বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি কাটাতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে : প্রশাসক

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে জানালেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম। তিনি বলেছেন, কোন এলাকায় কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার ওএচিয়ার টেক এলাকায় উপজেলা কৃষক দলের উদ্যোগে আয়োজিত ত্রাণ ও কৃষি চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বন্যায় অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, ফসল, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খামার এবং মাছের ঘের হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।পরে তিনি সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে টিন বিতরণ করেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, এটি ফুল দিয়ে বরণ বা স্লোগান দেওয়ার সময় নয়।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। মানুষের দুঃসময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির চেয়ে মানবিক সহায়তাই বেশি প্রয়োজন। বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। দলের নেতারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বিতরণসহ দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং পুনর্বাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সম্প্রতি জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন উল্লেখ করে শামীম বলেন, বন্যায় অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, ফসল, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খামার এবং মাছের ঘের হারিয়েছেন। এসব ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।

শুধু সাতকানিয়া নয়, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, চকরিয়া ও কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে কাজ করছে। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদও এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আমি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আপনাদের আশ্বস্ত করছি, পুনর্বাসন কার্যক্রমে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে যা যা করা সম্ভব, আমরা তা করব। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসা পর্যন্ত সহযোগিতার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন, নাজমুল মোস্তফা আমিন, মুজিবুর রহমান, জামাল হোসেন, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মহসিন চৌধুরী রানা, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল হক, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মীর জাকির, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসিন, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ, ওয়াহেদ সুমন, আনিসুর রহমান প্রমূখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কর্ণফুলী টানেলে চার রাত এক টিউবে চলবে যানবাহন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কর্ণফুলী টানেলে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী চার রাত নিয়ন্ত্রিতভাবে যান চলাচল পরিচালনা করা হবে। এ সময় এক টিউব দিয়ে যানবাহন চলাচল করানো হবে এবং প্রয়োজন হলে উভয় প্রান্তে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট পর্যন্ত যানবাহন অপেক্ষা করতে হতে পারে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদারের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে কর্ণফুলী টানেলের নিরাপদ ও কার্যকর রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে সড়ক ব্যবহারকারীদের সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৮ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন দিনগত রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কর্ণফুলী টানেলের রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এ সময় ‘পতেঙ্গা-আনোয়ারা’ অথবা ‘আনোয়ারা-পতেঙ্গা’—দুই টিউবের যেকোনো একটিতে ট্রাফিক ডাইভারসনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিতভাবে যান চলাচল অব্যাহত রাখা হবে।
এতে আরও বলা হয়, বিদ্যমান যানবাহনের চাপ অনুযায়ী টানেলের উভয় প্রান্তে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট পর্যন্ত যাত্রী ও যানবাহনকে অপেক্ষা করতে হতে পারে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড স্থগিত থাকার পর ফের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু, অনুপস্থিত ১ হাজার ৮২৫

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সোমবার (২৭ জুলাই) পুনরায় শুরু হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত থাকার পর সোমবার সকালে শুরু হয়। পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলায় মোট ৭৭ হাজার ৫৫৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩১ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ৮২৫ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় প্রায় দুই সপ্তাহ পর পুনরায় এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সব কেন্দ্রেই সার্বিক পরিস্থিতি ভালো ছিল।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দিনের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে এক জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় ৫৬ হাজার ৫৮৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৫৫ হাজার ৩৮৫ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ২০২ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কক্সবাজারে ৯ হাজার ৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ২৬৩ জন। রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৯৬৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ১০৯ জন। খাগড়াছড়িতে ৫ হাজার ২১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ১৫৪ জন এবং বান্দরবানে ২ হাজার ৬৯২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ৯৭ জন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ