কুষ্টিয়ায় নষ্ট দাঁত রেখে তুলে ফেলা হলো সুস্থ দাঁত

হৃদয় রায়হান কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় চরম গাফিলতির অভিযোগ; ভুক্তভোগী ঢাবি শিক্ষকের মা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগে এক রোগীর নষ্ট দাঁতের পরিবর্তে সুস্থ দাঁত তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চিকিৎসায় গুরুতর অবহেলা, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এবং এবং চিকিৎসা-নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন রোগীর পরিবার। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী আনোয়ারা খাতুন কল্পনা জানান, গত ১ জুলাই তীব্র দাঁতের ব্যথা নিয়ে তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে সহকারী ডেন্টাল সার্জন ডা. শারমিন জাহান পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, তার একটি দাঁতে বড় ধরনের ক্ষয় (ক্যাভিটি) হয়েছে এবং সেটি অপসারণ ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর চিকিৎসা নেই। পরে তাকে ১২ জুলাই হাসপাতালে এসে দাঁত অপসারণের জন্য নির্ধারিত তারিখ দেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, নির্ধারিত দিনে অস্ত্রোপচারের পরও আনোয়ারা খাতুনের ব্যথা কমেনি। বরং ব্যথা আরও তীব্র হলে দুই দিন পর তিনি অন্য এক দন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, যে দাঁতটি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল সেটি অক্ষত রয়েছে। এর পরিবর্তে পাশের একটি সম্পূর্ণ সুস্থ দাঁত তুলে ফেলা হয়েছে।

রোগীর ছেলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেন, দাঁত অপসারণের দিন অপারেশন কক্ষের দায়িত্বে ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. চন্দন কুমার পাল। কিন্তু তিনি অপারেশন কক্ষে উপস্থিত হওয়ার আগেই তার সহকারী একের পর এক কয়েকজন রোগীর দাঁত অপসারণ করেন।

তার ভাষ্য, “আমার মায়ের অস্ত্রোপচারের আগে ডা. চন্দন কুমার পাল মাত্র এক মিনিটের মতো অপারেশন কক্ষে অবস্থান করেন ও পরে চলে যান। এরপর তিনি পাশের কক্ষে বসে ফোন ব্রাউজ করছিলেন, সেই সময় তার সহকারী কোন চিকিৎসকের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়াই রোগীদের দাঁত অপসারণ করেন। আমি বিষয়টি দেখে আমার পরিচয় এবং মায়ের চিকিৎসার বিষয়টি বললে তিনি বলেন, ‘কোনো সমস্যা নেই, আমার সহকারীই করতে পারবে।'”

তিনি আরও বলেন, “অস্ত্রোপচারের পরও মায়ের ব্যথা না কমায় আমরা অন্য চিকিৎসকের কাছে যাই। তখন জানতে পারি, যে দাঁতটি তোলার কথা ছিল সেটি রয়ে গেছে, আর পাশের ভালো দাঁতটি তুলে ফেলা হয়েছে। এটি শুধু একটি চিকিৎসাগত ভুল নয়, একজন রোগীর প্রতি চরম অবহেলার উদাহরণ।”

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে সাধারণ রোগীরা কী ধরনের চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যায়।”

এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহযোগী অধ্যাপক ডা. চন্দন কুমার পাল অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি শুধু বলেন, “রোগীকে আগামী শনিবার নিয়ে আসুন, দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রোগীর পরিবার ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁত অপসারণের আগে রোগীর পরিচয়, সংশ্লিষ্ট দাঁতের অবস্থান এবং চিকিৎসা পরিকল্পনা একাধিক ধাপে নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক চিকিৎসা-প্রোটোকলের অংশ। এ ধরনের ভুল রোগীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তির কারণ হতে পারে। তাই অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিসি-এসপি মাঠে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে নেমেছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। জেলার আনোয়ারা উপজেলায় মশক নিধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে থানার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি পুকুর পরিষ্কার করেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। এ ছাড়া, জনসচেতনতামূলক র‌্যালি এবং উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হয়।শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সদর ও আনোয়ারা থানা এলাকায় এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগান এবং ‘দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।

সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি সদর সড়ক প্রদক্ষিণ করে আনোয়ারা থানায় গিয়ে শেষ হয়। পরে থানার ভেতরে পরিত্যক্ত পুকুরটি পরিষ্কারে অংশ নেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু জাফর মজুমদার ও আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।

কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শুধু চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য বাড়িঘর, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ময়লা-আবর্জনাও নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা না ফেলে রাস্তায় ফেললে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গুতে যারা মারা গেছেন, তারা আমাদেরই ভাই বা নিকটাত্মীয়। এভাবে আর কারও প্রাণ যাক, তা তারা চান না।

এ সময় পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, থানার ভেতরে এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে নালা-নর্দমা পর্যন্ত সব জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশা বিস্তার লাভ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, থানার পুকুরটি সবাই মিলে পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থানার আশপাশের জঙ্গলও পরিষ্কার করা হবে। নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখার মধ্য দিয়ে অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের সঙ্গে তিনি একাত্মতা প্রকাশ করেন।

পোলিওর নিরাময়মূলক চিকিৎসা নেই, টিকাদানের মাধ্যমে প্রতিরোধ সম্ভব : চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পোলিও একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের স্থায়ী পক্ষাঘাতসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, এ রোগের নির্দিষ্ট নিরাময়মূলক চিকিৎসা নেই। তবে যথাযথ টিকাদানের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিশ্ব পোলিও দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন থেকে বের হওয়া র‌্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৬৫-এর রিপসা টিম আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রোটারিয়ান মানতাকা জামান কাপ্পী।

মেয়র বলেন, কোনো শিশু যেন টিকাদানের আওতার বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক ভুল ধারণা দূর করা জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পোলিও নির্মূলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে সর্বশেষ বন্য পোলিও ভাইরাসজনিত রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২০০৬ সালে। ২০১৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলকে পোলিওমুক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূলের লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। এ কারণে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে নিয়মিত টিকাদান, রোগ শনাক্তকরণ ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, পোলিও নির্মূল কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।রোটারি ইন্টারন্যাশনালের ভূমিকার প্রশংসা করে মেয়র বলেন, পোলিও নির্মূলে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। টিকাদান কার্যক্রমে সহায়তা, জনসচেতনতা সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নেও রোটারির মানবিক কার্যক্রম প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। টিকাদান শিশুদের বিভিন্ন প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। চট্টগ্রাম নগরীকে ‘হেলদি সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে চসিক টিকাদান কার্যক্রম সফল করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বী এবং রিপসা কমিটির উপদেষ্টা ও ডেপুটি কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর পিডিজি আব্দুল আহাদ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১০ জন সুবিধাবঞ্চিত নারীকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে ১০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করেন কো-অর্ডিনেটর পিপি নজরুল ইসলাম নান্টু, পিপি মিনহাজ ইউ নাহিয়ান, পিপি ইব্রাহিম হাসান, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর পিপি সুদীপ কুমার চন্দা, রেজিস্ট্রেশন চেয়ার পিপি তাহিয়া কবির, রেজিস্ট্রেশন কো-চেয়ার পিপি জাহিদুল ইসলাম এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর ও ইভেন্ট প্রমোশন চেয়ার পিপি হাসানুজ্জামান শান্টুসহ রিপসা ও রোটারি ডিস্ট্রিক্টের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রিপসার সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর পিপি আবু তৈয়ব, পিপি মনিরুজ্জামান, পিপি ফেরদৌস আরা, সিনিয়র স্পেশাল এইড পিপি আফতাব উদ্দিন সিদ্দিকী, পিপি রিজওয়ান শাহিদী, পিপি এমদাদুল আজিজ চৌধুরীসহ বিভিন্ন রোটারি ক্লাবের বর্তমান ও সাবেক সভাপতি, সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।
আয়োজকরা জানান, বিশ্ব পোলিও দিবসের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো পোলিও নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং এ বৈশ্বিক উদ্যোগে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা। র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনালের ‘এন্ড পোলিও নাও’ কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানান।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ