ভাঙ্গুড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকিট বাণিজ্যে ১০ বছরে অতিরিক্ত অর্ধকোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বহির্বিভাগের ৩ টাকার টিকিট ৫ টাকায় বিক্রি করে গত এক দশকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে। চলনবিল অধ্যুষিত কৃষিনির্ভর ভাঙ্গুড়া উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসা ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১৯৯৫ সালে ৩০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা হাসপাতালটি ২০১৭ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। তবে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর থেকেই টিকিট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ মিলিয়ে গড়ে প্রায় ৭০০ রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। সে হিসাবে প্রতিদিন অতিরিক্ত আদায় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ টাকার কাছাকাছি। সেই হিসাব অনুযায়ী গত ১০ বছরে অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, হাসপাতালের বহির্বিভাগে সরকারি নির্ধারিত মূল্য ৩ টাকা হলেও রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫ টাকা করে। প্রতিটি টিকিটে অতিরিক্ত ২ টাকা আদায় করা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা এ প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে জানতে পরিচয় গোপন করে হাসপাতালের কাউন্টারে দায়িত্বরত রেজাউল করিমের (হারবাল অ্যাসিস্টেন্ট) কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি ৫ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করেন। অতিরিক্ত অর্থ আদেশ স্বীকারোক্তির একটি ভিডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, অনেক বছর ধরেই ৫ টাকা দিয়ে টিকিট কাটছি। সরকারি মূল্য ৩ টাকা এটা আগে জানতাম না। যদি সত্যিই ৩ টাকা হয়, তাহলে অতিরিক্ত টাকা কেন নেওয়া হচ্ছে সেটার উত্তর কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।
অষ্টমনিষা ইউনিয়নের গৃহিণী রেহানা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। হাসপাতালে আসলে ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতেই অনেক টাকা খরচ হয়। সেখানে টিকিটের জন্যও যদি বেশি টাকা দিতে হয়, তাহলে কষ্ট তো হবেই।

ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকার রিকশাচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালই ভরসা। সেখানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হলে সেটা অন্যায়। আমরা চাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক।

ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, সরকারি হাসপাতালে গরিব মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। সেখানে সরকারি নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হলে সেটা অবশ্যই অনিয়ম। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, দুই টাকা হয়তো অনেকের কাছে সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন শত শত রোগীর কাছ থেকে নেওয়া হলে সেটি বড় অঙ্কের টাকা হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এমনটি হচ্ছে এর জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ কোথায় গেছে, কারা এর সুবিধাভোগী এবং কেন এতদিনেও অনিয়ম বন্ধ হয়নি, সে বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

এ সকল বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে অফ দ্য রেকর্ডে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানান।

অন্যদিকে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) কৌশিক খান বলেন, টিকিট বিক্রিতে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে সেটি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান-এঁর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথম সাক্ষাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান এবং আন্তরিক কুশল বিনিময় করেন। নৌবাহিনী প্রধান দায়িত্ব পালনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধানের সফল দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং এ লক্ষ্যে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

সাক্ষাৎকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রগঠনে নৌবাহিনীর ধারাবাহিক অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে নৌবাহিনীকে একটি আধুনিক, ত্রিমাত্রিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে আরও সুদৃঢ়ভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের দক্ষ, বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ভবিষ্যতে আরও আধুনিক, সক্ষম ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নৌবাহিনী প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি শক্তিশালী, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডে নিজস্ব সক্ষমতায় দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য নৌযান নির্মাণ ও মেরামতের কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

একই সঙ্গে ‘সেন্টার ফর নেভাল রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্টে’র মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বনির্ভরতা অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি এবং সকল স্তরের নৌসদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যমী নৌবাহিনী গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন নৌবাহিনী প্রধান।

বন্যাদুর্গত শীলকূপে এনামুল হকের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসাসেবা পেলেন ১হাজার ২শত এর বেশি মানুষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মানুষের পাশে দাঁড়াতে দিনব্যাপী বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছেন সমাজকর্মী ও তরুণ উদ্যোক্তা এনামুল হক। মানবিক এই উদ্যোগে একদিনেই ১,২০০ জনেরও বেশি বন্যাদুর্গত মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করেছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মনকিচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (লাল স্কুল) প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই মেডিকেল ক্যাম্পে এলাকার নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণরা চিকিৎসাসেবা নিতে ভিড় করেন। বন্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত থাকা মানুষ এ ক্যাম্পে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে গ্রহণ করেন।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, খাবার স্যালাইন ও নারীদের জন্য ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতনতামূলক পরামর্শও দেওয়া হয়।

মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. আসিফুল হক, ডা. শামীম আক্তার, ডা. আরাফাতুল ইসলাম মিজবাহ এবং ডা. মুবিনুল হক। তাঁদের সহযোগিতায় পাঁচ সদস্যের একটি স্বাস্থ্যকর্মী দল সার্বিক চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এনামুল হক সমর্থক ফোরামের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তারেক আব্দুল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী সিনিয়র শিক্ষক রশিদ আহমদ, আনোয়ারা বেগম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ওবাইদুল হক, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রিদোয়ানুল হক, মাস্টার আবু তৈয়ব, সাহিত্যকর্মী ইলিয়াস বাবর, মাস্টার রুহুল আমিন, মাস্টার আবুল কাশেম, ব্যাংকার মোজাম্মেল হক, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন সাগর, সাজ্জাদ, আক্কাস, পরিবার কল্যাণ সহকারী কামরুন নাহার এবং সুইটি বড়ুয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে এনামুল হক বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। মানুষের কষ্ট লাঘবে আমাদের এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার পর এলাকায় জ্বর, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলো এ সেবা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বন্যার শুরু থেকেই এনামুল হক ও তাঁর স্বেচ্ছাসেবকরা শীলকূপ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার স্বাস্থ্যসেবাকেও অগ্রাধিকার দিয়ে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ