হাফেজ শাহ্ বজলুর রহমান (রহ.)-এর ১১৬তম পবিত্র ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছে

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দরবার-এ বেতাগী আস্তানা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা, উপমহাদেশের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বীর পুরোধা ও আধ্যাত্মিক সাধনার মহান ব্যক্তিত্ব সৈয়দুল আজম হযরত আল্লামা হাফেজ হাকিম শাহ মুহাম্মদ বজলুর রহমান (রহ.) এবং তাঁর পিতা হযরত শাহ রাহাত আলী (রহ.)-এর পবিত্র মহান ৮ সফর উপলক্ষে ১১৬তম ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দরবার-এ বেতাগী আস্তানা শরীফে বেতাগী আনজুমানে রহমানিয়ার ব্যবস্থাপনায় এ ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়।ওরশ উপলক্ষে ২০ জুলাই থেকে তিনদিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ইতেকাফ, যা ৫ সফর (সোমবার) বাদ আসর থেকে শুরু হয়ে ৮ সফর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত চলমান ছিল।

এছাড়া কর্মসূচির মধ্যে ছিল পবিত্র খতমে কোরআন শরীফ, খতমে খাজেগান শরীফ, খতমে গাউছিয়া শরীফ, খতমে হিজবুল বাহার শরীফ, খতমে দালায়েলুল খায়রাত শরীফ, খতমে সূরা ইখলাস শরীফ, খতমে সূরা মুজ্জাম্মিল শরীফ, খতমে তাহলীল শরীফ, খতমে ইউনুস শরীফ, জিকির, মিলাদ মাহফিল এবং বৃহস্পতিবার রাতে আখেরি মোনাজাত ও তবারুক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

অনুষ্ঠানে দরবার-এ বেতাগী আস্তানা শরীফের সাজ্জাদানশীন পীরে তরিকত মাওলানা মোহাম্মদ গোলামুর রহমান আশরফ শাহ (মা.জি.আ.) সভাপতির বক্তব্য প্রদান করেন। বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, ভক্ত-অনুরাগী ও আশেকানে রাসূল (সা.) ওরশ শরীফে অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

হযরত আলী শাহ হুজুর : আধ্যাত্নিক সাধনার প্রাণ পুরুষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দরবার এ বেতাগী আস্তানা শরীফের আধ্যাত্নিক সাধনার প্রাণ পুরুষ, উপমহাদেশের বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন এর অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, সৈয়দুল আজম, হযরত হাফেজ হাকিম শাহ মুহাম্মদ বজলুর রহমান (রহঃ) এর যোগ্যতম উত্তরসুরী ও সাহেব জাদা, একাত্তরের মহান মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক, পীরে তরিকত রাহনুমায়ে শরীয়ত,মুরশীদে বরহক, কুতুবে জামান, হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান আলী শাহ (রহঃ)।হুজুর কেবলা, তাহার জীবনের বেশিসময় ব্যয় করেছেন, বেতাগী দরবার শরিফের আশেক ভক্ত এবং মুরিদানদের সাথে সু-সম্পর্কের মাধ্যমে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্গত, ধর্মপুর-জাহানপুর ইউনিয়ন এবং রাউজান উপজেলার হলদিয়া-উত্তরসর্তা গ্রামে হুজুর সময় পেলে তশরিফ রাখতেন।

তিনি চট্টগ্রাম-ফটিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ ধর্মপুর ইউনিয়নে, তাঁর পিতার স্মৃতি-বিজড়িত স্থানে ১৯৮৫ সালে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্টা করেন, যার নাম রহমানিয়া মুহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসা। উক্ত মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে, তিনি প্রায় সময় দক্ষিণ ধর্মপুরে তশরিফ রাখতেন। তিনি ধর্মপুরের মানুষকে অনেক বেশি ভালোবাসতেন। তারই প্রেক্ষিতে, তাহার অত্যান্ত স্নেহের রুহানি সন্তান(মুরিদ), দক্ষিণ ধর্মপুর রহমানিয়া মুহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্য এবং দক্ষিণ ভুঁইয়া গাজীর বাড়ীর নিবাসী এবং আলী শাহ হুজুরের একনিষ্ঠ মুরিদ, মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানির বাসভবনে আসতেন।

মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে তিনি নিজের সন্তান হিসাবে জানতেন। আলী শাহ হুজুর তাহার জীবদ্দশায় মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে খুবই ভালোবাসতেন। যেমন করে আশেক-মাসুক একসুতাঁই গাথাঁ থাকে। হুজুর যতবার দক্ষিণ ধর্মপুরে আসতেন, তিনি মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানির বাসভবনে আরাম আয়েশ করতেন। তাহার বাসবভনে হুজুর থাকতে বেশি পছন্দ করতেন। মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানি এবং তাহার পরিবার, আলী শাহ হুজুরের খেদমতে সবসময় নিবেদিত থাকতেন। পরিবারের সকলে আলী শাহ হুজুরে আদেশ উপদেশ মতো চলতেন। আলী শাহ হুজুর তাহার জীবদ্দশায় মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে নিজের লোহানী সন্তান বলতেন। তাহাকে ছেলে পরিচয় দিতেন।

পুত বলে ডাকতেন। হযরত জিল্লুর রহমান (আলী শাহ্) হুজুর মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানির বাসস্থানের যে রুমে সর্বদা অবস্থান করতেন, সেই স্মৃতি বিজড়িত খাস স্হানটি এখনো সংরক্ষিত আছে এবং মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানির পরিবারবর্গ সেটা যথাযথ মর্যাদার সাথে স্মৃতি বহন করে রেখেছেন হযরতের হাস হুজরা শরীফ।আলী শাহ হুজুরের ইন্তেকালের একবছর আগে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানি এবং তাহার পরিবার ঐ হাসপাতালে হুজুরকে দেখতে গেলে আলী শাহ হুজুর মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে হাসপাতালে দেখা মাত্রই হঠাৎ জজবা হালতে ডাকে। হুজুরের কাছে নিয়ে গিয়ে হুজুর তাহার সিট থেকে কষ্ট করে নেমে দাড়িঁয়ে মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে নিজের হাতে, নিজের মতো করে মাথায় একটি পাকড়ি পরিয়ে দেন।

তখন উপস্থিত সকলে, পীর-মুরিদের এই ভালোবাসার দৃশটি দেখে অভিভূত হন। এর মাধ্যমে আলী শাহ হুজুর স্বীকৃতি দিয়ে গেলেন তাঁহার আস্থাভাজন মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে। আলী শাহ হুজুরের কেমন ভালোবাসার একজন রুহানি সন্তান ছিলেন। আল্লাহ যেন এই মহান স্বীকৃতি ও তরিকতের খেদমত এবং গুণের উসিলায়, মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে জান্নাতবাসী করেন।

জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৩ মার্চ সোমবার বিকেল ৪টায় মরহুম আলহাজ্ব আলী আহমদ কোম্পানীকে তার মহান মুর্শিদ কর্তৃক সেচ্চায় খেলাফত দান করেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পূর্ব পাশ্বে’ পিপলস হাসপাতালে খেলাফত দানকালে আলী শাহ হুজুর নিজ মুখে বলেন,আমাকে আমার পীর ও আমার আব্বা জানের হুকুম মতে মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে খেলাফত প্রদান করতে বাধ্য হলাম। এই কথা বলার সাথে সাথে নিজ মাথায় পাকড়ি বেধে দিয়ে ধন্য করেন। এসময় সাহেব জাদা মরহুম আলহাজ্ব¡

আলী আহম্মদ কোম্পানি মেঝ ছেলে মোরশেদুল আলম, ধর্মপুর ফটিকছড়ির দক্ষিণ ভুইয়া গাজীর বাড়ীর শাহ আলম, রাউজান হলদিয়ার হয়রতের খাস খাদেম মো. ফোরকান, মুহাম্মদ গোলামুর রহমান আশরফ সাহেবের ছোট মামা, চট্টগ্রাম মহানগরীর নবাব সিরাজুদ্দৌলা রোড়স্থ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দেলোয়ার সাওদাগর, মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানির সহধর্মিনিসহ আরো অনেকে উপস্থিতি ছিলেন।

শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শোক মজলিস ও শোক র‌্যালি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে কারবালার শোকাবহ ঘটনা স্মরণে চট্টগ্রামে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শোক মজলিস ও শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগের আদর্শ তুলে ধরার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, বিশ্ব শান্তি এবং জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া র‌্যালীতে শোকাবহ কারবালার নানা ঘটনাবলি তাজিয়া, প্রতীকী কফিন, পতাকা, স্লোগান, মাতম ও কথামালায় তুলে ধরেন। শুক্রবার নগরের সদরঘাট হোসাইনিয়া ইমামবারগাহ থেকে হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে শোক মিছিল বের হয়। মিছিলটি নিউমার্কেট, জিপিও, কোতোয়ালী মোড়সহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সদরঘাট হোসাইনিয়া ইমামবারগাহে এসে শেষ হয়।

শোক মিছিলে শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর অংশ নেন। তারা ইমাম হোসাইন (আ.)-এর প্রতীকী কফিন ও বিভিন্ন লেখা সম্বলিত পতাকা (আলাম) বহন করেন। মিছিলজুড়ে কারবালার শহীদদের স্মরণে নওহা ও মার্সিয়া পাঠ করা হয়। ‘ইয়া হোসাইন’ ও ‘লাব্বাইক ইয়া হোসাইন’সহ বিভিন্ন শোকধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় সদরঘাট হোসাইনিয়া ইমামবারগাহে মাসায়েব মজলিস অনুষ্ঠিত হয়। এতে হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা আমজাদ হোসেন কারবালার প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) ও তাঁর পরিবার-পরিজনের শাহাদাতের হৃদয়বিদারক ঘটনা তুলে ধরেন। তাঁর বয়ানে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে অংশগ্রহণকারীরা বুক চাপড়ে মাতমের মাধ্যমে শোহাদায়ে কারবালার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

নিউমার্কেট এলাকায় অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মাওলানা আমজাদ হোসেন মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, ‘কারবালার শিক্ষা কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি সত্য, ন্যায়বিচার ও মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর এক চিরন্তন আহ্বান। আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানসহ নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর ওপর হত্যা, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, আমরা সকল প্রকার যুদ্ধ, আগ্রাসন ও নিরপরাধ মানুষের রক্তপাতের তীব্র নিন্দা জানাই। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং সব ধরনের জুলুম-নির্যাতনের অবসানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা কামনা করছি। একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে হত্যাকারীদের কঠিন শাস্তি কামনা করি ও ধিক্কার জানাই। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কারবালার মহান আদর্শ আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং শান্তি, ন্যায় ও মানবতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে শিক্ষা দেয়।’

মিছিলে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘ইয়া হোসেন’, ‘লাব্বায়িক ইয়া হোসেন’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়। হৃদয়গ্রাহী কণ্ঠে ‘আখেরি সালাম লও ওহে নানাজান, তোমারি হোসেন যায় কারবালা ময়দান’সহ ধর্মীয় নাত, গজল পরিবেশন করে যুবকরা মাতম করেন।পিপাসার্ত পথচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় শরবত।
মিছিলটি কালীবাড়ি মোড়, নিউমার্কেট মোড়, কোতোয়ালী মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমাম বাড়িতে ফিরে যায়। সেখানে দিনব্যাপী শিয়াদের চিরায়ত ঐতিহ্য অনুযায়ী আচার-অনুষ্ঠান, আলোচনা আর প্রার্থনা হয়।

বাবা তার ছোট্ট সন্তানকে কাঁধে নিয়ে শরিক হয়েছেন মিছিলে। ছোট্ট শিশুটির হাতে কালো পতাকা। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এই বাবা বলেন, ১০ মহরম হৃদয়বিদারক ঘটনা। ইমাম হোসাইন সপরিবারে কারবালার মরু প্রান্তরে শহীদ হয়েছেন। আজ আমার বাচ্চাকে নিয়ে হাঁটছি কিন্তু সেদিন ছয় মাসের সন্তানও রেহাই পাননি ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে। সেই স্মৃতি বুকে ধারণ করে আমার সন্তানকে নিয়ে কারবালার জুলুসে এসেছি।

একজন নারী বলেন, আজ ১০ মহররম। আমাদের পবিত্র আশুরা। কারবালায় ইমাম হোসাইন শহীদ হয়েছেন, তাঁর স্মরণে আমরা শোক পালন করছি। ইসলামের জন্য, হক প্রতিষ্ঠার জন্য নবীজীর বংশধর জীবন দিয়েছেন। এমনকি ছোট্ট আলি আজগর পিপাসার্ত অবস্থায় শহীদ হয়েছেন। উনাকে তীর মেরে শহীদ করা হয়েছে। ইমামের মিছিলে যে নারীরা ছিলেন, তাঁদের ওপর জুলুম করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর ১০ মহরম পবিত্র আশুরার দিনে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা স্মরণে নগরীর সদরঘাট থেকে এই শোক মিছিলের আয়োজন করে শিয়া সম্প্রদায়। এ উপলক্ষে সদরঘাট হোসাইনিয়া ইমামবারগাহে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও পালন করা হয়।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ