আজঃ শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২৬

পাহাড়ের মাটি ধ্বসে ২ শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে নিন্মাঞ্চল, বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা চার দিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জনজীবন। মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে পানিতে তলিয়ে গেছে নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকা। বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বুধবার স্থগিত করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায় অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষাও। নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি উঠেছে।


নিচু এলাকার অনেক বাসায় পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও টয়লেট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিচতলার বাসিন্দারা।গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর।


এদিকে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন চশমা পাহাড় এলাকার পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে সুমাইয়া (১২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার লাশ উদ্ধার করেন।সুমাইয়া ওই এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের মেয়ে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জোন-৪ এর উপসহকারী পরিচালক শাহ ইমরান বলেন, দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনার সময় ঘরে থাকা সুমাইয়ার মা-বাবা বের হয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে পাশের কক্ষে থাকা সুমাইয়া বের হতে পারেনি।পরে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার এক নম্বর সড়কে জমেছে কোমর সমান পানি, একই অবস্থা কাতালগঞ্জেও। পানির তোড়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন নিরাপদ স্থানে।
পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার একটি ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, বারবার লোডশেডিং হচ্ছে, অথচ জেনারেটরের তেলও শেষ। বাধ্য হয়ে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে তেল আনতে ফিলিং স্টেশনে যেতে হয়েছে তাকে। অনেক কষ্টে একটি রিকশা ঠিক করলেও তার সিট পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে বলে জানান তিনি।

চকবাজারের উর্দু গলি দিয়ে পানি নেমেছে স্রোতের মতো। হাসমত উল্লাহ মুন্সেফ লেইন, তেলিপট্টি, চক সুপার মার্কেট ও কাপাসগোলায় জমে আছে কোমরসমান পানি। এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বললেন, নিজের বাসায় পানি না উঠলেও আশপাশের পুরো এলাকা কোমরসমান পানিতে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও স্রোত এতটাই ভয়াবহ যে রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেছে, বন্ধ হয়ে গেছে গাড়ি চলাচলও।

এদিকে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। যান চলাচল বন্ধ হয়ে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।এছাড়া নগরের ইপিজেড এলাকার সড়কে জমেছে হাঁটুসমান পানি। আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় পানি কোমর পর্যন্ত। এই পানি মাড়িয়েই কর্মস্থলে যেতে হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আল আমিনকে।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকাও পুরোপুরি তলিয়ে গেছে পানিতে। এই এলাকার পাঁচ নম্বর সড়ক থেকে প্রধান সড়কে উঠতে মাত্র এক কিলোমিটারেরও কম পথ পাড়ি দিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবু আজাদের সময় লেগেছে পুরো এক ঘণ্টা। এলাকার অনেক বাড়ির নিচতলা ডুবে গেছে পানিতে। আশপাশের ফরিদারপাড়া ও শমসেরপাড়া এলাকাও পুরোপুরি পানির নিচে। শুলকবহরের আব্দুল লতিফ সড়ক ও আশপাশের এলাকা কোমরপানিতে ডুবে আছে।

টানা বর্ষণে বুধবার নতুন করে পানি উঠেছে আরও বেশ কিছু এলাকায়। সিডিএ ১ নম্বর, সিটি গেট, জামালখানের হেমসেন লেন, নাসিরাবাদ ওমেন কলেজ এলাকা, জিইসি মোড়, ফয়’স লেক, গরিব উল্লাহ শাহ মাজার এলাকা ও ইস্পাহানি রেল গেট এলাকা তলিয়ে গেছে পানিতে।জলাবদ্ধতার কারণে অনেকের বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে।

এদিকে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড মিলে ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবু ভারী বৃষ্টি হলেই আগের মতোই তলিয়ে যাচ্ছে নগর, আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি বা কাদা ছোড়াছুড়ি না করার আহ্বান জানিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, এটি একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। একদিনে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে যেকোনো শহরে বন্যা হয়ে যায়, কিন্তু আল্লাহর রহমতে চট্টগ্রামে এখনো সেই পরিস্থিতি হয়নি। কোনো সংস্থাকে দোষারোপ না করে চসিক, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর একযোগে মাঠে থেকে কাজ করছে।

সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনের দাবি, সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ শেষ হয়েছে এবং স্লুইস গেট ও রেগুলেটরগুলো পানি নামাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে। তবে এত অল্প সময়ে ৪১২ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত সামাল দেওয়া যেকোনো আধুনিক শহরের জন্যই কঠিন পরীক্ষা।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী আরও দুইদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে হচ্ছে এই বৃষ্টিপাত। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সম্ভাবনা রয়েছে আরও ভারী বৃষ্টির।

আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি জারি করা হয়েছে পাহাড়ধসের সতর্কবার্তাও। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের মূলহোতা বাদশাকে গ্রেপ্তার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের মূলহোতা মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে বাদশাকে (৩৬) গ্রেপ্তার
করেছে পুলিশ।এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ছোরা এবং বিভিন্ন সময়ে ছিনতাই করা ১১টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফোনগুলোর মধ্যে মামলার বাদীর ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনও রয়েছে।

জানা যায়, ৬ জুলাই সকালে কোতোয়ালী থানা এলাকায় যাত্রীবেশে বাসে উঠে ছোরা দেখিয়ে এক যাত্রীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় চক্রের সদস্যরা।
মামলার তদন্তে সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করেন। পরে কোতোয়ালী থানার একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ জুলাই বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রামের পটিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা সাইফুল ইসলাম ওরফে বাদশাকে গ্রেপ্তার করে।এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ছোরা এবং বিভিন্ন সময়ে ছিনতাই করা ১১টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

বাদশা ছিনতাইকারী দল নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিউ মার্কেট, স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় আগত ব্যবসায়ী, পথচারী ও বাসযাত্রীদের টার্গেট করে ছিনতাই চালাতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিএমপি দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, চক্রের পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পানি তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও বাড়ি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের কারণে কয়েকটি উপজেলাও কমবেশি প্লাবিত হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পানি ওঠার কারণে বৃহস্পতিবার সকালে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ ছিল।

জানা গেছে, টানা বর্ষণের কারণে দুদিন ধরে সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি উঠতে থাকে। ফসলি জমি ও বাড়ি তলিয়ে যায়। ডলু খালের বাঁধ ভেঙে বিস্তির্ণ এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। দুই লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে বলে জানা যায়।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, পুরো উপজেলার সবগুলো অর্থাৎ ১৭ ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গৃহবন্দী রয়েছে এসব এলাকার মানুষ। ৮৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, সাতকানিয়ার কেরানিহাট এলাকার ব্যাপক এলাকায় পানি রয়েছে। এর ফলে সাতকানিয়া থেকে বান্দরবানের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বান্দরবান থেকে নেমে আসা পানির ঢল এবং বৃষ্টির পানি যোগ হয়ে দুই থেকে তিন ধরে এলাকাগুলো বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে বলে জানা যায়।

এদিকে লোহাগাড়া উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত। এর মধ্যে আমিরাবাদ ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতগ্রিস্ত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ১২টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। তবে এগুলোতে লোকজন খুব একটা যাচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, ৯ উপজেলার মধ্যে ৫টি কমবেশি আক্রান্ত হয়েছে। আমিরাবাদ ইউনিয়ন বেশি আক্রান্ত হয়েছে। এখান থেকে ৯০ জনকে উদ্ধার করে আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। এ ছাড়া পদুয়া ইউনিয়নে গৃহবন্দী লোকজনকে উদ্ধার করার জন্য পাঠানো হয়।

চন্দনাইশের পাঁচটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে। এরমধ্যে ধোপাছড়ি, বরকল, বৈলতলী ইউনিয়ন বেশি আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলায় ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, ১৩ হাজার লোক গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ধোপাছড়ি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ওখানে সাড়ে তিনশত লোক বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে উঠছেন। শুকনো খাবার এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেওয়া হচ্ছে। দোহাজারী এলাকায় পানি ওঠার কারণে কক্সবাজারের সঙ্গে সকালে যান চলাচল বন্ধ ছিল বলে জানান। তবে বর্তমানে তা চালু রয়েছে বলে ইউএনও জানিয়েছেন।

এছাড়া বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া, গণ্ডামারা, শেখেরখিল, নাপোড়া, খানখানাবাদসহ বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে লোকজনের। উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে আশ্রয়কন্দ্র খোলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানায়, প্রায় সাড়ে ৪ লাখ লোক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যায় সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। এ ছাড়া বাঁশখালীতেও গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফ উদ্দিন জানান, জেলায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ বন্যায় এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাহাড় ধস ও পানিতে ভেসে গিয়ে এ পর্যন্ত ৫ জন মারা গেছেন। ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ