আজঃ শুক্রবার ২৬ জুন, ২০২৬

অসহায় প্রবাসী পরিবারের পাশে ইউএই হাটহাজারী সমিতি, অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে সালাউদ্দীন আলী

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) হাটহাজারী সমিতির উদ্যোগে দুই প্রবাসী মরহুমের পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদান তুলে দেওয়া হয় শোকসন্তপ্ত দুই পরিবারের হাতে।২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) হাটহাজারীর একটি স্থানীয় হোটেলে অনুষ্ঠিত এ মানবিক সহায়তা অনুষ্ঠানে সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন তালুকদার, সিআইপি সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গভর্নিং বডির সদস্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হাটহাজারী সমিতির অন্যতম সদস্য লায়ন সালাউদ্দীন আলী। প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক পূর্বকোণের হাটহাজারী প্রতিনিধি খোরশেদ উল আলম শিমুল, সমিতির অন্যতম সহ-সভাপতি এনামুল হক ফোরকান, মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম, মোহাম্মদ দিদারুল আলম, মাওলানা নাছির উদ্দিন, দিদার আলম দিদার, মাহাবুব আলম মাহাবুব, মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন খোকন, নিজাম উদ্দিন, তৌহিদুল আলম, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, মোহাম্মদ রেজাউল আমিন, বাদশা মিয়া, মাওলানা শোয়াইব, মাওলানা হাফেজ মাসুদ, মোহাম্মদ জালাল, মোহাম্মদ আনিছসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে গুমানমর্দন এলাকার মরহুম হোসেনের পরিবারের হাতে ১ লাখ টাকা এবং মেখল ইউনিয়নের মরহুম খোরশেদ আলমের পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা সমিতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন সালাউদ্দীন আলী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবিকার সন্ধানে বিদেশে অবস্থানরত অনেক প্রবাসী নানা প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করেন। তাদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে পরিবারগুলো প্রায়ই কঠিন আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়ে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ইউএই হাটহাজারী সমিতি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে।

তিনি বলেন, “মানবসেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সমাজের যেসব প্রবাসী পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল ও সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, তাদের সহযোগিতায় আমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকব। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। তাই তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।সালাউদ্দীন আলী আরও বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের উচিত অসহায় ও শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। পারস্পরিক সহযোগিতা, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”

সভায় বক্তারা প্রবাসী মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তারা প্রবাসী কল্যাণে সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এতে উপস্থিত অতিথি, সমিতির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। মানবিক সহায়তার এ উদ্যোগকে এলাকাবাসী প্রশংসার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আল্লাহর ঘরে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক- সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাদ্রাসায় ও মসজিদে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মিটিং নিষিদ্ধ করতে আইন পাসের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ। বাজেট আলোচনায় সংসদে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি তোলেন।

সোমবার ২২ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ এ কথা বলেন।

সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে : জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জীবনমানের উন্নয়ন নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। রোববার চট্টগ্রাম প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের জন্য আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। জেলা প্রশাসক বলেছেন, কেবল নিজের চাকরি জীবনে কে কত সুবিধা পেয়েছেন বা নিজের জীবনে কত পরিবর্তন এনেছেন, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজকে কী দিতে পেরেছেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আমরা সবাই একটি সুন্দর সমাজ ও সুন্দর রাষ্ট্র চাই।কিন্তু নিজের পরিবর্তনের প্রশ্নে আমরা অনেক সময় অনাগ্রহী থাকি। আমি চাই অন্যদের পরিবর্তন হোক, কিন্তু নিজের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন চাই না। এই সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেখা একটি চলমান প্রক্রিয়া।প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে বাস্তব কাজে প্রয়োগ করতে না পারলে তার কোনো মূল্য থাকে না। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি যেমন পরিবর্তিত হচ্ছে, তেমনি পরিবর্তিত হচ্ছে মানুষের প্রত্যাশা ও সেবার মানদণ্ডও।

ফলে সরকারি সেবাকে মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের (এনআইএলজি) আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ১৬০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা রহমান মীমের সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আমিরুল মোস্তফা, চট্টগ্রামের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আমি চাকরি জীবনে কী পেলাম, আমার জীবনের কত উন্নতি হলো, আমার সন্তান কোথায় পড়াশোনা করল-এসবের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আমি রাষ্ট্রকে কী দিলাম। জনগণের করের অর্থে বেতন নিয়ে, রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আমরা সমাজের জন্য কী অবদান রাখতে পেরেছি, সেটি প্রত্যেকের ভেবে দেখা উচিত।তিনি বলেন, সরকারি চাকরি কেবল একটি পদ বা দায়িত্ব নয়; এটি জনগণের প্রতি অঙ্গীকার। তাই সেবাগ্রহীতারা যেন সরকারি দপ্তরে এসে হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মানুষ পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আসার সুযোগ পায় না। তাই কর্মজীবন শেষে যেন আফসোস না থাকে যে আরও ভালো কিছু করা যেত। সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক অবদান রেখে যাওয়ার মধ্যেই একজন মানুষের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। কোনো প্রশিক্ষণ, কোনো নির্দেশনা বা কোনো আইন একা পরিবর্তন আনতে পারে না। পরিবর্তন তখনই আসে, যখন মানুষ নিজের ভেতরে দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, মানবিকতা ও বিবেককে ধারণ করে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ