রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতায় লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তিতে বেদখল খাল উদ্ধার ও সংস্কারের দাবি

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো-কাঞ্চন পৌরসভা, ভুলতা, গোলাকান্দাইলসহ আশপাশের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। হান্ডি মার্কেট-ডেওরি বিল খাল, চিপা খাল, কালাদি-ভুলতা খাল, বাড়ৈপাড়-ডুলুরদিয়া-নলপাথর খাল, ইকবালেরটেক-নরাবো-নলপাথর খাল বেদখলসহ পানি নিষ্কাশনের খাল বাধাগ্রস্থ হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

গত কয়েকদিনের অতিবর্ষণে কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমর সমান পানি জমেছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়া, গবাদি পশু সরিয়ে নেওয়া এবং বাঁশের মাচায় বসবাসের মতো চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। বেদখল হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধার ও সংস্কার করা দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তারাবো, বরপা, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, বৌবাজার, বাঘমোর্চা, খালপাড়, ইসলামবাগ, নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, বলাইখা, বিজয়নগর, মদিনানগর, তারাবো পৌরসভার তেঁতলাবো, পশ্চিম কান্দাপাড়া, উত্তর মাসাবো, যাত্রামুড়া, রূপসী, কাঞ্চন পৌরসভার হাটাবো টেকপাড়া, কালাদি, নলপাথর, নরাবো, কুশাবো, আইতলা, ডুলুরদিয়া ও ভুলতা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, সোনাবো, পাঁচাইখা, ইসলামপুরসহ আশপাশের এলাকায় এখন সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।

কারো বাড়ির উঠানে পানি। অনেকের ঘরেই হাঁটু থেকে কোমরপানি। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। জমির ফসল হলদে হয়ে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গবাদিপশু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় কেউ কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ কেউ বাঁশের মাচার ওপর বসবাস করছে। কয়েকটি শিল্পকারখানায়ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই সব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট। তা ছাড়া শিল্পকারখানার নির্গত কেমিক্যাল ও দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানিতে দূষণ হয়ে রোগাক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়।

শিশুরা ঠান্ডা জনিত ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত। জলাবদ্ধতায় শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় আসা যাওয়া করতে পারছে না। তাতে তাদের লেখাপড়া চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খামারের মাছ ভেসে গেছে। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন মাছ চাষীরা। আবাসন প্রকল্প ইস্টউড সিটি বালু ফেলে পানি নিষ্কাশনের খাল ভরাট করে ফেলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ময়লা, দুর্গন্ধ, আবর্জনাযুক্ত কুচকুচে কালো, দূষিত পানিতে অনেকেই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।

হান্ডি মার্কেট এলাকার মাদ্রাসার শিক্ষক নুরুল হক হানিফ বলেন পানির কারণে বাচ্চারা মাদ্রাসায় আসতে পারে না, যদিও আসে চর্মরোগে আক্রান্ত হয়। নড়াবো গ্রামের গৃহবধূ আকলিমা আক্তার বলেন, তার বসতঘরের ভিতরে পানি ঢুকে গেছে। জলাবদ্ধতায় রান্না বন্ধ হয়ে গেছে। বরপা শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা রওশন আলী বলেন, ১০-১২ বছর ধরে এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদের বাঁচতে হচ্ছে।

মাসাবো গ্রামের গৃহবধূ জিন্নাত আরা বলেন, তার ঘরে হাঁটুপানি। চুলায় আগুন জ্বালাতে পারেন না। ঘরে খাবার নেই। বিশুদ্ধ পানি নেই। শুকনো খাবার খেয়ে বাঁচতে হচ্ছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।নাগেরবাগ গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন সাজিদ বলেন, সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় অতিকষ্টে চলছে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার। দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট। শিল্পকারখানার নির্গত বর্জ্যে পানি নিষ্কাশন খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্পকারখানার নির্গত পানি কুচকুচে কালো রং ধারণ করেছে। এই পানিতে হাঁটাচলা করতে গিয়ে মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পানির কীট-পতঙ্গসহ মাছ মরে যাচ্ছে। আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

গোলাকান্দাইল এলাকার হাজী আব্দুল মতিন বলেন, রূপগঞ্জ শিল্পাঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সে কারণে জমির দাম বেশি। তুলনামূলকভাবে নিচু জমির দাম কম। তাই অনেকেই নিচু অঞ্চলে কম দামে জমি কিনে ঘরবাড়ি নির্মাণ করছেন। আর সে কারণেই নির্মিত ঘরবাড়িতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।আবাসন প্রকল্প ইস্টউড সিটির ল্যান্ড অফিসার জসিম উদ্দিন বলেন, খালের জায়গা রেখেই বালু ভরাট করা হয়েছে। সরকারি জমি কিংবা খাল আমাদের দখলে নেই। রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদল কুমার সাহা বলেন, চর্ম ও পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। তাদের চিকিৎসাপত্র ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক রাকিবুল আলম রাজিব বলেন, জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলও দখলকৃত পানি নিষ্কাশন খাল। বিশেষ করে তারাবো পৌরসভার খালগুলো শিল্প প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে যাওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। খাল উদ্ধার করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কাঞ্চন পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ মারজানুর রহমান বলেন, কাঞ্চন পৌরসভা এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসণে আমরা কাজ করছি। অপরিকল্পিত ভাবে সেচ খাল নির্মাণ ও নিয়মিত সংস্কার না করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হওয়ায় এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। সকল সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে বেদখল হয়ে যাওয়া ৮টি খাল উদ্ধার করা হয়েছে। বেদখল হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধার ও পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করার কাজ চলমান রয়েছে। শিগগিরীই সকল জলাবদ্ধতা নিরসন করা যাবে। জলাবদ্ধতা এখন স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি নিষ্কাশনের খালগুলো সংস্কার করা হলে জলাবদ্ধতার সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে বিস্ফোরণে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কনফিডেন্স লবণ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুর নবী (২৫) নামে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ জনে।

রবিবার (১৯ জুলাই) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।নিহত নুর নবী বোয়ালখালী উপজেলার চরখিজিরপুর এলাকার সাতগড়িয়া পাড়ার নুরুচ্ছফার ছেলে। তিনি এক বছর চার মাস বয়সী এক পুত্র সন্তানের জনক।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই কনফিডেন্স লবণ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বোয়ালখালীর আহলা-কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের মানুষের সেবা করার সুযোগ চান মো. কাউসার ফারুক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মী মো. কাউসার ফারুক স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনে ১০ নং আহলা-কড়লডেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে জনগণের সমর্থন,ভালবাসা ও দোয়া চেয়েছেন।
মো. কাউসার ফারুক মরহুম হাবিবুর রহমান সওদাগরের পুত্র। তাঁর পিতা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্য এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একজন সৈনিক ছিলেন।

তিনি জানান, ১৯৮৮ সালে ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন বোয়ালখালী থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি এবং কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে সাধারণ মানুষের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করেন।

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি আহলা সমাজ কল্যাণ সংস্থার সহ-সভাপতি, আল কোরআন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, বোয়ালখালী ফোরাম, চট্টগ্রাম-এর সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং আহলা চাইল্ড কেয়ার একাডেমি পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও শিশুকিশোর সংগঠনের মাধ্যমে মানবকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সামাজিক উদ্যোগে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালখালী উপজেলা ও ১০ নং আহলা-কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জনগণের সমর্থন প্রত্যাশা করে মো. কাউসার ফারুক বলেন,আমি বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধি হওয়া মানে ক্ষমতা নয়, বরং মানুষের সেবার দায়িত্ব গ্রহণ করা। জনগণ যদি আমাকে তাদের সেবার সুযোগ দেন, তাহলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, শিক্ষাবান্ধব ও মানবিক ইউনিয়ন গড়ে তোলার জন্য সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে কাজ করব।”

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে সমান উন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থরক্ষা এবং আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গঠনে তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান।

সবশেষে তিনি আহলা-কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের দোয়া, ভালোবাসা ও মূল্যবান সমর্থন কামনা করেন এবং বলেন, “আমি প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই। আপনাদের সমর্থনই হবে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও উন্নত ইউনিয়ন গড়ার শক্তি।

আলোচিত খবর

নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন ৩১ জুলাই পর্যন্ত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন নিবন্ধিত না হওয়া নাগরিকরা। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হবে। ইসি জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে তালিকাটি প্রদর্শন করা হবে। তালিকায় নাম বাদ পড়া বা তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্টরা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নতুন অন্তর্ভুক্তি বা তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। সব আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর আপত্তি গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ