এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারানো ১ হাজার ২৮২ একক কন্টেইনারবাহী জাহাজ নিরাপদে নোঙর করতে সক্ষম হয়েছে। হাজার কোটি টাকার আমদানি পণ্যবোঝাই বিদেশি এই কন্টেইনার জাহাজ ‘সিএনসি ইউরেনাস’কে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের মেরিন বিভাগ। মঙ্গলবার গভীর রাতেই জাহাজটিকে বহিনোঙরের বি অ্যাংকরেজে সরিয়ে নেয়া হয়। জাহাজে থাকা ২৪ বিদেশি নাবিক নিরাপদে আছেন। কন্টেইনারে থাকা পণ্য অক্ষত আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে জাহাজে থাকা ১ হাজার ২৮২ একক আমদানি পণ্যের কন্টেইনার নিয়ে উদ্বেগে আছেন ব্যবসায়ীরা।

পণ্যের অবস্থা সম্পর্কে জানতে জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট আমেরিকান প্রেসিডেন্ট লাইনের (এপিএল) কর্মকর্তা এনামুল হক টিটুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন জাহাজটিকে কীভাবে জেটিতে আনা যায়, সে পরিকল্পনা করছে। প্রয়োজনে কন্টেইনার খালাস করে অথবা স্টিয়ারিং সচল করে জাহাজটি জেটিতে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, গভীর রাতে জোয়ার আসার পর জাহাজটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয় এবং রাত সোয়া ২টার দিকে জাহাজটিকে নিরাপদে বি অ্যাংকরেজে নেওয়া সম্ভব হয়।

তিনি আরও জানান, অভিযানে বন্দরের তিনজন জ্যেষ্ঠ পাইলট, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট কান্দারি-২, কান্দারি-৪, কান্দারি-৬ ও কান্দারি-১১, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর টাগ শিবসা ও টানেল টাগ এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের টাগ প্রমত্ত অংশ নেয়। নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও সমন্বিতভাবে কাজ করেন।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মাল্টার পতাকাবাহী ‘সিএনসি ইউরেনাস’ জাহাজটি চীনের শেনজেনের শিকু বন্দর থেকে চট্টগ্রামে আসছিল। গত সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বন্দর জেটিতে প্রবেশের সময় জাহাজটির স্টিয়ারিং বিকল হয়ে যায়। এরপর এটি প্রথমে একটি লাল বয়ায় ধাক্কা খায়। পরে ভাসতে ভাসতে নেভাল একাডেমির পাশের রিটেইনিং ওয়ালের কাছে অগভীর এলাকায় আটকে যায়। সে সময় ভাটার কারণে জাহাজটি সাগরের দিকে সরে যেতে থাকলেও পানির গভীরতা কম থাকায় আর এগোতে পারেনি।











