রূপগঞ্জে প্রবাসী হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

মাহাবুবুর রহমান রনি রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়নের টাওরা গ্রামের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মাসুম মিয়া (২৫) হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। গতকাল ১ জুন সোমবার বিকেলে উপজেলার ভোলাবো – টাওরা সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে নিহত মাসুমের পরিবারের সদস্য , স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেয়।
মানববন্ধন পূর্বক সভায় বক্তব্য রাখেন নিহত মাসুমের মা সৌদি প্রবাসী নারগিস আক্তার, নানী খোশে আক্তার, বন্ধু রমজান হোসেন, ভোলাবো ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, যুবদল নেতা আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টাওরা পশ্চিমপাড়া এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে সৌদি প্রবাসী মাসুম মিয়া পাঁচদোনা থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশের দাবিকৃত আর্থিক সুবিধা না দেওয়ায় এখনও মাসুম মিয়া হত্যা মামলার কোন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়নি। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা টাওরা গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রূপগঞ্জ থানার নাজমুল হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সৌদি প্রবাসী মাসুম মিয়া হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

উল্লেখ্য গত ৩০মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় মাসুম মিয়া ও তার বন্ধু রমজান হোসেন মোটরসাইকেলে পাঁচদোনা থেকে বাড়ি ফেরার পথে টাওরা মধ্যপাড়া কামরানের দোকানের সামনে প্রথমে বাঁশ দিয়ে তাদের আঘাত করে। পরে মাসুম মিয়া মাটিতে লুটে পড়লে রাজু মিয়া ও তার সহযোগীরা উপর্যপুরী কুপিয়ে জখম করে। রমজান হোসেনকেও কুপিয়ে জখম করে। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাতে তার মৃত্যু হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এনজিও সংস্থা আইএসএসডির খাদ্য সহায়তা পেলেন চট্টগ্রামের চার উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলায় টানা এক সপ্তাহের ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকের বসতঘর, গবাদিপশু, পুকুর ও মৎস্য প্রকল্প, বীজতলা এবং গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হঠাৎ এই দুর্যোগে বহু পরিবার তাদের সহায়-সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এমন পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইডিয়াল স্টেপস ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (আইএসএসডি)। সংস্থাটি গত কয়েকদিন ধরে চার উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শুকনো খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিচালিত এ কার্যক্রমে দুর্গত পরিবারের হাতে চাল, ডাল, তেল, আলু, মুড়ি, বিস্কুট, বিশুদ্ধ পানিসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে।

আইএসএসডির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, “দেশের চলমান ভয়াবহ বন্যায় অসংখ্য মানুষ সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অনেকের ঘরবাড়ি এখনো পানির নিচে থাকায় তারা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “গত এক দশক ধরে দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য, বস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে আসছে আইএসএসডি। এবারও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বিশেষ করে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আন্তরিক সহযোগিতা, দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ আমাদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। এজন্য সংস্থার পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”

তিনি জানান, বন্যার পানি পুরোপুরি না নামা এবং দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আইএসএসডির মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনেও সংস্থাটি সহযোগিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, ত্রাণসামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা আইএসএসডির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, বন্যায় ঘরবাড়ি ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খাদ্যসংকটে পড়েছিলেন। এমন সংকটময় সময়ে আইএসএসডির এই সহায়তা তাদের জন্য অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

স্থানীয়দের আশা, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও বেসরকারি সংস্থার এমন মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকলে বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে যাত্রীর কাছে মিলল সাড়ে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা স্বর্ন উদ্ধার করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। সোমবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে দুবাই থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে বিমানবন্দরে পৌঁছান যাত্রী মোহাম্মদ শহীদুল আলম চৌধুরী। কাস্টমসের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা তাকে তল্লাশি করে ২ দশমিক ১৬ কেজি গলিত স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে। আটক যাত্রীর বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, তল্লাশির সময় যাত্রীর পায়জামার বেল্টের অংশ এবং অন্তর্বাসের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা গলিত স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ২ দশমিক ১৬ কেজি। উদ্ধার করা স্বর্ণ বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার এবং গলিত স্বর্ণসহ বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে এনএসআই, ডিজিএফআই, কাস্টমস গোয়েন্দা, বিমানবন্দর কাস্টমস ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সমন্বিতভাবে নজরদারি জোরদার করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক স্পিকার, সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার
ইন্তেকাল করেছেন।ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।l

আজ রোববার ১২ জুলাই ফজরের সময় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৯৫ বছর। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনজীবী জীবনে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, আইন অঙ্গন এবং জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ