ভাঙ্গুড়ায় ব্র্যাকের উদ্যোগে কিশোরীদের মাঝে সেলাই মেশিন ও মুরগির বাচ্চা বিতরণ

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ কিশোরীদের আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স (দাবি+) এর উদ্যোগে সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির আওতাধীন “স্বপ্ন সারথি” কিশোরীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন, মুরগির বাচ্চা ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ১৮ জুন দুপুর ১২টার দিকে ভাঙ্গুড়া শাখা অঞ্চলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শামীম হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের এলাকা ব্যবস্থাপক (দাবি) রাজু আহমেদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির ডিস্ট্রিক ম্যানেজার এিদীপ চন্দ্র গোলদার, উপজেলা অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার প্রহ্লাদ পোদ্দার, অফিসার (সেলফ) মুসাম্মা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয় করেন সিও মিলি খাতুন।

অনুষ্ঠানে ২২ জন কিশোরীর মধ্যে মুরগির বাচ্চা ও নগদ ২ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ৩ জন কিশোরীকে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়, যাতে তারা প্রশিক্ষণ ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে।

সেলাই মেশিন পেয়ে ভাঙ্গুড়ার পাথরঘাটা এলাকার ইকরামুন নাহার সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এটি আমার কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।” অন্যদিকে মুরগির বাচ্চা পেয়ে ভেড়ামারা এলাকার মিতু আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “এগুলো পালন করে ভবিষ্যতে নিজের আয় বাড়াতে চাই।”

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কিশোরীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের সহায়তা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে লাইসেন্স ছাড়া পণ্য বিক্রি, জরিমানা গুনল দুই প্রতিষ্ঠান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ছাড়াই বিস্কুট, কেক ও ব্রেডসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বিক্রি এবং পণ্যের মোড়কে মানচিহ্ন ব্যবহারের দায়ে দুই বেকারিকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২ নভেম্বর) নগরীর চকবাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইজাহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই বিভাগীয় অফিস, চট্টগ্রামের ফিল্ড অফিসার (সিএম) সন্দীপন ভট্টাচার্য্য এবং পরিদর্শক (মেট্রোলজি) সাঈদ আহমেদ তালুকদার।

বিএসটিআই বিভাগীয় অফিস জানায়, কাপাসগোলা রোডের দোহা ফুড নামের একটি প্রতিষ্ঠান বিস্কুট, কেক ও সুইটমিটস পণ্যের একাধিক ভ্যারিয়েন্টে বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স ছাড়াই বিক্রি করছিল। পাশাপাশি পণ্যের মোড়কে মানচিহ্ন ব্যবহার করছিল প্রতিষ্ঠানটি। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অন্যদিকে, গুলজার মোড়ের মস্কো বেকার্স বিস্কুট ও ব্রেড পণ্যের একাধিক ভ্যারিয়েন্টে সিএম লাইসেন্স ছাড়াই বিক্রি করছিল।

এ ছাড়া সন পাপড়ির মোড়কে গুণগত মানচিহ্ন ব্যবহার করছিল প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠান দুটিকে সংশ্লিষ্ট পণ্যের সব ভ্যারিয়েন্টের জন্য দ্রুত সিএম লাইসেন্স এবং মোড়কজাত পণ্যের নিবন্ধন সনদ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামে অদম্য রাব্বির গল্প পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে জিপিএ-৫

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিগত ১০ বছর আগে স্কুলে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় দু হাত হারানো রফিকুল ইসলাম রাব্বি সকল স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাফল্য অর্জন করতে প্রস্তুত ছিলেন। এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে পড়ালেখার প্রতি অদম্য ইচ্ছে ও অধ্যবসায় রাব্বিকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের সিঁড়িতে। দুই হাত না থাকার পরও তিনি দমে যাননি।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা মো. রাব্বি। দুই ভাইয়ের এক বোন। তার বোন রোকেয়া আকতারও এবার ভাটিয়ারী বিজয় সরনী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বোনও পাস করেছেন। তবে ফলাফলে তিনি রাব্বির চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। রাব্বির সাফল্যে খুশি পরিবার ও প্রতিবেশী।
চলতি বছর চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে চট্টগ্রাম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন রাব্বি।। এর আগে এসএসসিতেও একইভাবে পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথ আটকে রাখতে পারেনি।

জানা গেছে, রাব্বির পথচলা এত সহজ ছিল না। ২০১৬ সালে স্কুলে যাওয়ার সময় এক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। তার দুই হাত কেটে ফেলতে হয়। তখন রাব্বি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন। এর পরও দমে যাননি তিনি। পা দিয়ে লেখা অনুশীলন করতে থাকেন। একসময় তা রপ্ত করেন। এরপর পুনরায় স্কুলে যাওয়া শুরু করেন। এর মধ্যে কয়েকবছর নষ্ট হয় তার। তবুও ২০২৪ সালে এসএসসিতে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন রাব্বি। তখন পাড়া প্রতিবেশী বুঝতে পারেন রাব্বি হেরে যাওয়ার পাত্র নন।

পা দিয়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন রাব্বি। তার অসাধারণ সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলের মানুষ তার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন। কেউ পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, কেউ আবার নানা সহযোগিতার কথা জানান। তবে দুঃখজনকভাবে, সেই প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবে রূপ নেয়নি।

অভাব-অনটনের সংসারে রাব্বির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের নিরলস সংগ্রাম। তার বাবা বজলুর রহমান ও মা দুজনেই দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে সংসার চালান। সীমিত আয়ের মধ্যেও ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তারা।তবে এই কঠিন পথচলায় কয়েকজন মানুষের সহযোগিতা রাব্বির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌস কাদেরী ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার পড়াশোনার ব্যয় বহন করে আসছেন। অন্যদিকে স্থানীয় শিক্ষক মো. ওসমান বিনা পারিশ্রমিকে তাকে কোচিং করিয়ে সহযোগিতা করছেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে রাব্বির স্বপ্ন আরও বড়। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিজ্ঞানী হতে চান তিনি।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ