ডেভিড ইমনের খোঁজ মিলল ধামা ইলিয়াছের তথ্যেই : এসপি মাসুদ আলম

ক্রাইম রিপোর্টার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলীতে মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে একে একে বেরিয়ে আসে শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যদের তথ্য। মামলায় গ্রেফতার মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে দু’দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোরে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি)।

ওই অভিযানেই আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার অপর তিনজন হলেন মো. শামীম, আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল এবং মো. সাফায়েত হোসেন।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজিসহ বেশ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। নগরের ২ নম্বর গেটস্থ চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম।

এসপি মাসুদ আলম জানান, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে জেলা পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।
এরপর গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে দু’দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ধামা ইলিয়াছ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুত এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ওই তথ্যের সূত্র ধরেই পরবর্তী অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। পুলিশ জানতে পারে, চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো ডেভিড ইমনসহ কয়েকজন চট্টগ্রামের বাইরে অবস্থান করছেন।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, রিমান্ডে পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত ওই অভিযানে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও চট্টগ্রাম মহানগরের কয়েকটি হত্যাকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ধামা ইলিয়াছের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় ২১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি হত্যা মামলাসহ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

গ্রেফতারের পর পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায় পুলিশ। ওই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফটিকছড়ি থানার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের পাইট্রাল টিলাপাড়ায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে মৃত আবুল হোসেনের একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এই সন্ত্রাসী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুরো অভিযানের সূত্রপাত হয়েছিল পাহাড়তলীর হত্যা মামলার তদন্ত থেকে। সিসিটিভি ও প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে প্রথমে মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশের আরেক জেলায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে কোটি টাকা চাঁদা চেয়েই গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাব্বির

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছবি-১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: গত আগস্টে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা দুবাইপ্রবাসী মোহাম্মদ শওকতকে পাঠানো এক অডিওবার্তায় চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।চাঁদা না দেয়ায় ১০ আগস্ট রাতে শওকতের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় সাব্বির হোসেন সানি (৩৪) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়।

ওই সময় সাব্বির ব্যবসায়ীকে ফোনে বলেন, এক ঘণ্টা পর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। সুন্দরভাবে কথা বলবে, ব্যবহার খারাপ করবে না। ভাই যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটা মাথায় রাখবে। আর যদি ছেলেপেলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তাহলে ৫০ লাখের জায়গায় এক কোটি দিতে হবে। ভাইয়ের সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলে বিষয়টি ক্লিয়ার করে নাও।ঘটনার আড়াই মাস পর ওই অডিওবার্তা পাঠানো যুবককে শনাক্ত করে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার নাম সাব্বির হোসেন সানি (৩৪)। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও তিনি চট্টগ্রামের হামজারবাগ এলাকায় থাকতেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাব্বির বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী। অডিওবার্তায় যে ‘বড় ভাইয়ের’ কথা বলা হয়েছে, তিনি বড় সাজ্জাদ।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, দুবাইপ্রবাসী শওকতের কাছে চাঁদা দাবিসহ তিনটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে সাব্বিরের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া কয়েক মাস আগে আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় দুজনের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তার নাম এসেছে। জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। পাঁচলাইশ থানার মামলাগুলোতে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বড়দিঘীর পাড় এলাকায় চাঁদার দাবিতে নির্মাণাধীন একটি ভবনে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায়ও সাব্বির আসামি।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল জানিয়েছেন, গত বছর বড় সাজ্জাদের নির্দেশে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন সাব্বির। এরপর তাঁর নির্দেশে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। এ কাজের জন্য সাজ্জাদ তাকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন দিতেন। সাজ্জাদের আরেক অনুসারী ডেভিড ইমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তার বিকল্প হিসেবে সাব্বিরকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন সাজ্জাদ।বড় সাজ্জাদের অনুসারীদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে সাব্বির পালিয়ে নারায়ণগঞ্জে চলে যান বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানিয়েছেন, বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের একজন বোরহান। সাব্বির ছিলেন বোরহানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন। ডেভিড ইমন গ্রেফতার হওয়ার পর বড় সাজ্জাদের আরও কাছাকাছি চলে আসেন সাব্বির।

বিলে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু, আহত আরও ৫ জন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতিলা বিলে মাছ ধরতে গিয়ে আকস্মিক বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপিনাথপুর এলাকার বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সোনাপাতিলা বিলে মাছ ধরছিলেন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও পাঁচজন।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ