আজঃ শুক্রবার ৩ জুলাই, ২০২৬

লোহাগাড়ায় আধুনগর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিমের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ ও মেম্বার’দের অনাস্থা

খলিল চৌধুরী, লোহাগড়া, চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৯নং আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মেম্বারদের অনাস্থা ও মিটিং-রেজুলেশন ছাড়াই সরকারি প্রকল্প বরাদ্ধ, ইউপি সদস্যদের বেতন ভাতা আটকে রাখাসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার আধুনগরে ইউপি সদস্য সুজন কান্তি দাশের বাড়িতে এক প্রেস ব্রিফিং এ ইউপি সদস্যরা এমন অভিযোগ করেন। চলতি বছরের ২৪ মে ৭ জন ইউপি সদস্য তার প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন।

তারই প্রেক্ষিতে লোহাগাড়া সহকারী কমিশনার(ভূমি) মং এছেন স্বাক্ষরিত চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। নোটিশে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার উপযুক্ত জবাব ১০ কর্মদিবসের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিং এ ইউপি আবুল হাসান ও ফরিদ আহমদ বলেন, আধুনগর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মিটিং ও রেজুলেশন ছাড়াই ইচ্ছেমত সরকারি প্রকল্প বরাদ্ধ ও পরিষদের বিভিন্ন টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছেন। ইউপি সদস্যদের ১৭ মাসের বেতন ভাতা বাবদ ৭৪ হাজার ৮শত ইচ্ছে করে আটকে রেখেছেন। উক্ত টাকা চেয়ারম্যানের নিকট দাবী করলে তিনি বেতন বাবদ কোন টাকা দেওয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হতে তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন।

সরকারি বরাদ্ধকৃত প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন প্রকার সদুত্তর দিতে পারেননি। কোন ওয়ার্ডে কত টাকার প্রকল্প বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে বা কার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে তার কোন সঠিক হিসাব দিতেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে অনাস্থাকারী ইউপি সদস্যরা প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে চেয়ারম্যানের বরাদ্ধকৃত প্রকল্প সরজমিনে তদন্ত করলে দেখা যায় যে, বরাদ্ধকৃত টাকার সাথে কাজের কোন মিল নাই। এছাড়া অধিকাংশ শালিশ বিচারে সাধারণ মানুষের নিকট হতে টাকা দাবী করেন বলে জানান।
এসময় তারা আরো বলেন, ইউনিয়নের অনেক জায়গায় মাটি ও বালু বহনকারী গাড়ি হতে অবৈধভাবে টাকা নিচ্ছেন।

সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে মাটি এবং বালু কাটার সুযোগ করে দিচ্ছেন চেয়ারম্যান। ইউনিয়ন পরিষদের ০৫ জন পুরুষ ও ০১ জন মহিলা ইউপি সদস্যসহ মোট ০৬ জনকে জুলাই আন্দোলনের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন তিনি। অথচ চেয়ারম্যান মোঃ নাজিম উদ্দীন নিজেও জুলাই আন্দোলনের লোহাগাড়া থানার জি.আর মামলা নং ১৭(৮)২৪-১৮১/২৪ নং মামলার এজাহারভুক্ত ১০৬নং আসামী। গ্রাম আদালতে শালিশের নামে দাবী করে চুক্তির মাধ্যমে টাকা নিয়ে রায় ডিগ্রী প্রচার এবং গ্রাম আদালত হতে ইস্যুকৃত জন্ম সনদ, ওয়ারিশ সনদে ও জন্ম সনদে টাকার বিনিময়ে বয়স পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে অহরহ।

এ বিয়য়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, ্ইউপি সদস্যদের সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যরা যড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি কোন ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত নন বলে জানান। লোহাগাড়া সহকারী কমিশনার(ভূমি) মং এছন বলেন, ইউপি সদস্যদের অনাস্থার প্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনকে শোকজ করা হয়েছে। তাকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বসতবাড়ির বাহিরে গাছতলায় ৮০ বছরের বৃদ্ধ মায়ের আশ্রয়, সন্তানের ঘরে ঠাঁই নাই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের প্রায় ৮০ বৎসর বয়সী এক বৃদ্ধা ‘মা’ এর বসতবাড়ির বাহিরে গাছতলায় মানবেতর জীবনযাপনের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বৃদ্ধার অভিযোগ, তার আপন ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি আর ছেলে ও পুত্রবধূর’র সাথে বাড়িতে থাকতে পারছেন না।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধা মোছা. হালিমা খাতুন, পিতা: মৃত আলিমুদ্দিন মোল্লা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি নিজের সন্তান কে লালন-পালন করে বড় করেছেন এবং ছেলের সংসার গড়ে দিতে ঘর নির্মাণ ও বিয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন। তবে বিয়ের পর থেকে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

বর্তমানে তিনি তার ভাইদের বাড়ির সামনে একটি গাছের নিচে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন। খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে তাকে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হেদায়েতুল্লাহ মাস্টার বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি। ভাঙ্গুড়া উপজেলার সহকারি কমিশনার(ভূমি) মহোদয় কে জানানো হয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে যাব। এসিল্যান্ড মহোদয়ও সেখানে আসবেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


অভিযুক্ত ছেলে মো. রবিউল করিম কে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা আমার শাশুড়িকে বাড়ি থেকে বের করে দিইনি। তিনি নিজ ইচ্ছায় চলে গেছেন। তাকে ফিরিয়ে আনতে আমি কয়েকবার গিয়েছি, কিন্তু তিনি আসতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, বাবার সম্পত্তিতে যে অংশ পাবেন, সেখানে একটি ছাপড়া তুলে থাকবেন।”

বৃদ্ধার ভাই ও স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির দাবি, প্রায় এক মাস ধরে তারা তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তিনি সেখানে থাকতে বা খাবার গ্রহণ করতে রাজি হননি। তার একমাত্র দাবি, বাবার সম্পত্তিতে নিজের প্রাপ্য অংশে একটি ছোট ঘর তুলে বসবাস করবেন।

বৃদ্ধা হালিমা খাতুনও একই কথা জানান। তিনি বলেন, তিনি আর ছেলের বাড়িতে ফিরে যেতে চান না; বাবার সম্পত্তিতে নিজের জায়গায় থাকতেই চান।উল্লেখ্য, ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে বৃদ্ধাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয়রা।

ভাঙ্গুড়ায় মাদকসেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারা ও অর্থদন্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা পৌরসভার কালীবাড়ী এলাকায় মাদকসেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার ৩ জুলাই রাত ৮টার দিকে পৌরসভার কালীবাড়ী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে মাদকসেবনের প্রমাণ পাওয়া গেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং মোঃ জাকির শাহ(৪৫), পিতা- মৃত জলিল শাহ, সাং- মেন্দা শাহপাড়া, ভাঙ্গুড়া, পাবনা কে ৫০০/= টাকা অর্থদন্ড ও ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালতটি পরিচালনা করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান।এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে তাকে সহযোগীতা করেন।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, “মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ