নতুন এমডি দায়িত্ব নেয়ার তিন দিনেই সিদ্ধান্ত অবশেষে ৬৩ বছর পর পতেঙ্গায় যাবে ওয়াসার পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই প্রথম পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা এলাকার তিনটি ওয়ার্ডে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সংকট ও লবণাক্ত পানির যন্ত্রণায় ভোগার পর এই তিনটি ওয়ার্ডে অবশেষে পাইপলাইনের সুপেয় পানির আওতায় আসছেন। ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম ওয়াসার পানি ওই ওয়ার্ডগুলোতে যাচ্ছে।

জানা গেছে, বর্তমানে পুরানো জরাজীর্ণ লাইন সংস্কার ও প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে পতেঙ্গার বিস্তৃত এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। সব জটিলতা কাটিয়ে মাত্র তিন দিনেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেখানে পানি পৌঁছাবে।দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইন জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়াসার পানি পৌঁছায়নি। তবে পুরনো প্রকল্পের আওতাভুক্ত করে দ্রুতই এই সংকট সমাধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম ওয়াসার একটি নথিতে দেখা যায়, গত তিন দিন আগে (৩ জুন )স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম।তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১ জুন সোমবার। ওই চিঠিতে তিনি কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি চান। দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি পতেঙ্গার তিনটি ওয়ার্ডে জনগণের দুর্ভোগ লাগবে উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং দ্রুত পানি সরবরাহের ব্যাবস্থা করেন ।

প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, পতেঙ্গা এলাকায় দৈনিক পানির চাহিদা ১০ কোটি লিটার। কিন্তু বর্তমানে ওয়াসা সেখানে মাত্র ৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারছে। অন্যদিকে, বোয়ালখালী উপজেলার ভাণ্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৬ কোটি লিটার। বর্তমানে আনোয়ারা, পটিয়া, কর্ণফুলী ও বোয়ালখালী এলাকায় এই প্রকল্পের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
ওয়াসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে ভাণ্ডালজুড়ি প্রকল্প থেকে প্রতিদিন অন্তত ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহ করা হবে। এর ফলে দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ওই এলাকার মানুষের পানির অভাব অনেকাংশে দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম জানান, পাইপলাইনের সাত বছরের জটিলতা কাটিয়ে মাত্র তিন দিনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ওইসব ওয়ার্ডের লোকজন ওয়াসার পানি পাবেন বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।জানা গেছে, সমুদ্র উপকুলীয় এলাকা হিসেবে পতেঙ্গাসহ পুরো এলাকার টিউবওয়েলের পানি লবণাক্ত। এ পানি খাওয়া যায় না। খেলেও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতার খবর পাওয়া গেছে। টিউবওয়েলের পানি না পাওয়ায় এলাকার হাজার হাজার মানুষকে পানীয় জলের তীব্র সংকটে ভুগতে হতো।

ইপিজেড থেকে সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত এলাকায় অন্তত চল্লিশটির মতো দোকান থেকে ওয়াসার পানি বিক্রি করা হতো এক সময়। এসব দোকানের পেছনে বড় বড় রিজার্ভার করে ওয়াসার পানি ধরে রেখে পরবর্তীতে ড্রাম ভরে ভ্যানে করে এলাকায় বিক্রি করতো। ২৫ লিটারের প্রতি ড্রাম পানি ভবনের ফ্লোর ভেদে পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতো। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ চড়া দামে পানি কিনতো। এলাকায় হাজার হাজার মানুষ ওয়াসার পানীয় জলের নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নিধারিত ভাড়া না মানলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যবস্থা: ইউএনও

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট না থাকলে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলার সব সিএনজি অটোরিকশায় দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বোয়ালখালী উপজেলা অডিটোরিয়ামে সিএনজির ভাড়া, যাত্রীসেবা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক।

সভায় যাত্রীদের স্বার্থ, চালক ও মালিকদের ন্যায্যতা এবং সিএনজি পরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে সিএনজিতে যাত্রী উঠানামার ভাড়া ৫ টাকা এবং ইউএনও কার্যালয় থেকে ফুলতল পর্যন্ত ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরিহিত কিংবা বৈধ পরিচয়পত্রধারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব গাড়িতে ভাড়ার চার্ট লাগানো নিশ্চিত করতে হবে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ভাড়ার চার্ট না থাকা গাড়ির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় না করা এবং যাত্রীদের সঙ্গে শালীন, ভদ্র ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে চালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, বোয়ালখালীর পাঁচটি স্টেশনে পূর্বের নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হবে। অন্য স্টেশনগুলোর ভাড়া আগের মতোই বহাল থাকবে।

সভায় বোয়ালখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইসহাক চৌধুরী, বিএনপি নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি অধীর বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন দুলালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, এস এম মোদাচ্ছের, বোয়ালখালী সিএনজি অটোরিকশা টেম্পু শ্রমিক ও মালিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. ইদ্রিস, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাবিবুর রহমান, শ্রমিকনেতা আবদুল সাত্তার এবং কালুরঘাট-ফুলতল, শাকপুরা, সিও অফিস, জোটপুকুর, কানুনগোপাড়া, দাশেরদীঘি, বেংগুরাসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি চালক ও সমিতির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যাত্রীবান্ধব, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সিএনজি পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

ইঞ্জিন দ্রুত মেরামতে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের নির্দেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ), লোকোসেড, সিজিপিওয়াই, কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) ও পদ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এসব স্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে রেলওয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (সিই), চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস), চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম), চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং পাহাড়তলীর ডিএসডব্লিউসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় তিনি একাডেমির একাডেমিক ভবন, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ কক্ষ, ডরমেটরি ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।এরপর তিনি সিজিপিওয়াই, টার্ন টেবিল, ট্রায়াঙ্গেল লাইন, ইয়ার্ড লাইন ও লোকোসেড পরিদর্শন করেন। লোকোসেড পরিদর্শনকালে ইঞ্জিন দ্রুত মেরামত ও সচল রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন।

পরে সিজিপিওয়াই এলাকায় কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় সিসিবিএলের সঙ্গে রেলওয়ের বিভিন্ন চুক্তি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া দ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ