প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের পক্ষ থেকে নাঙ্গলমোড়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ৪র্থ দফায় ত্রাণ বিতরণ

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নে সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি-এর পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত নিম্নআয়ের ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৪র্থ দফায় খাদ্যসামগ্রী ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সালাউদ্দীন আলী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার এক হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবারের বসতঘর, আসবাবপত্র, কৃষিজমি, গবাদিপশু এবং জীবিকার প্রধান উৎস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি-এর নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় ধারাবাহিকভাবে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য”—এই মানবিক দর্শনকে ধারণ করেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল অসহায় ও বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। দুর্যোগের এই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করা এবং তাদের মুখে সামান্য হাসি ফোটানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু একটি রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক ও মানবিক কর্তব্য। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি-এর পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধারে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মহিলা প্যানেল চেয়ারম্যান ফাতেমা বেগম, ইউপি সদস্যা নিলুফার ইয়াসমিন, নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আজম ও জাহাঙ্গীর আলম মুন্সী, উত্তর জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সেলিম হাসান, বিএনপি নেতা মন্নান, বাচ্চা, মোরশেদ আলম, রবিউল আলম বুলবুল, তাজুল ইসলাম, বখতিয়ার ইসলাম বাচ্চু, যুবদলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ রাসেল, আহমেদ আরমান, গাজী রাসেলসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক সুবিধাভোগী।

অনুষ্ঠান শেষে সুবিধাভোগীদের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্যোগের এই সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি এবং ত্রাণ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পুকুরে স্নান করতে গিয়ে দুই বোনের মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পুকুরে স্নান করতে নেমে আপন দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ মার্কেটসংলগ্ন কৃষ্ণ কাহারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই বোন হলো স্বর্ণা রানী কাহার (৭) ও রুপা রানী কাহার (৫)। তারা ওই বাড়ির কৃষ্ণ কাহারের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে কৃষ্ণ কাহারের স্ত্রী পিংকী রানী বাথরুমে ছিলেন। এ সময় তার দুই মেয়ে বাড়ির পুকুরে স্নান করতে যায়। পরে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে পুকুরঘাটে মেয়েদের দেখতে না পেয়ে পাশের দাদার বাড়িতে খুঁজতে যান তিনি। সেখানে তাদের না পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। একপর্যায়ে পুকুরের দিকে তাকিয়ে পানির ওপর বুদ্‌বুদ উঠতে দেখেন পিংকী রানী। সন্দেহ হওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিক পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেন তিনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী চরজব্বর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনাস্থলেই দুই শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নাটোরে বড়াইগ্রামে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার থানার মোড় এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহেদুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ