জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায় ১১ দলীয় ঐক্যের মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

জুলাই নিয়ে বিভাজন তৈরি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য এক বড়ো অশনিসংকেত – মুহাম্মদ শাহজাহান

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে কেরানিহাটে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা । ৫ আগস্ট বিকাল ৫টায় আয়োজিত এই মিছিল ও সমাবেশে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহানসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।

মিছিলোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জুলাইয়ের ছাত্রজনতার জীবন ও রক্তদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক অভিশপ্ত ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে। অসংখ্য মানুষ এই মুক্তির আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকার করেছে। সেসব নির্যাতিত, নিপীড়িত, অকুতোভয় মানুষদের আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। সেই বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমেই বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার জনগণের সেই অধিকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। আর সেই সুযোগে পেশিশক্তি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের বৃথা স্বপ্ন দেখছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আজকে তারই আগাম মহড়া দেখাচ্ছে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল।

কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগের সন্ত্রাস ও অস্ত্রের মুখেও এদেশের মানুষ নতিস্বীকার করেনি। সুতরাং যারা দ্বিতীয় ফ্যাসিবাদ কায়েমের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের সেই স্বপ্নকে জুলাইজনতা দুঃস্বপ্নে পরিণত করবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে জনগণ আবারও রাজপথে নেমে আসবে। গণভোটের রায় মেনে না নিলে গণরোষের জন্য প্রস্তুত থাকুন। জুলাই নিয়ে বিভাজন তৈরি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য এক বড়ো অশনিসংকেত। গণভোটের রায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নই বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, রক্তাক্ত জুলাই আমাদেরকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ দিয়েছে। আর সেই সুযোগকে বাস্তবে পরিণত করার সবচেয়ে বড়ো দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকারের সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। তারা পুনরায় লুটপাটের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায়। তারা পুনরায় দুর্নীতির মহোৎসব করতে চায়। তারা পুনরায় ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার দিকেই হাঁটতে চায়। আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, এই বিপজ্জনক পথে হাঁটবেন না। বরং অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। বাংলাদেশকে জনগণের আকাঙ্ক্ষিত পথে পরিচালনা করুন।

খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা নেছার উদদীন বলেন, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেখিয়ে দিয়েছে, তারা কতটা সাহসী। তারা কতটা আত্মত্যাগী তাও তারা প্রমাণ করেছে। সুতরাং এরকম একটি জাতির গণরায়কে অসম্মান করার দুঃসাহস দেখাবেন না। অনতিবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতি-দুঃশাসন থেকে বিরত থাকতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এলডিপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া শিমুল বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাতি দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছে। যে জাতি একবার বিজয়ী হতে শিখে গেছে, তাদের জনমতকে অশ্রদ্ধা করে পার পাওয়া যাবে না। অতএব, এখনও সময় আছে, জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে তা বাস্তবায়ন করুন। সবাই মিলে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে আসুন। যদি তা না করে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দুঃশাসন চাপিয়ে দিতে চান, তাহলে পরিণতিও একই হবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ বদরুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাছের, এনসিপি নেতা সিফাত হোসেন, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জায়েদ হোসেন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল ফয়েজ, আ.ক.ম. ফরিদুল আলম, সাতকানিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা কামাল উদ্দীন, সাংগু থানা আমীর মাষ্টার সিরাজুল ইসলাম, সাতকানিয়া পৌরসভার আমীর অধ্যক্ষ হামিদ উদ্দিন আজাদ, উপজেলা সেক্রেটারি তারেক হোসাইন, কেরানীহাট সেক্রেটারি আবদুল মালেক, পৌরসভা সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

অন্যদিকে, পটিয়া উপজেলা আমীর জসিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে সকাল ১১:৩০টায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক। পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য জনাব জাফর সাদেক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা গাজী আবুল কালাম, জাহাঙ্গীর আলম, পটিয়া শহর শিবিরের সভাপতি মাহবুব উল্লাহ প্রমুখ ১১ দলীয় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

কর্ণফুলী উপজেলা আমীর মনির আবছার চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ০৫ টায় কর্ণফুলীর ক্রসিং মোড়ে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল আমিন চৌধুরী। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল ফয়েজ, নুরুল হক, উপজেলা সেক্রেটারি নুরুদ্দীন জাহাঙ্গীর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কর্ণফুলী উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবরার হোসাইন, চট্টগ্রাম পশ্চিম জেলা শিবিরের সাহিত্য সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম মোরশেদ, উপজেলা জামায়াতের বায়তুলমাল সেক্রেটারি এডভোকেট মুহাম্মদ হারুন সহ প্রমুখ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বোয়ালখালী উপজেলা ও পৌরসভা জামায়াতের উদ্যোগে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর জননেতা আনোয়ারুল আলম চৌধুরী।

উপজেলা আমীর ডাঃ খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিছিলোত্তর সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আরিফুর রশীদ, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা ইমাম উদ্দীন ইয়াছিন, বোয়ালখালী পৌরসভা জামায়াতের নায়েবে আমীর জয়নাল আবেদীন, সেক্রেটারি আব্দুর রহমান, ছাত্রশিবির বোয়ালখালী সদর শাখার সভাপতি আবু তাহের নোমান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এর সভাপতি মাওলানা নুরুল কবির, পৌরসভা সভাপতি মাওলানা মফিজুর রহমান প্রমুখ।

আনোয়ারা উপজেলা আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার আবদুল গণির সভাপতিত্বে বিকাল ০৫ টায় আনোয়ারা টানেল মোড়ে অনুষ্ঠিত মিছিলোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ড. হেলাল উদ্দিন মুহাম্মদ নোমান। আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, উপজেলা সেক্রেটারি আবুল হাছান সহ প্রমুখ ১১ দলীয় নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ফয়সাল আমিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে শেষপর্যন্ত মির্জা পরিবারের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিনই বিএনপি দলীয় প্রার্থী।

বিএনপির মহাসচিব থেকে এলজিআরডি মন্ত্রী এবং পরবর্তীতে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল দায়িত্ব নিয়েছেন। শূন্য হওয়া এই আসনটিতে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফয়সাল আমিনকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বেছে নিচ্ছে দল।

মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত -সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একই রায়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তারা। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ