আজঃ বুধবার ১৩ মে, ২০২৬

সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।তিনি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে। পরে স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৬৬ সালে লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইনিং

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।লাহোরে অধ্যয়নকালেই তিনি ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এম এ আজিজের হাত ধরে।
১৯৭০ সালে প্রথমবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে তিনি মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে চট্টগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে শুভপুর সেতু উড়িয়ে দেওয়ার অভিযানে নেতৃত্ব দেন তিনি। পরে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গেরিলা অভিযানে অংশ নেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালেও তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।দলীয় রাজনীতিতে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তার পিতা এস রহমান ছিলেন তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তিনি চট্টগ্রামে ‘ওরিয়েন্ট বিল্ডার্স কর্পোরেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং কক্সবাজারে ১৯৬৪ সালে ‘হোটেল সায়মন’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনও পরবর্তীতে পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৮৩ সালে তিনি ‘গ্যাসমিন লিমিটেড’ নামে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ও কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এছাড়া তিনি ‘দ্য পেনিনসুলা চিটাগাং’ হোটেলের চেয়ারম্যান ছিলেন।


রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার হামলা ও নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ১৯৮০ সালে চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় হামলায় তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি শেখ হাসিনার মিছিলে পুলিশের গুলিতে আহত হন। ১৯৯২ সালে ফটিকছড়িতে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন।ব্যক্তিজীবনে স্ত্রী আয়েশা সুলতানার সঙ্গে সংসার জীবন কাটিয়েছিলেন তিনি। তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের ১৬ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত নেই ‘অ্যান্টিভেনম’, মৃত্যু বাড়ছে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে প্রকৃতিতে বনাঞ্চল ও কৃষিজমি কমে আসায় সাপের আশ্রয়স্থলগুলো ধ্বংস হচ্ছে দিনকে দিন। মানুষ ও সাপের মধ্যে বাড়ছে সংঘাত। সেই সংঘাতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মারা পড়ছে সাপ; কিছু ক্ষেত্রে সাপের ছোবলের শিকার হচ্ছে মানুষ। ধীরে ধীরে বিষধর সাপের সংখ্যা কমে এলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো ছয় প্রজাতির বিষধর সাপের বসবাস আমাদের চারপাশে। এই বাস্তবতা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১৬ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকে না সাপের কামড়ের প্রধান ওষুধ ‘অ্যান্টিভেনম’।

বাধ্য হয়ে সাপে কাটা রোগী নিয়ে স্বজনদের ছুটতে হয় জেলা সদর বা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে। এতে পথেই মৃত্যু হয় অনেক রোগীর। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায়ও এমন পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় সাপে কাটা রোগীদের মৃত্যু দিন দিন বাড়ছে। কেবল গত বছর সাপের কামড়ে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ গত সোমবরা চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আবারও সাপের কামড়ে মো. আয়াত নামে আড়াই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সাপে কামড়ানোর পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পথেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের তৈয়্যবিয়াপাড়ায় ওই দিন সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়াত ওই এলাকার মো. রবিউল হোসেনের ছেলে।
নিহত শিশুর চাচা মুহাম্মদ শওকত বলেন, সাপে কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা মোটরসাইকেলে করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানে রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নষ্ট করা হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এটি চিকিৎসকদের চরম অবহেলা। সময়মতো অ্যান্টিভেনম না দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল আলম বলেন, ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে চিকিৎসকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদ ও পাহাড়ি এলাকায় বিষধর সবুজ বোড়া বা গ্রিন পিট ভাইপার এবং বসতবাড়ির আশেপাশে ও ঝোপঝাড়ে পদ্মগোখরা ও রাজগোখরার উৎপাত রয়েছে। বিষধর ও শান্ত স্বভাবের শঙ্খিনী এবং গ্রামীণ এলাকায় ঘাতক হিসেবে পরিচিত কালাচ সাপও দেখা গেছে। এসব বিষধর সাপের কামড়ে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা, বোয়ালখালী, বাঁশখালী, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশসহ বিভিন্ন উপজেলায় মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।

একসময় সাপে কাটলে গ্রামের কবিরাজ, বৈদ্য কিংবা ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সচেতন হচ্ছে মানুষ। এখন সাপে কাটা বেশিরভাগ রোগীকে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটতম সরকারি হাসপাতালে। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মিলছে না যথাযথ চিকিৎসা। ফলে আহত রোগীকে নিয়ে ছুটতে হয় চট্টগ্রাম শহরে। যেখানে পৌঁছাতেই লাগে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা। এই দীর্ঘ সময়ে পথেই প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে।
চিকিৎসকরা মনে করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য

কমপ্লেক্সগুলোতে দ্রুত অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসা পেয়ে জীবন রক্ষা করতে পারবেন।
ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা জানান, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত কাছের হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায় না। পরে চট্টগ্রাম শহরে নেওয়ার পথে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়, অনেক সময় মৃত্যু ঘটে।

এদিকে বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা জানান, অ্যান্টিভেনম সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন উদ্দিন বলেন, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। উপজেলা পর্যায়ে এ গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ পর্যাপ্ত না থাকায় আমরা বিড়ম্বনায় পড়ি। গত এক বছরে আনোয়ারায় সাপের কামড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার আরো বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সবসময় চাহিদা পূরণ হয় না। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি উপজেলায় এক থেকে দুই ডোজ করে সরবরাহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
চন্দনাইশ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা বলেন, আমাদের কাছে বর্তমানে দুই ডোজ অ্যান্টিভেনম রয়েছে। যা দিয়ে দুইজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে গত বছর সাপে কাটায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের ৫ আগস্ট বোয়ালখালী উপজেলায় সাপের কামড়ে মারা যান আরমান তালুকদার (২১) নামে এক যুবক। তিনি উপজেলার দক্ষিণ কড়লডেঙ্গা গ্রামের তালুকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ভুক্তভোগী ওই রাতে ঘরে শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। এ সময় জানালার পাশে রাখা পায়ে কামড় দেয় সাপ। মোবাইলে ব্যস্ত থাকায় তিনি তা টের পাননি। পরে অসুস্থ বোধ করলে বিষয়টি বুঝতে পারেন। তাকে দ্রুত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই বছরের ৩১ আগস্ট চন্দনাইশ উপজেলার বরকল ইউনিয়নে সাপের কামড়ে যোহরা আক্তার (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর সেখানে অ্যান্টিভেনম না থাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমকে) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে বাঁশখালী উপজেলায় গত বছরের ১১ অক্টোবর সাপের কামড়ে মোতাহেরা বেগম (৩৫) নামে এক স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু হয়। তিনি বাহারছড়া আইডিয়াল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। সাপে কাটার পর স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানেও অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়নি। পরে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, সাপে কাটার রোগীদের অনেকেই দেরিতে হাসপাতালে আসেন। আবার উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক সময় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। দ্রুত অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করা গেলে অনেক প্রাণ রক্ষা সম্ভব।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, খুব শিগগিরই ঢাকা থেকে সরবরাহ আসবে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। তবে এই ভ্যাকসিন অত্যন্ত দামি হওয়ায় চাহিদা মতো জোগান নিশ্চিত করা একটি বড় সীমাবদ্ধতা। এক ডোজ ভ্যাকসিনের দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। অনেক ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে এটি কিনতেও পাওয়া যায় না। বর্তমানে ইনসেপটা কোম্পানিই এটি তৈরি ও বিপণন করছে। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে না পারায় সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

এ ছাড়া উচ্চ মূল্যের কারণে ১ থেকে ২ ডোজের বেশি মজুত রাখার সক্ষমতাও অনেক হাসপাতালে নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উপজেলা পরিষদের কাছেও চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এরপরও সংকটকালীন সময়ে হাতে অ্যান্টিভেনম না থাকায় রোগীর মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক।

চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন।

মঙ্গলবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি (SAIDA Shinichi) এর সাথে মতবিনিময় কালে এ কথা বলেন তিনি। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে অবস্থিত জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব জনাব মোচিদা ইউতারো (MOCHIDA Yutaro) ও ফুজিমোতো সাওরি (FUJIMOTO Saori)।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে জাপানের সহায়তায় চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যত সহযোগিতার নানা ক্ষেত্র তুলে ধরেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী।

এসময় স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, “বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে যে সমস্যাগুলো প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। চট্টগ্রাম শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক এবং পরিবেশসম্মত না হওয়ায় পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।”
“জাপান এক্ষেত্রে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত। সেই জন্য আমরা আমাদের ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনার জন্য জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে নানামুখী কার্যক্রম চালাচ্ছি। এক্ষেত্রে জাইকাও দারুণ ভূমিকা রাখছে। আমরা চাই চট্টগ্রাম শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে জাপান আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সহায়তা করুক।

চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চেয়ে মেয়র বলেন, “চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে, বিশেষ করে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তরে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুরো নগরী জুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মেট্রোরেল নির্মাণ এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের মতো নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা, যেমন ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে জাপান আমাদের সহায়তা করতে পারে।

জবাবে রাষ্ট্রদূূত সাইদা শিনিচি বলেন, চট্টগ্রাম অত্যন্ত সম্ভাবনাময় নগরী। চট্টগ্রামের উন্নয়নে জাপানের সহায়তায় যেসব প্রকল্প চলছে তা চট্টগ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে আরো নানা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে জাপান।
সভায় প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা চট্টগ্রাম শহরের বর্তমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি এবং এক্ষেত্রে মান উন্নয়নে জাপান কী ধরনের সহায়তা করতে পারে তা তুলে ধরেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা অবকাঠামো তুলে ধরে শিক্ষার মান উন্নয়নে চলমান কার্যক্রম এবং জাপানের সম্ভাব্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ