নেত্রকোণা বড়বাজারে ভয়াবহ আগুন, ফায়ার সার্ভিসের ৩ কর্মী আহত

মোঃ নুর উদ্দিন মন্ডল দুলাল, ​নেত্রকোণা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোণা শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বড়বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বাজারের ৬টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সংলগ্ন ৩টি টিনশেড আধাপাকা বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
​গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড়বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পার্শ্ববর্তী আরও ৫টি দোকান ও ৩টি আবাসিক ঘরে খলগ্রাস রূপ নেয়।

​খবর পেয়ে নেত্রকোণা ও আশেপাশের অঞ্চলের ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি স্থানীয় জনতা, পুলিশ, বিজিবি এবং রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ২ ঘণ্টার মাথায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, সম্পূর্ণভাবে আগুন নির্বাপন করতে ভোর সাড়ে ৫টা বেজে যায়।

উদ্ধারকাজ পরিচালনার সময় ফায়ার সার্ভিসের ৩ জন কর্মী আহত হন, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
​নেত্রকোণা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খানে আলম খান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের গোলযোগ (শর্ট সার্কিট) থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য অন্তত দেড় কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

​এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এবং পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সান্ত্বনা দেন এবং সার্বিক সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পূর্বধলায় মসজিদে জুমার খুতবার আগে থানার ওসির সচেতনতামূলক বক্তব্য

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় মাদক, জুয়া, চুরি, ছিনতাই, বাল্যবিয়ে ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে এক ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের ফাজিলপুর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল-মামুন।

​গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুমার নামাজের আগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ওসি আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, “সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করতে হলে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে চলবে না, সাধারণ মানুষকেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে মাদক ও জুয়ার মতো অপরাধ আমাদের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা পরিবার ও সমাজের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে।

​তিনি বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা রোধে সন্তানদের প্রতি আরও যত্নবান ও নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন। এ সময় এলাকায় চুরি, ছিনতাই বা যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া মাত্রই তা দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি সবার প্রতি অনুরোধ করেন।

​ওসি আবদুল্লাহ আল-মামুন তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, “মসজিদ কেবল ইবাদতের স্থান নয়, এটি মানুষকে সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ জীবনযাপনের শিক্ষা দেওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

​একটি মাদকমুক্ত, অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। জুমার নামাজে উপস্থিত মুসল্লিরা পুলিশের এই ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানান এবং সাধুবাদ জানান।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ঘাড়ে ঝুলছে ১৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা ঋণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (চট্টগ্রাম ওয়াসা) পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীনে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহরে পানি সরবরাহ সহ সম্পর্কিত আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে কুপরিচালনা, সীমাহীন অপচয় ও মেগা প্রকল্পের বড় ঋণের বলির পাঁঠা হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা।

চট্টগ্রাম নগরে সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার নামে নেওয়া প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঋণের ভার এবার চাপতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসার এক লাখ গ্রাহকের কাঁধে। দফায় দফায় দাম বাড়িয়েও ব্যাংক ও বিদেশি সংস্থার ঋণের কিস্তি মেটাতে পারছে না তারা; অথচ পানির অপচয় বা ‘সিস্টেম লস’ না কমিয়ে পানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি।

চট্টগ্রাম ওয়াসার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, বর্তমানে সংস্থাটির ঘাড়ে ঝুলছে ৬ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। ৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার ও বিদেশি সাহায্য সংস্থার কাছ থেকে এসব ঋণ নেওয়া হয়েছে। এর ওপর চলমান তিন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও ৯ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা ঋণ শোধ করতে হবে। এর মধ্যে ফ্রান্সের উন্নয়ন সহায়তা সংস্থা এএফডিকে ১ হাজার ৮৭২ কোটি ১৩ লাখ, বিশ্বব্যাংককে ৩ হাজার ২৬৮ কোটি ৭২ লাখ ও জাপানের সাহায্য সংস্থা জাইকাকে ৪ হাজার ১৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ হিসাবে ওয়াসার মোট ঋণের দায় প্রায় ১৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা।

এদিকে ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে তিনটি প্রকল্পের ঋণ শোধ করতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত শোধ হয়েছে মাত্র ৮৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। গড়ে প্রতি বছর ২২ কোটি টাকা করে শোধ করছে তারা।অন্যদিকে গত অর্থবছরে ওয়াসা আয় করেছে ৩৩৭ কোটি টাকা। বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩০২ কোটি টাকা। ফলে নিজস্ব আয়ে ঋণ পরিশোধ দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ সামাল দিতে সংস্থাটির রাজস্ব বিভাগ থেকে পানির দাম নতুন করে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম ওয়াসায় আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ১ হাজার লিটার পানির জন্য দাম দিতে হয় ১৮ টাকা। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে যা ৩৭ টাকা। ২০০৯ সালে আবাসিক গ্রাহকদের দিতে হতো ৫ টাকা ৪১ পয়সা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ১৫ টাকা ৩২ পয়সা। এই এক দশকে চারবার পানির দাম বাড়িয়েছে ওয়াসা। এর মধ্যে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এক লাফে দাম বাড়ানো হয়েছিল ৩৮ শতাংশ। সবশেষ গত ১ আগস্ট ওয়াসার বোর্ড সভায় পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব ওঠে। এটি পাস হলে আরও বেশি দামে পানি কিনতে হবে চট্টগ্রাম ওয়াসার গ্রাহকদের।

খোঁজে নিয়ে জানা গেল, নগরের পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এসব ঋণে বাস্তবায়ন হচ্ছে ১২টি মেগা প্রকল্প। আর শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ওয়াসার এক লাখ গ্রাহককেই চুকাতে হবে বিশাল এই ঋণের দায়। যার ৯৩ শতাংশই সাধারণ আবাসিক গ্রাহক।

পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, কয়েক বছর পরপর দাম বাড়ালেও সংস্থাটির ‘সিস্টেম লস’ কমাতে তেমন কোনো তৎপরতা নেই। খোদ ওয়াসার নথি অনুযায়ী, তাদের সিস্টেম লস প্রায় ২০ শতাংশ।
চট্টগ্রাম ওয়াসার এক কর্মকর্তা বলেন, ওয়াসার যে বিশাল ঋণের বোঝা, তা সরকারের সহায়তা ছাড়া শোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দেওয়া হবে।

এ ছাড়া সিস্টেম লস কমাতেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পানি নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াটার এইডের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. খায়রুল ইসলাম বলেছেন, ওয়াসা সিস্টেম লস এক অঙ্কে নামিয়ে আনুক। এরপর গণশুনানির মাধ্যমে দাম বাড়াতে পারে। সিস্টেম লস না কমিয়ে দাম বাড়ানো অযৌক্তিক। দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে ট্যারিফ কমিশন গঠনেরও সুপারিশ তার।

জানা গেছে, ২০২৫-২৬ সালের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে ১৮ হাজার ১৮১ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করেছিল চট্টগ্রাম ওয়াসা। এই পানি উৎপাদনে ব্যয় হয়েছিল ২৫১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রতি হাজার লিটারে ১৩ টাকা। তবে পরিচালন ব্যয় যোগ করলে মোট খরচ দাঁড়ায় ৩০০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি হাজার লিটারে পরিচালন ব্যয়সহ মোট খরচ সাড়ে ১৬ টাকা।

উৎপাদিত পানির ১৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ বা ৩ হাজার ৫৯৭ কোটি লিটার পানিই ‘সিস্টেম লস’-এ হাওয়া হয়ে যায়। এর ফলে প্রতি হাজার লিটার পানি উৎপাদনের পেছনে ওয়াসার খরচ ঠেকে ২১ টাকায়। এ হিসাবে ওয়াসা প্রতি হাজার লিটারে আবাসিকে লোকসান দিচ্ছে ৩ টাকা। বাণিজ্যিকে মুনাফা করছে ১৬ টাকা। সব মিলিয়ে সিস্টেম লসে ওয়াসার বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি ৬৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড (দৈনিক জনপ্রতি ১০০ লিটার) অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিদিন গড়ে ৯ কোটি ৮৬ লাখ লিটার পানি সিস্টেমে নষ্ট করছে। সিস্টেম লস শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পারলে ওই একই পরিমাণ পানি দিয়ে চট্টগ্রাম নগরের আরও প্রায় ৯ লাখ ৮৬ হাজার নাগরিককে অনায়াসে নিরবচ্ছিন্ন সুপেয় পানির আওতায় আনা সম্ভব।

এদিকে পানি বিক্রি থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসার গত অর্থবছরে আয় ২৯৩ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হলে সংস্থাটির বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৩০৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকায়। ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ সিস্টেম লস কমালে দাম না বাড়িয়েও এই টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় হতে পারে ওয়াসার।

আলোচিত খবর

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন, যোগ দেবেন ৫ কর্মসূচিতে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার চট্টগ্রাম আসছেন তারেক রহমান। বন্দরনগরীর বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাংগঠনিক মতবিনিময় করারও সুযোগ পাচ্ছেন। এ নিয়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস উদ্দিপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। আগামীকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা দিতে চট্টগ্রামে আসবেন। এ সফরে দলের নেতাকর্মীদের বাইরে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তিনি একটি বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বললেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী একদিনের সফরে চট্টগ্রামে আসছেন। সফরসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকালে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পৌঁছাবেন। বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

দুপুর ১টায় ফটিকছড়ি উপজেলায় আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর হাটহাজারী উপজেলার আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমীর শাহ আহমদ শফির কবর জেয়ারত করবেন।
এরপর হাটহাজারী উপজেলায় যাবেন তারেক রহমান।

হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে দেবেন ১০ হাজার টাকা করে।
হাটহাজারী থেকে নগরীতে ফিরে প্রধানমন্ত্রী উঠবেন পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে। সন্ধ্যায় হোটেলের হলরুমেই হবে বিএনপির সাংগঠনিক সভা। রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন তিনি।


চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জানালেন, ‘সভায় নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সবাই থাকবেন। থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির প্রতিটি থেকে তিন থেকে পাঁচজন করে নেতা উপস্থিত হবেন। আহ্বায়ক কমিটিতে নেই এমন কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও চট্টগ্রামের সকল সংসদ সদস্য যোগ দেবেন এতে।’
প্রত্যেক সহযোগী সংগঠনের নগর কমিটি থেকে দুইজন করে নেতাকে সভায় যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির নেতারা সভায় অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ