সমাজসেবক আবুল কালাম (ভোলা) আদর্শ আজ ও অনুপ্রেরণা

এম মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার গোমদণ্ডী বহদ্দার পাড়ার কৃতী সন্তান, আধ্যাত্মিক সুফি সাধক, আধ্যাত্মিক গবেষক, গীতিকার, অর্থনীতিবিদ, সমাজসেবক ও সফল ব্যবসায়ী আবুল কালাম (ভোলা) তাঁর বহুমাত্রিক কর্মজীবন, মানবসেবা এবং আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে আজও মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

১৯৪৩ সালের ১৫ জানুয়ারি গোমদণ্ডী বহদ্দার পাড়ার এক সম্ভ্রান্ত ও ধর্মপ্রাণ পরিবারে তাঁর জন্ম। পারিবারিকভাবে সুফিবাদ ও আধ্যাত্মিক চর্চার পরিবেশে বেড়ে ওঠা আবুল কালাম শৈশব থেকেই নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মানবসেবার শিক্ষা লাভ করেন। আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি ১৯৬০ সালে মেট্রিকুলেশন পাস করেন এবং কর্মজীবন শুরু করেন চট্টগ্রাম পোর্ট হজ অফিসে অস্থায়ী করণিক হিসেবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যাংক, শিপিং কোম্পানি ও শিল্প-প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। চাকরির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বি.কম ডিগ্রি অর্জন করেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন এবং সততা, দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। তবে ব্যবসায়িক সফলতা তাঁকে কখনো আত্মকেন্দ্রিক করেনি। বরং সমাজকল্যাণ, শিক্ষা বিস্তার এবং মানবসেবায় তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

তিনি বাংলাদেশ হার্ডওয়ার অ্যান্ড মেশিনারী মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাক্তন সদস্য, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন উপদেষ্টা কমিটির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের কার্যকরী কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য ছিলেন।শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে তাঁর অবদানও ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি গোমদণ্ডী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পাশাপাশি খায়ের মঞ্জিল দরবার শরীফ ওয়াক্ফ এস্টেট পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ ১৮ বছর ও ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ ইংরোজি তারিখ দেহ ত্যাগ করার আগে সভাপতি দায়িত্ব পালন করে দরবারের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ এবং আধ্যাত্মিক সাহিত্য প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর নেতৃত্বে দরবার শরীফের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয় এবং ভক্তদের কাছে তিনি একজন সফল সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

অর্থনীতি, শিল্পায়ন, জাতীয় রাজস্ব, কর্মসংস্থান, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে তাঁর অসংখ্য গবেষণামূলক প্রবন্ধ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখনীতে উঠে এসেছে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনা, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, সেতু নির্মাণ, উপকূলীয় উন্নয়নসহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব প্রবন্ধের সংকলন হিসেবে প্রকাশিত হয় “বিকল্প ভাবনা” গ্রন্থ।

আধ্যাত্মিক সাধনা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমী। দীর্ঘ গবেষণা, ধ্যান ও আত্মশুদ্ধির সাধনার মাধ্যমে তিনি রচনা করেন “আত্মদর্শন” নামের তাত্ত্বিক গ্রন্থ, যা ইসলামি দর্শন, তাসাউফ, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক জীবনবোধের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা হিসেবে সমাদৃত। এছাড়া তাঁর রচিত ভাববাদী গানের সংকলন “সুরতি” আধ্যাত্মিক সংগীতপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিবন্ধিত গীতিকার ছিলেন। তাঁর রচিত বহু গান দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয়েছে। সাহিত্য, গবেষণা, সমাজসেবা এবং আধ্যাত্মিক অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সম্মাননা ও ক্রেস্ট লাভ করেন।

১৯৭৪ সালের ১৪ এপ্রিল হোসনে আরা লুসার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আবুল কালাম (ভোলা)। তাঁদের পরিবারে তিন পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুত্র মোস্তফা কামাল মানিক বর্তমানে খায়ের মঞ্জিল দরবার শরীফের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আবুল কালাম (ভোলা) সাহেব ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ ইংরোজি তারিখ দেহ ত্যাগ পর তাঁর আদর্শ ও মানবসেবার ধারাকে সামনে রেখে মোস্তফা কামাল মানিকের নেতৃত্বে খায়ের মঞ্জিল দরবার শরীফের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে।

বর্তমানে দরবার শরীফকে আধুনিক ও নান্দনিক রূপে গড়ে তুলতে চট্টগ্রামের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন মাজার কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে ধর্মপ্রাণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়াও তাঁদের পরিবার নিয়মিতভাবে এলাকার গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসা সহযোগিতা, শিক্ষা সহায়তা, খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁরা সমাজসেবার ধারা অব্যাহত রেখেছেন। স্থানীয় জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে পরিবারটি মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।

কঠোর পরিশ্রম, সততা, আত্মশুদ্ধি, মানবসেবা এবং আধ্যাত্মিক চর্চার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা আবুল কালাম (ভোলা) সাহেবের জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর জন্মদিন আজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর রাজনৈতিক ইতিহাস, জনসেবা ও উন্নয়নচর্চার আলোচনায় যে নামটি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তিনি আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজের কর্মময় জীবনের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুধু দলীয় কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ ছিল না; বাঁশখালীর মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, এলাকার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ও ছিল তাঁর পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আজ ১৪ অক্টোবর, তাঁর জন্মদিন। এ উপলক্ষে তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন প্রয়াত রাজনীতিবিদকে শ্রদ্ধা জানানো নয়; বরং তাঁর রাজনৈতিক জীবন, জনসম্পৃক্ততা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার যে প্রত্যাশা তিনি রেখে গেছেন, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার প্রচেষ্টাও সেই উত্তরাধিকারের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জন্ম, শিক্ষা ও রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ
——————————

আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৫০ সালের ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব ও শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে পরবর্তী সময়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করে। তিনি বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক (বি.কম) ডিগ্রি অর্জন করেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবন বিকশিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় কর্মসূচি ও নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত তাঁর পরিচিতি বিস্তৃত হয়।

একজন রাজনীতিবিদের মূল্যায়ন কেবল তাঁর পদ-পদবি দিয়ে সম্পন্ন হয় না; মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, এলাকার সমস্যা নিয়ে তাঁর অবস্থান এবং জনস্বার্থে তাঁর ভূমিকার মধ্য দিয়েও সেই মূল্যায়ন গড়ে ওঠে। জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনকে ঘিরেও বাঁশখালীর মানুষের স্মৃতি, প্রত্যাশা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।

### সংসদ সদস্য থেকে প্রতিমন্ত্রী: জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা

জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বাঁশখালীর সংসদীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। তিনি চট্টগ্রাম-১৬ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জনসেবামূলক বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর ভূমিকা আলোচিত হয়েছে।

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠনের পর তিনি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে জাতীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল দেশের বনসম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি স্থানীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়েও পরিচিতি অর্জন করেন।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা—দুটিই ইতিহাসের অংশ। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সংসদীয় রাজনীতি ও মন্ত্রিসভার দায়িত্বে থাকা তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পরিধি এবং জাতীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

### চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে সাংগঠনিক নেতৃত্ব

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতেও জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন।

রাজনৈতিক সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের বিকাশ এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নিজের সাংগঠনিক অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেন।

রাজনীতিতে মতপার্থক্য, প্রতিকূলতা ও পরিবর্তন থাকবেই। কিন্তু একজন নেতার সাংগঠনিক উত্তরাধিকার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে কাজ করা নেতাকর্মীদের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক সহকর্মীদের স্মৃতিচারণ এবং এলাকার মানুষের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যে স্মৃতি ও আলোচনা রয়েছে, তার যথাযথ মূল্যায়নও সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের অংশ।

### বাঁশখালীর উন্নয়ন ও জনসেবার প্রত্যাশা

বাঁশখালী একটি বিস্তৃত উপকূলীয় উপজেলা। এখানে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, কৃষি ও মৎস্য খাতের বিকাশ, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

এ ধরনের এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয়; বরং মানুষের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করা, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তদারক করা এবং সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ভূমিকা রাখা। জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনও বাঁশখালীর উন্নয়ন ও জনসেবার আলোচনায় স্মরণ করা হয়।

তাঁর সময়ে এলাকার বিভিন্ন অবকাঠামো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়ে যে আলোচনা রয়েছে, সেগুলো নির্দিষ্ট প্রকল্প, সরকারি নথি এবং স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতার আলোকে আরও বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা যেতে পারে। এতে তাঁর উন্নয়ন-অবদানের একটি তথ্যভিত্তিক চিত্র তৈরি হবে।

তবে বাঁশখালীর উন্নয়নের ইতিহাস কোনো একজন ব্যক্তির একক প্রচেষ্টায় সীমাবদ্ধ নয়। জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, সরকারি দপ্তর, শিক্ষাবিদ, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের মধ্য দিয়েই একটি জনপদ এগিয়ে যায়। এই বাস্তবতা স্বীকার করেই জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর অবদানকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

### পিতার আদর্শ অনুসরণে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার পথচলা

প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করার ক্ষেত্রে তাঁর ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার নামও আলোচনায় রয়েছে। পিতার রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করে তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি বাঁশখালীর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন।

রাজনীতিতে পারিবারিক পরিচয় একজন ব্যক্তির পথচলার সূচনা সহজ করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে প্রয়োজন নিজস্ব যোগ্যতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও ধারাবাহিক জনসম্পৃক্ততা। পিতার পরিচয়কে সম্মানের সঙ্গে ধারণ করার পাশাপাশি নিজের কাজের মাধ্যমে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করাই তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বাঁশখালীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্থানীয় সমস্যার সমাধান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় সহায়তা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মতো বিষয়গুলোতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারলে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা আরও অর্থবহ হতে পারে।

বিশেষ করে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, পাহাড়ি ঢল কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো উপকূলীয় জনপদের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগের সময় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয় এবং পুনর্বাসন সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধানেও উদ্যোগ প্রয়োজন। দিন-রাত মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন তাই শুধু তাঁর পারিবারিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং মাঠপর্যায়ে তাঁর কাজ, মানুষের পাশে থাকার ধারাবাহিকতা এবং জনস্বার্থে গৃহীত উদ্যোগের ভিত্তিতে হওয়াই প্রত্যাশিত।

### মানুষের কাছে থাকার রাজনীতিই হোক উত্তরাধিকার

বাঁশখালীর মানুষের প্রত্যাশা অনেক। কোথাও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন, কোথাও স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো জরুরি, আবার কোথাও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনই সবচেয়ে বড় চাহিদা। এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়, জনসম্পৃক্ততা এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব।

জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা হতে পারে মানুষের এসব প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততার ইতিবাচক দিকগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের রাজনীতিকদের এগিয়ে যেতে হবে। ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হবে সেই শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন।

একজন জননেতার প্রকৃত উত্তরাধিকার শুধু তাঁর পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা ছড়িয়ে পড়ে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী, অনুসারী, সামাজিক পরিমণ্ডল এবং যে জনপদের মানুষের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার মধ্যে।

### চিরবিদায়ের পরও স্মৃতিতে অমলিন

২০২২ সালের ৮ নভেম্বর ৭২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অর্জিত পরিচিতি এবং বাঁশখালীর রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান তাঁকে স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্রে পরিণত করেছে।

মানুষের জীবন একদিন শেষ হয়, কিন্তু তাঁর কাজ, সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক ও স্মৃতি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নানা প্রশ্ন ও শিক্ষা রেখে যায়। জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর জীবনও সেই অর্থে মূল্যায়নের দাবি রাখে। তাঁর অবদান যেমন স্মরণ করা প্রয়োজন, তেমনি তাঁর রাজনৈতিক সময়ের বাস্তবতা ও এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন পক্ষের সম্মিলিত ভূমিকার তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নও জরুরি।

আজ তাঁর জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এই প্রবীণ রাজনীতিবিদকে। তাঁর ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাসহ পরবর্তী প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্ব মানুষের কল্যাণ, সততা, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার পথ অনুসরণ করুক—এটাই প্রত্যাশা।

বাঁশখালীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দুর্যোগে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধানে যাঁরা কাজ করবেন, তাঁদের মধ্য দিয়েই জনসেবার এই ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।

পরিশেষে, মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা—তিনি যেন মরহুম আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে ক্ষমা করেন, তাঁর নেক আমলগুলো কবুল করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। আমিন।

তিন সন্তান নিয়ে অটোরিকশার হ্যান্ডেলে ইয়াসমিন, পাশে দাঁড়ালেন ডিসি জাহিদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্বামী মো. শাহিন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অসুস্থ। কাজ করার সামর্থ্য নেই। ঘরে তিন শিশু সন্তান। স্বামীর চিকিৎসা থেকে শুরু করে সন্তানদের ভরণপোষণ ও পড়াশোনা—সবকিছুর দায়িত্ব এসে পড়ে ইয়াসমিন আক্তারের কাঁধে।

কিন্তু অসহায় হয়ে বসে থাকেননি ইয়াসমিন। সংসারের হাল ধরতে ভাড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে নিজেই নেমেছেন রাস্তায়। তিন সন্তানকে নিয়েই অটোরিকশা চালিয়ে কোনোরকমে সংসার চালাচ্ছেন। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্বামীর চিকিৎসা, সন্তানদের ভরণপোষণ ও সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় একসঙ্গে মেটানো তাঁর পক্ষে ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে ইয়াসমিনের জীবনসংগ্রামের খবর পৌঁছায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে। বুধবার জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে ইয়াসমিন নিজেই অটোরিকশা চালিয়ে হাজির হন। জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন নিজের লড়াইয়ের কথা।

ইয়াসমিনের কথা শুনে প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের শ্রমে সংসার চালানোর চেষ্টার প্রশংসা করেন জেলা প্রশাসক। সন্তানদের পড়াশোনা কোনোভাবেই বন্ধ না করার পরামর্শ দেন তিনি। ইয়াসমিনের সংগ্রামের প্রতি সম্মান জানাতে নিজের কার্যালয় থেকে নিচে নেমে তাঁর অটোরিকশার পাশে দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন জেলা প্রশাসক।

তিনি ইয়াসমিনকে বলেন, ‘এত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তুমি কারও কাছে হাত পাতোনি, কারও কাছে ছোট হওনি। তুমি নিজেই একটা অটো নিয়েছো, অটো নিয়ে পরিশ্রম করে চলছো—এটা খুবই ভালো।’

উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি ইয়াসমিনের স্বামীর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন জেলা প্রশাসক। তাঁকে চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্যসামগ্রী ও কিছু উপহারও দেওয়া হয়। সন্তানদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতেও উৎসাহ দেন তিনি।

সহায়তা পেয়ে ইয়াসমিন বলেন, ‘আমার তিনটা ছেলে আছে। তিনটা ছেলেকে নিয়ে খাচ্ছি। উনি আমাকে চাল দিয়েছেন, কিছু টাকা-পয়সাও দিয়েছেন।’

ইয়াসমিন একা নন

এদিন জেলা প্রশাসকের গণশুনানির টেবিলে ইয়াসমিনের মতো আরও অনেক মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প উঠে আসে। কেউ ক্যানসারের চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না, কারও প্রয়োজন সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস। কেউ প্যারালাইসিসে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, আবার কেউ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেও অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

তাঁদের কথা শুনে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করেন জেলা প্রশাসক। এদিন অসুস্থ ও অসহায় ১০ জন এবং একজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল একজনকে দেওয়া হয় চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ ও মসলাসহ খাদ্যসামগ্রী।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাঁর বাবা দিনমজুর। পাঁচ সদস্যের পরিবারের খরচের পাশাপাশি ওমরের পড়াশোনা, যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও অর্থাভাবে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় সহায়তার আবেদন করেন তিনি। তাঁর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

ইফফাত জাহান ইশা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত। সপ্তাহে তিনবার তাঁকে ডায়ালাইসিস করাতে হয়। পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপেও ভুগছেন। তাঁর বাবা আবদুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন। মেয়ের নিয়মিত চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি সহায়তা চান।

কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত মো. নাজমুল হুদার অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে কেমোথেরাপি চলছে। পাশাপাশি মৃগীরোগের চিকিৎসাও নিচ্ছেন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় কেমোথেরাপি চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাঙ্গুনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল শুকুর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতা ও পঙ্গুত্বজনিত সমস্যায় ভুগছেন। নিয়মিত আয়ের উৎস না থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

প্যারালাইসিসে থেমেছে উপার্জন

বাঁশখালীর মো. আবু তাহের প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। শরীরের বাঁ পাশ অবশ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা বা কাজ করতে পারেন না। উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

পটিয়ার আজিজুল হক পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও তিন ছেলে নিয়ে তাঁর সংসার। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের ভরণপোষণ ও নিজের চিকিৎসা—দুটিই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

একই এলাকার আবুল কাসেম চোখের রোগে আক্রান্ত। তাঁর অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা প্রয়োজন। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে তিনিও সহায়তার আবেদন করেন।

পারুল বেগমের স্বামী বহু বছর ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। তাঁর এক সন্তান প্রতিবন্ধী। পারুল নিজেও কিডনি ও লিভারের সমস্যায় ভুগছেন। পরিবারের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তাঁকে ভিক্ষাবৃত্তি করতে হচ্ছে বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন।

মর্জিনা বেগমের স্বামীর হৃদ্‌যন্ত্রে অস্ত্রোপচার হয়েছে। চার মাস ধরে তিনি কাজ করতে পারছেন না। দুই মেয়ে ও এক ছেলের পরিবারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

হালিশহরের রোকছানা বেগমের স্বামী মারা গেছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় আগে। এরপর থেকে ছয় সন্তানকে নিয়ে একাই সংসার চালিয়ে আসছেন। সন্তানদের ভরণপোষণ করতে না পেরে তিনিও আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন।

শুনলেন ২১ জনের কথা

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টায় শুরু হওয়া গণশুনানিতে সরাসরি ২১ জন সেবাপ্রত্যাশী অংশ নেন। চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি জমিজমা, সম্পত্তি জবরদখলসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন। অনলাইনে একজন প্রবাসীও যুক্ত হয়ে তাঁর অভিযোগ জানান।

অভিযোগগুলো শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গৃহীত ব্যবস্থার ফলাফল সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে জানানোর নির্দেশও দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘একটি আবেদন গ্রহণের পর সেটি কোথায় গেল, কী সিদ্ধান্ত হলো এবং তার ফলাফল কী—সেবাপ্রত্যাশী যেন সেটি জানতে পারেন, সেটিও আমাদের দায়িত্ব।’

সরকারি দপ্তরে জমা পড়া এসব আবেদন শেষ পর্যন্ত নথিতে পরিণত হয়। সেখানে থাকে আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা আর সাহায্য চাওয়ার কারণ। কিন্তু বুধবারের গণশুনানিতে কাগজের আড়াল থেকে সামনে এসেছে একেকটি জীবনের গল্প—ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই, সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিসের ব্যয়, প্যারালাইসিসে থেমে যাওয়া উপার্জন কিংবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকে থাকার চেষ্টা।

তবে তাঁদের মধ্যে ইয়াসমিনের গল্পটি কিছুটা আলাদা। স্বামী দুর্ঘটনায় অসুস্থ, ঘরে তিন শিশু সন্তান, সংসারে অভাব—তারপরও তিনি থেমে যাননি। অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরে নিজের শ্রমে পরিবারকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সেই সংগ্রামের কথা শুনে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক—স্বামীর চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন, দিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী ও উপহার। আর ইয়াসমিনকে সাহস জুগিয়েছেন, যেন জীবনের লড়াইয়ের মধ্যেও তাঁর তিন সন্তানের পড়াশোনা থেমে না যায়।

বুধবারের গণশুনানিতে তাই শুধু আবেদন ও অভিযোগের শুনানি হয়নি; কাগজের আড়ালে থাকা মানুষগুলোর সংকটের কথা শুনে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টাও ছিল।

আলোচিত খবর

২৯ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হতে পারে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। আগামী ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের সম্ভাবনাই বেশি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়।

এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ