপুরে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছায়। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি বাংলাদেশে আসে। ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়তে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকারে তেল খালাস করে পতেঙ্গার ইআরএলে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়াকে লাইটারিং বলা হয়।এদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা বিপিসির এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের বাকি জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলেরও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ