গাছ উপড়ে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সঞ্চালন লাইন চট্টগ্রামে বিদ্যুৎহীন বিভিন্ন উপজেলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।কোথাও টানা দুইদিন, আবার কোথাও তিনদিন ধরে বিদ্যুৎহীন রয়েছে অনেক গ্রাম। এতে জনজীবনের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে তারা পড়াশোনা, অনলাইনে প্রয়োজনীয় নোট সংগ্রহ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার ৭১ হাজার ১১৬ জন পরীক্ষার্থী চরম বিপাকে পড়েছে।

জানা গেছে, কোথাও গাছ উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়েছে, কোথাও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কোথাও তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।
তারা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজ চলছে।দ্রুত সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামত করে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, সাবস্টেশন ও বিতরণ লাইনের অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মাঠে একাধিক টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে।জানা গেছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারা, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির, সাতকানিয়ার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় ৩৩ কেভি প্রধান সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা লাইন মেরামতের কাজ চালিয়ে গেলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না।সাতকানিয়া উপজেলায় গত বুধবার সকাল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। টানা ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অধিকাংশ বাড়িতে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পাওয়ার ব্যাংকসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের চার্জ শেষ হয়ে গেছে। জেনারেটরে চার্জ দিয়ে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। সড়কে হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে বাজারে যাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।আনোয়ারার বটতলী এলাকার বাসিন্দা মো. মামুনুল করিম জানান, ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন ছিলাম। মোবাইলে ছিল না নেটওয়ার্ক। বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যুৎ এসেছে।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় অনেকগুলো লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের প্রকৌশলী ও লাইনম্যানরা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামত করে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় পানি জমে গেছে বা এখনও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, সেখানে নিরাপদ পরিবেশ না পাওয়া পর্যন্ত মেরামতকাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে। এখন আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সব লাইনে মেরামত পর্যায়ক্রমে চলছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙরে কার্গো জাহাজ থেকে পড়ে নাবিক নিখোঁজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙরে কার্গো জাহাজ থেকে সাগরে পড়ে এক বাংলাদেশি স্টিভেডোর নিখোঁজ হয়েছেন। তার নাম ইয়াসিন (৫০)। রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটের দিকে বন্দরের আলফা অ্যাঙ্করেজে অবস্থানরত ‘এমভি ক্রিমসন গ্রেস’ জাহাজ থেকে সাগরে পড়ে তিনি নিখোঁজ হন। এদিকে বিকেলে এ রিপোর্ট লেখাকালে তাকে উদ্ধারে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযান চলছে।চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই কোস্ট গার্ডকে উদ্ধার অভিযানের জন্য অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে আশপাশে অবস্থানরত সব জলযানকে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটির রেডিও থেকে অনবরত ভিএইচএফ বার্তা প্রচার করা হয়।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সাগরে পড়ার পর জোয়ারের স্রোতে ইয়াসিন উত্তর দিকে ভেসে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পাওয়ার পরপরই তাকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়।উদ্ধার অভিযানে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ও একটি সোয়াডস বোট এবং কোস্ট গার্ডের দুটি জাহাজ ও একটি বোট অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পূর্ব জোনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর নোঙর করা জাহাজে ধাক্কা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের আলফা অ্যাঙ্করেজে আবারও দুটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহত, জাহাজে পানি প্রবেশ কিংবা পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটেনি। দুই জাহাজের ২১ জন ক্রুই নিরাপদে রয়েছেন।শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে, তবে রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে আলফা অ্যাঙ্করেজে প্রবল স্রোতের কারণে প্রবেশকারী বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি আনাসসা নোঙর করে থাকা এমভি জাহাব জাহানের সামনের অংশে সামান্য ধাক্কা দেয়। এমভি আনাসসা ২১ জন ক্রু নিয়ে স্ল্যাগ বহন করছিল।বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, এ ঘটনায় দুই জাহাজের কোনো ক্রু আহত হননি। জাহাজ দুটিতে পানি প্রবেশ বা পরিবেশ দূষণেরও কোনো ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই জাহাজ দুটি নিরাপদে আলাদা হয়ে আবার নোঙর করে। বর্তমানে বন্দরের নৌ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে থাকা একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সঙ্গে প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী এমটি সি স্পাইক ট্যাংকারের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্যাংকারটির ইঞ্জিন রুমে ফাটল দিয়ে পানি ঢুকে সাময়িক বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। তবে কার্গো ট্যাংক অক্ষত থাকায় কোনো তেল ছড়িয়ে পড়েনি।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ