আজঃ শুক্রবার ২৬ জুন, ২০২৬

ভাঙ্গুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৫ টি ঘর বিক্রির অভিযোগ পরিত্যক্ত ঘরে জুয়া-মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকারের অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্প। কিন্তু পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় এ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘর বিক্রি, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত রাখা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত উপকারভোগীদের পরিবর্তে প্রভাবশালী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় অনেকেই পরে ঘর বিক্রি করে দিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ ধাপে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মোট ১০১টি আশ্রয়ণ ঘর নির্মাণ করা হয়। এসব ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার টাকা। উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের চর-ভাঙ্গুড়ায় ৪১টি, চর-ভাঙ্গুড়া পূর্বপাড়ায় ২১টি, অষ্টমনিষা ইউনিয়নের লামকান গ্রামে ৭টি, মণ্ডতোষ ইউনিয়নের টুনিপাড়ায় ৪টি, দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে ৫টি, পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নে ৩টি, খানমরিচ ইউনিয়নে ৫টি এবং ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় ১৫টি ঘর নির্মাণ করা হয়।
সম্প্রতি সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নির্মিত ১০১টি ঘরের মধ্যে অন্তত ৩৫টি ঘর ৮০ হাজার টাকা থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে এসব ঘরের অনেকগুলোতেই বসবাস করছেন নতুন মালিক কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগ, চর-ভাঙ্গুড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬৪ নম্বর ঘরের জাহানারা, ৬৫ নম্বর ঘরের আনেছা খাতুন, ৬৬ নম্বর ঘরের রতনের মা, ৯৩ নম্বর ঘরের হোসেন চাঁদ, ৯৫ নম্বর ঘরের মজনুর প্রামাণিক, ৭০ নম্বর ঘরের সোহাগ হোসেন, ৭৭ নম্বর ঘরের জোহরা খাতুন, ১৭ নম্বর ঘরের আনোয়ারা খাতুন, ১৫ নম্বর ঘরের হাসি খাতুন, সবুরা খাতুনসহ অন্তত ৩৫ জন উপকারভোগী তাদের বরাদ্দকৃত ঘর বিক্রি করেছেন। প্রতিটি ঘর ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।এলাকাবাসীর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রকৃত গৃহহীন ও ভূমিহীনদের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি কিংবা অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে অনেক সচ্ছল ব্যক্তিকেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ফলে তারা পরবর্তীতে ঘর বিক্রি করে অন্যত্র চলে যান।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, প্রকল্পের প্রায় ২৫টি ঘর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে এমন একাধিক ঘর দেখা গেছে, যেখানে নিয়মিত বসবাসের কোনো চিহ্ন নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত এসব ঘরে নিয়মিত জুয়া খেলা, মাদক সেবন এবং রাতের আঁধারে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। এতে এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আলম বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।ঘর বিক্রি, পরিত্যক্ত থাকা এবং অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, “অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয় এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা এর সুফল পান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে মা-মেয়ে হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে আসামি একজন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যা মামলায় গ্রেফতার তেজপ্রিয় বড়ুয়া রিমনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে ২২ জনকে। ঋণের টাকা নিয়ে মতবিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের আরেকটি নজির সৃষ্টি হয়েছে। আনোয়ারায় এই মা-মেয়ে হত্যা মামলার তদন্ত মাত্র ১০ দিনে শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। এর আগে নগরীর বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের মামলা মাত্র ১৩ দিনে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দিয়েছিল পুলিশ।

আনোয়ারা থানার ওসি মোহাম্মদ জুনায়েত চৌধুরী জানালেন, গত বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম আদালতে জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক জুয়েল অভিযোগপত্র জমা দেন।
এর আগে গত ১৩ জুন আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের পূর্ব কন্যারা গ্রামের বড়ুয়াপাড়ায় ছুরি মেরে মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। আহত হয় এনির ছেলে পিয়াস বড়ুয়া (৫)। ঘটনার সময় এনির স্বামী সুজন বড়ুয়া কর্মস্থলে ছিলেন। নগরীর খাতুনগঞ্জে একটি ভবনের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কর্মরত তিনি।
সুজনের বাড়ি ও আসামি তেজপ্রিয়র বাড়ি পাশাপাশি। দুজন সম্পর্কে চাচাতো ভাই। ঘটনার পরদিন ১৪ জুন রাতে তেজপ্রিয়কে পুলিশ পটিয়া থেকে গ্রেফতার করে। হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য, আসামির স্বীকারোক্তি ও নিহত এনি বড়ুয়ার মৃত্যুকালীন জবানবন্দির ভিডিও, ময়নাতদন্ত ও

মেডিকেল প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩০৭ ও ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে৷অভিযোগপত্রে হত্যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, অটোরিকশা কেনার জন্য সুজন বড়ুয়ার কাছ থেকে সুদে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তেজপ্রিয়। ওই ঋণের বিপরীতে স্বাক্ষর করা একটি স্ট্যাম্প এনি বড়ুয়ার কাছে সংরক্ষিত ছিল। ঋণ পরিশোধ নিয়ে সুজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।
এর জেরে স্ট্যাম্পটি এনির কাছ থেকে নিয়ে ঋণের প্রমাণ নষ্ট করতে চেয়েছিলেন তেজপ্রিয়। স্ট্যাম্প নিতে বাধা দেওয়ায় এনি ও প্রিয়ন্তীকে হত্যা করা হয়।

ভাঙ্গুড়ায় অবৈধ মাটিকাটার অভিযোগে যুবক কে পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদন্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে এক যুবক কে পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ২৫ জুন গভীর রাত দুই(২) টার দিকে উপজেলাধীন পাড়-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা বিশাপাড়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে হিমু আহমেদ(২৫) পিতা- আব্দুস সামাদ, সাং- সাভার, ফরিদপুর,পাবনা। কে বালুমহাল ও মাটি ব্যাবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৫০,০০০/= (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদন্ড করা হয়।

এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং পৌরসভা প্রশাসক মিজানুর রহমান।
এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার এসআই সুব্রত কুমার সহ পুলিশ টিম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটিকাটার কার্যক্রম চলছিল,
যা কৃষিজমি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান জানান, অবৈধভাবে মাটিকাটা ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ