জুলাই আন্দোলন ছিল দীর্ঘদিনের জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ

প্রেস রিলিজ

জুলাই ঐক্যে ফাটল ধরলে ক্ষতি হবে সবার- পুলিশ সুপার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


জুলাই আন্দোলন ছিল দীর্ঘদিনের জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই একটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর নয়, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের। তাই এর অর্জন রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এই ঐক্যে ফাটল ধরলে ক্ষতি হবে সবার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জুলাই আন্দোলনে শহীদ চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকবর, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও ওমর ফারুকসহ সব শহীদের স্মরণে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ। এর আগে, সকালে জুলাই বিপ্লবে সকল শহীদদের স্মরণে কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাসুদ আলম বলেন, গত বছরের ১৬ জুলাইয়ের আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। ওই বক্তব্যের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তীব্র প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের স্লোগানও পরিবর্তিত হতে থাকে। ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকবর, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও ওমর ফারুক নিহত হওয়ার পর আন্দোলনের গতি আরও বেড়ে যায়।

পুলিশ সুপার বলেন, শুরুতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন হলেও ধীরে ধীরে বদলে যায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ২৩ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলন চললেও একপর্যায়ে তা সাময়িকভাবে থেমে যায়।


পরে আন্দোলন ঢাকার ডিবি কার্যালয়ের ‘ভাতের হোটেল’ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সেখান থেকে ১ আগস্ট আবারও আন্দোলন রাজপথে ফিরে আসে। এরপর সারা দেশে আন্দোলনে ব্যাপক গতি-প্রকৃতিতেও পরিবর্তন আসে। তখন আন্দোলন আর শুধু কোটা ইস্যুতে সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি এক দফার দাবির আন্দোলনে পরিণত হয়।

জুলাই আন্দোলনের চেতনা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের আঁকা দেয়ালচিত্র ও গ্রাফিতিতে নতুন প্রজন্মের ভাবনা প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন দুটি গ্রাফিতির লেখা- ‘যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ’ এবং ‘যদি রুখে দাঁড়াও, তুমি বাংলাদেশ’। এসব স্লোগান গবেষণার বিষয় হতে পারে।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতা যে ঐক্য ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে। তিনি বলেন, শহীদদের স্মরণ করা শুধু দায়িত্ব নয়, তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নেও সবাইকে কাজ করতে হবে। জুলাইয়ের যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা রক্ষার দায়িত্ব সবার।

এসময় বক্তব্যে রাখেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক (সিএমইউজে) ও টাইম অব বাংলাদেশ পত্রিকার চট্টগ্রামের আবাসিক সম্পাদক সালে নোমান,

প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ডেইজি মওদুদ, যুগ্ম সম্পাদক ও বাসসের বিশেষ প্রতিনিধি মিয়া মো. আরিফ, অর্থ সম্পাদক ও এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি আবুল হাসনাত, প্রেস ক্লাবের গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক মো. রুবেল খান, একাত্তর টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ও কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী, দৈনিক ইনকিলাবের ডেপুটি ব্যুরো প্রধান ও কার্যকরী সদস্য রফিকুল ইসলাম সেলিম, এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার ও কার্যকরী সদস্য আরিচ আহমেদ শাহ,

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক চট্টগ্রামের সমন্বয়ক আরিফ মঈনুদ্দিন ও সাবেক সমন্বয়ক রিদুয়ান সিদ্দিকী, কালের কণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রির্পোটার ফারুক মনির, সকালবেলা পত্রিকার ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ইমরান এমি, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার স্টাফ রির্পোটার জোবাইর চৌধুরী এবং আমার দেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এম কে মনির।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

তিন সন্তান নিয়ে অটোরিকশার হ্যান্ডেলে ইয়াসমিন, পাশে দাঁড়ালেন ডিসি জাহিদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্বামী মো. শাহিন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অসুস্থ। কাজ করার সামর্থ্য নেই। ঘরে তিন শিশু সন্তান। স্বামীর চিকিৎসা থেকে শুরু করে সন্তানদের ভরণপোষণ ও পড়াশোনা—সবকিছুর দায়িত্ব এসে পড়ে ইয়াসমিন আক্তারের কাঁধে।

কিন্তু অসহায় হয়ে বসে থাকেননি ইয়াসমিন। সংসারের হাল ধরতে ভাড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে নিজেই নেমেছেন রাস্তায়। তিন সন্তানকে নিয়েই অটোরিকশা চালিয়ে কোনোরকমে সংসার চালাচ্ছেন। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্বামীর চিকিৎসা, সন্তানদের ভরণপোষণ ও সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় একসঙ্গে মেটানো তাঁর পক্ষে ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে ইয়াসমিনের জীবনসংগ্রামের খবর পৌঁছায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে। বুধবার জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে ইয়াসমিন নিজেই অটোরিকশা চালিয়ে হাজির হন। জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন নিজের লড়াইয়ের কথা।

ইয়াসমিনের কথা শুনে প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের শ্রমে সংসার চালানোর চেষ্টার প্রশংসা করেন জেলা প্রশাসক। সন্তানদের পড়াশোনা কোনোভাবেই বন্ধ না করার পরামর্শ দেন তিনি। ইয়াসমিনের সংগ্রামের প্রতি সম্মান জানাতে নিজের কার্যালয় থেকে নিচে নেমে তাঁর অটোরিকশার পাশে দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন জেলা প্রশাসক।

তিনি ইয়াসমিনকে বলেন, ‘এত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তুমি কারও কাছে হাত পাতোনি, কারও কাছে ছোট হওনি। তুমি নিজেই একটা অটো নিয়েছো, অটো নিয়ে পরিশ্রম করে চলছো—এটা খুবই ভালো।’

উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি ইয়াসমিনের স্বামীর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন জেলা প্রশাসক। তাঁকে চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্যসামগ্রী ও কিছু উপহারও দেওয়া হয়। সন্তানদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতেও উৎসাহ দেন তিনি।

সহায়তা পেয়ে ইয়াসমিন বলেন, ‘আমার তিনটা ছেলে আছে। তিনটা ছেলেকে নিয়ে খাচ্ছি। উনি আমাকে চাল দিয়েছেন, কিছু টাকা-পয়সাও দিয়েছেন।’

ইয়াসমিন একা নন

এদিন জেলা প্রশাসকের গণশুনানির টেবিলে ইয়াসমিনের মতো আরও অনেক মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প উঠে আসে। কেউ ক্যানসারের চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না, কারও প্রয়োজন সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস। কেউ প্যারালাইসিসে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, আবার কেউ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেও অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

তাঁদের কথা শুনে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করেন জেলা প্রশাসক। এদিন অসুস্থ ও অসহায় ১০ জন এবং একজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল একজনকে দেওয়া হয় চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ ও মসলাসহ খাদ্যসামগ্রী।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাঁর বাবা দিনমজুর। পাঁচ সদস্যের পরিবারের খরচের পাশাপাশি ওমরের পড়াশোনা, যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও অর্থাভাবে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় সহায়তার আবেদন করেন তিনি। তাঁর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

ইফফাত জাহান ইশা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত। সপ্তাহে তিনবার তাঁকে ডায়ালাইসিস করাতে হয়। পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপেও ভুগছেন। তাঁর বাবা আবদুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন। মেয়ের নিয়মিত চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি সহায়তা চান।

কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত মো. নাজমুল হুদার অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে কেমোথেরাপি চলছে। পাশাপাশি মৃগীরোগের চিকিৎসাও নিচ্ছেন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় কেমোথেরাপি চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাঙ্গুনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল শুকুর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতা ও পঙ্গুত্বজনিত সমস্যায় ভুগছেন। নিয়মিত আয়ের উৎস না থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

প্যারালাইসিসে থেমেছে উপার্জন

বাঁশখালীর মো. আবু তাহের প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। শরীরের বাঁ পাশ অবশ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা বা কাজ করতে পারেন না। উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

পটিয়ার আজিজুল হক পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও তিন ছেলে নিয়ে তাঁর সংসার। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের ভরণপোষণ ও নিজের চিকিৎসা—দুটিই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

একই এলাকার আবুল কাসেম চোখের রোগে আক্রান্ত। তাঁর অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা প্রয়োজন। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে তিনিও সহায়তার আবেদন করেন।

পারুল বেগমের স্বামী বহু বছর ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। তাঁর এক সন্তান প্রতিবন্ধী। পারুল নিজেও কিডনি ও লিভারের সমস্যায় ভুগছেন। পরিবারের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তাঁকে ভিক্ষাবৃত্তি করতে হচ্ছে বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন।

মর্জিনা বেগমের স্বামীর হৃদ্‌যন্ত্রে অস্ত্রোপচার হয়েছে। চার মাস ধরে তিনি কাজ করতে পারছেন না। দুই মেয়ে ও এক ছেলের পরিবারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

হালিশহরের রোকছানা বেগমের স্বামী মারা গেছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় আগে। এরপর থেকে ছয় সন্তানকে নিয়ে একাই সংসার চালিয়ে আসছেন। সন্তানদের ভরণপোষণ করতে না পেরে তিনিও আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন।

শুনলেন ২১ জনের কথা

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টায় শুরু হওয়া গণশুনানিতে সরাসরি ২১ জন সেবাপ্রত্যাশী অংশ নেন। চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি জমিজমা, সম্পত্তি জবরদখলসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন। অনলাইনে একজন প্রবাসীও যুক্ত হয়ে তাঁর অভিযোগ জানান।

অভিযোগগুলো শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গৃহীত ব্যবস্থার ফলাফল সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে জানানোর নির্দেশও দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘একটি আবেদন গ্রহণের পর সেটি কোথায় গেল, কী সিদ্ধান্ত হলো এবং তার ফলাফল কী—সেবাপ্রত্যাশী যেন সেটি জানতে পারেন, সেটিও আমাদের দায়িত্ব।’

সরকারি দপ্তরে জমা পড়া এসব আবেদন শেষ পর্যন্ত নথিতে পরিণত হয়। সেখানে থাকে আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা আর সাহায্য চাওয়ার কারণ। কিন্তু বুধবারের গণশুনানিতে কাগজের আড়াল থেকে সামনে এসেছে একেকটি জীবনের গল্প—ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই, সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিসের ব্যয়, প্যারালাইসিসে থেমে যাওয়া উপার্জন কিংবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকে থাকার চেষ্টা।

তবে তাঁদের মধ্যে ইয়াসমিনের গল্পটি কিছুটা আলাদা। স্বামী দুর্ঘটনায় অসুস্থ, ঘরে তিন শিশু সন্তান, সংসারে অভাব—তারপরও তিনি থেমে যাননি। অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরে নিজের শ্রমে পরিবারকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সেই সংগ্রামের কথা শুনে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক—স্বামীর চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন, দিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী ও উপহার। আর ইয়াসমিনকে সাহস জুগিয়েছেন, যেন জীবনের লড়াইয়ের মধ্যেও তাঁর তিন সন্তানের পড়াশোনা থেমে না যায়।

বুধবারের গণশুনানিতে তাই শুধু আবেদন ও অভিযোগের শুনানি হয়নি; কাগজের আড়ালে থাকা মানুষগুলোর সংকটের কথা শুনে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টাও ছিল।

লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং ফটিকছড়ির উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প ও চশমা বিতরণ অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

লায়ন্স ক্লাব অব টিচাগাং ফটিকছড়ি ও মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ ঢালকাটা শাখার যৌথ উদ্যোগে ফটিকছড়ি নানুপুর ঢালকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প ও চশমা বিতরণ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬খ্রি. শনিবার প্রেসিডেন্ট লায়ন ডা. বরুণ কুমার আচার্য বলাই এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স সিএলএফ এর কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাব অব টিচাগাং ফটিকছড়ি ফাউন্ডার লায়ন জানে আলম, সেক্রেটারী লায়ন পণ্ডিত সলিল আচার্য, ট্রেজারার লায়ন কামরুন নাহার বেগম,

সহ-ট্রেজারার লায়ন রাজু আচার্য, লায়ন ড. পণ্ডিত কার্তিক আচার্য, লায়ন মো. ইসমাইল হোসেন, লায়ন মো. ফোরকানুল আমিন, লায়ন অর্চনা রানী আচার্য, লায়ন তরুণ কুমার আচার্য কৃষ্ণ, লায়ন বিপ্লব চৌধুরী কাঞ্চন, লায়ন অভিবসু মল্লিক, লায়ন ধীমান দাশ, লায়ন কৃষ্ণ বৈদ্য, লায়ন শিমুল পাল, লায়ন রুবেল শীল, লায়ন রণজিত শীল, লায়ন শুভাশীষ চৌধুরী, লায়ন বিসু চৌধুরী, লায়ন স্বপন দে, লায়ন বিপুল সরকার, ঝুমুর সর্দার, লায়ন রত্না আচার্য, লায়ন আন্না সরকার, লায়ন মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, লায়ন রাজীব আচার্য, লায়ন রুবেল আচার্য, লায়ন রূপনা রানী আচার্য প্রমুখ। এতে ৪৫০ জনকে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা করা হয় এবং ১৫০ জনকে চশমা বিতরণ করা হয়।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ