চট্টগ্রামের ১৬ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত নেই ‘অ্যান্টিভেনম’, মৃত্যু বাড়ছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

ফের সাপের কামড়ে প্রাণ গেল শিশুর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে প্রকৃতিতে বনাঞ্চল ও কৃষিজমি কমে আসায় সাপের আশ্রয়স্থলগুলো ধ্বংস হচ্ছে দিনকে দিন। মানুষ ও সাপের মধ্যে বাড়ছে সংঘাত। সেই সংঘাতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মারা পড়ছে সাপ; কিছু ক্ষেত্রে সাপের ছোবলের শিকার হচ্ছে মানুষ। ধীরে ধীরে বিষধর সাপের সংখ্যা কমে এলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো ছয় প্রজাতির বিষধর সাপের বসবাস আমাদের চারপাশে। এই বাস্তবতা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১৬ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকে না সাপের কামড়ের প্রধান ওষুধ ‘অ্যান্টিভেনম’।

বাধ্য হয়ে সাপে কাটা রোগী নিয়ে স্বজনদের ছুটতে হয় জেলা সদর বা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে। এতে পথেই মৃত্যু হয় অনেক রোগীর। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায়ও এমন পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় সাপে কাটা রোগীদের মৃত্যু দিন দিন বাড়ছে। কেবল গত বছর সাপের কামড়ে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ গত সোমবরা চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আবারও সাপের কামড়ে মো. আয়াত নামে আড়াই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সাপে কামড়ানোর পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পথেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের তৈয়্যবিয়াপাড়ায় ওই দিন সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়াত ওই এলাকার মো. রবিউল হোসেনের ছেলে।
নিহত শিশুর চাচা মুহাম্মদ শওকত বলেন, সাপে কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা মোটরসাইকেলে করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানে রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নষ্ট করা হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এটি চিকিৎসকদের চরম অবহেলা। সময়মতো অ্যান্টিভেনম না দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল আলম বলেন, ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে চিকিৎসকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদ ও পাহাড়ি এলাকায় বিষধর সবুজ বোড়া বা গ্রিন পিট ভাইপার এবং বসতবাড়ির আশেপাশে ও ঝোপঝাড়ে পদ্মগোখরা ও রাজগোখরার উৎপাত রয়েছে। বিষধর ও শান্ত স্বভাবের শঙ্খিনী এবং গ্রামীণ এলাকায় ঘাতক হিসেবে পরিচিত কালাচ সাপও দেখা গেছে। এসব বিষধর সাপের কামড়ে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা, বোয়ালখালী, বাঁশখালী, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশসহ বিভিন্ন উপজেলায় মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।

একসময় সাপে কাটলে গ্রামের কবিরাজ, বৈদ্য কিংবা ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সচেতন হচ্ছে মানুষ। এখন সাপে কাটা বেশিরভাগ রোগীকে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটতম সরকারি হাসপাতালে। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মিলছে না যথাযথ চিকিৎসা। ফলে আহত রোগীকে নিয়ে ছুটতে হয় চট্টগ্রাম শহরে। যেখানে পৌঁছাতেই লাগে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা। এই দীর্ঘ সময়ে পথেই প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে।
চিকিৎসকরা মনে করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য

কমপ্লেক্সগুলোতে দ্রুত অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসা পেয়ে জীবন রক্ষা করতে পারবেন।
ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা জানান, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত কাছের হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায় না। পরে চট্টগ্রাম শহরে নেওয়ার পথে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়, অনেক সময় মৃত্যু ঘটে।

এদিকে বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা জানান, অ্যান্টিভেনম সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন উদ্দিন বলেন, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। উপজেলা পর্যায়ে এ গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ পর্যাপ্ত না থাকায় আমরা বিড়ম্বনায় পড়ি। গত এক বছরে আনোয়ারায় সাপের কামড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার আরো বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সবসময় চাহিদা পূরণ হয় না। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি উপজেলায় এক থেকে দুই ডোজ করে সরবরাহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
চন্দনাইশ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা বলেন, আমাদের কাছে বর্তমানে দুই ডোজ অ্যান্টিভেনম রয়েছে। যা দিয়ে দুইজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে গত বছর সাপে কাটায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের ৫ আগস্ট বোয়ালখালী উপজেলায় সাপের কামড়ে মারা যান আরমান তালুকদার (২১) নামে এক যুবক। তিনি উপজেলার দক্ষিণ কড়লডেঙ্গা গ্রামের তালুকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ভুক্তভোগী ওই রাতে ঘরে শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। এ সময় জানালার পাশে রাখা পায়ে কামড় দেয় সাপ। মোবাইলে ব্যস্ত থাকায় তিনি তা টের পাননি। পরে অসুস্থ বোধ করলে বিষয়টি বুঝতে পারেন। তাকে দ্রুত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই বছরের ৩১ আগস্ট চন্দনাইশ উপজেলার বরকল ইউনিয়নে সাপের কামড়ে যোহরা আক্তার (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর সেখানে অ্যান্টিভেনম না থাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমকে) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে বাঁশখালী উপজেলায় গত বছরের ১১ অক্টোবর সাপের কামড়ে মোতাহেরা বেগম (৩৫) নামে এক স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু হয়। তিনি বাহারছড়া আইডিয়াল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। সাপে কাটার পর স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানেও অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়নি। পরে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, সাপে কাটার রোগীদের অনেকেই দেরিতে হাসপাতালে আসেন। আবার উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক সময় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। দ্রুত অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করা গেলে অনেক প্রাণ রক্ষা সম্ভব।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, খুব শিগগিরই ঢাকা থেকে সরবরাহ আসবে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। তবে এই ভ্যাকসিন অত্যন্ত দামি হওয়ায় চাহিদা মতো জোগান নিশ্চিত করা একটি বড় সীমাবদ্ধতা। এক ডোজ ভ্যাকসিনের দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। অনেক ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে এটি কিনতেও পাওয়া যায় না। বর্তমানে ইনসেপটা কোম্পানিই এটি তৈরি ও বিপণন করছে। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে না পারায় সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

এ ছাড়া উচ্চ মূল্যের কারণে ১ থেকে ২ ডোজের বেশি মজুত রাখার সক্ষমতাও অনেক হাসপাতালে নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উপজেলা পরিষদের কাছেও চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এরপরও সংকটকালীন সময়ে হাতে অ্যান্টিভেনম না থাকায় রোগীর মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নিধারিত ভাড়া না মানলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যবস্থা: ইউএনও

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট না থাকলে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলার সব সিএনজি অটোরিকশায় দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বোয়ালখালী উপজেলা অডিটোরিয়ামে সিএনজির ভাড়া, যাত্রীসেবা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক।

সভায় যাত্রীদের স্বার্থ, চালক ও মালিকদের ন্যায্যতা এবং সিএনজি পরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে সিএনজিতে যাত্রী উঠানামার ভাড়া ৫ টাকা এবং ইউএনও কার্যালয় থেকে ফুলতল পর্যন্ত ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরিহিত কিংবা বৈধ পরিচয়পত্রধারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব গাড়িতে ভাড়ার চার্ট লাগানো নিশ্চিত করতে হবে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ভাড়ার চার্ট না থাকা গাড়ির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় না করা এবং যাত্রীদের সঙ্গে শালীন, ভদ্র ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে চালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, বোয়ালখালীর পাঁচটি স্টেশনে পূর্বের নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হবে। অন্য স্টেশনগুলোর ভাড়া আগের মতোই বহাল থাকবে।

সভায় বোয়ালখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইসহাক চৌধুরী, বিএনপি নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি অধীর বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন দুলালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, এস এম মোদাচ্ছের, বোয়ালখালী সিএনজি অটোরিকশা টেম্পু শ্রমিক ও মালিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. ইদ্রিস, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাবিবুর রহমান, শ্রমিকনেতা আবদুল সাত্তার এবং কালুরঘাট-ফুলতল, শাকপুরা, সিও অফিস, জোটপুকুর, কানুনগোপাড়া, দাশেরদীঘি, বেংগুরাসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি চালক ও সমিতির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যাত্রীবান্ধব, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সিএনজি পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

ফরিদা ইয়াসমিন চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন মিরসরাই থানার ফরিদা ইয়াসমিন। এর আগেও তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছিলেন। অপরাধ দমন ও মাদক উদ্ধারে বিশেষ অবদানের জন্য মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় পুলিশ সুপার মাসুদ আলম তার হাতে শ্রেষ্ঠ ওসির পুরস্কার তুলে দেন।

পুলিশ জানায়, ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত মিরসরাই থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রথম নারী ওসি ফরিদা ইয়াসমিন অপরাধ দমন এবং মাদক উদ্ধার অভিযানে সাফল্য দেখিয়েছেন।এছাড়াও ডাকাতির মালামাল উদ্ধার ও আসামী গ্রেফতার, হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য তাকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ছাড়াও জেলার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওসি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, এই সম্মাননা মিরসরাই থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ