৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাস করেনি কেউ

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসির ফলে বড় ধস ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে। বোর্ডের ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সময়ে এটাই সর্বনিম্ন পাসের হার। যার ফলে ২০২৬ সালের ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।বোর্ডের প্রকাশিত ‘জিরো পারসেন্টেজ স্কুল’ তালিকায় এসব প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।


চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি অনাগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পড়াশোনা ছেড়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে আন্দোলনমুখী হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব ফলাফলেও পড়েছে।

এদিকে এবার পাসের হার কমে যাওয়ায় এবার বোর্ডে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২ হাজার ৪৪৫ জন। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গত ১৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কোনো বছরই পাসের হার ৭৫ শতাংশের নিচে নামেনি। ২০১১ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ২০১২ সালে ৭৯ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৮৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৯১ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ৮২ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে।

এছাড়া ২০১৬ সালে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ২০১৭ সালে ৮৪ দশমিক ১৩ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৮ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ৮৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে।২০২১ সালে বোর্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯১ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। এরপর ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ।

জানা গেছে, এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে ১১ হাজার ৮৪৩ জন, ২০২৪ সালে ১০ হাজার ৮২৩ জন, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৫০ জন, ২০২২ সালে ১৮ হাজার ৬৬৪ জন এবং ২০২১ সালে ১২ হাজার ৭৯৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। সেখানে ২০২৬ সালে এ সংখ্যা নেমে এসেছে ৯ হাজার ৩৯৮ জনে।শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, ইংরেজি ও গণিতসহ কয়েকটি বিষয়ে পাসের হার কমে যাওয়া এবং পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকার বিদ্যালয়গুলোর আশানুরূপ ফল না হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এবারের পরীক্ষায় তুলনামূলক কড়াকড়িও ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৭৭১ জন শুধু একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ০৯ শতাংশ। এক বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়াও এবার সামগ্রিক পাসের হার কমার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বোর্ডের প্রকাশিত ‘জিরো পারসেন্টেজ স্কুল’ তালিকায় এসব প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। তবে পরীক্ষার্থী কম হলেও একজনও পাস না করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষক সংকট ও অ্যাকাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তালিকা অনুযায়ী, ফটিকছড়ির নারায়ণহাট গার্লস হাইস্কুল থেকে মাত্র ৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বরকলের আন্দর মানিক (মাইছছড়ি) জুনিয়র হাইস্কুলে পরীক্ষার্থী ছিল ১০ জন। লংগদুর মোহালছড়ি হাইস্কুলে পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ জন। এ দুটি প্রতিষ্ঠান থেকেও কোনো শিক্ষার্থী এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়নি।এছাড়া সন্দ্বীপের উরিরচর জুনিয়র হাইস্কুল থেকে ১০ জন, খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুল থেকে ১৭ জন এবং দীঘিনালার জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাইস্কুল থেকে ১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। দীঘিনালার তারাবানিয়া হাইস্কুল থেকে ৫ জন এবং বাঘাইছড়ির শিলজাক দজার বাজার জুনিয়র স্কুল থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এই দুই প্রতিষ্ঠানেও পাসের হার শূন্য শতাংশ।

বোর্ডের তালিকায় থাকা আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাইস্কুলে ১৯ জন। এরপর ১৭ জন পরীক্ষার্থী ছিল ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুলে এবং ১৫ জন ছিল মোহালছড়ি হাইস্কুলে। এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা খুব বেশি না হলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ১৫ থেকে ১৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েও একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

শিক্ষাবিদদের মতে, কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে শুধু শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা দায়ী-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। এর সঙ্গে শিক্ষক সংকট, নিয়মিত পাঠদান, দুর্গম এলাকায় শিক্ষার সুযোগ, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া, অভিভাবকদের আর্থিক সক্ষমতা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো এবং শিক্ষা প্রশাসনের তদারকির বিষয়গুলোও জড়িত থাকতে পারে।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী আরো বলেন, ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোন কোন প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েছে, তা চিহ্নিত করা হবে। শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় অ্যাকাডেমিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

৮০০ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ২০ লাখ মেরিনারদের পারফর্ম্যান্সের ওপর : নৌপরিবহন মন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ৮০০ কোটি মানুষের অর্থনীতি, বাণিজ্য, পণ্য এবং ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ১৮ থেকে ২০ লাখ মেরিনারদের পারফর্ম্যান্সের ওপর। নিশ্চয়ই তাদের যোগ্যতা, সাহস, বিশেষ জ্ঞান আছে বলেই আলাদাভাবে আমি তাদের সম্পদ মনে করি। যথেষ্ট সম্ভাবনা আমাদের ছিল, আমরা সেটাকে কাজে লাগাতে পারিনি। পারিনি বিধায় পারব না সেটা তো নয়। কিন্তু মেরিটাইম সেক্টরের সম্ভাবনাকে অযত্নে, অবহেলায়, বিনা পদক্ষেপে ব্যর্থ হতে দিতে চান না নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এই সেক্টর দেশের অর্থনীতিতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটি বুঝেছি।

প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেগুলো সমাধানে বিশেষ পদক্ষেপের অঙ্গীকার করছি।
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ‘বিশ্ব মেরিটাইম দিবস’ এবং ‘মেরিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই অঙ্গীকারের কথা জানালেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারায় একাডেমি ক্যাম্পাসে ছিল এ অনুষ্ঠান। এর আগে অনুষ্ঠানে নৌমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিবের সামনে মেরিন একাডেমি অ্যালামনাই, মেরিন পেশাজীবী, মেরিটাইম সেক্টরের কর্মরত প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ সেক্টরের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রবন্ধ উত্থাপন করেন। এরপর বক্তব্যে সমস্যা, চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে উত্তরণের উপায় জানান মন্ত্রী।

নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বললেন, ক্যাডেটদের ১ বছর জাহাজে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে জটিলতা দূর করা, ভিসা জটিলতা নিরসনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। এ সেক্টরে মনোযোগ বাড়িয়েছি। সরকার অনেক ক্ষেত্রে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে, প্রচুর বাজেট দিচ্ছে। অর্থনীতি পাল্টে দেওয়ার সক্ষমতা রাখা এ সেক্টরে কীভাবে দেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যায় সেটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা দিচ্ছি।
একাডেমির ক্যাডেটদের দারুণ প্রশংসা করে মন্ত্রী জানালেন, ক্যাডেটরা সাহসী ও পরিশ্রমী। তাদেরকে আমি সম্পদ মনে করি। আপনারা ভালো সবকিছু করতে পারেন। আমরা এ ফোর্সটাকে আলাদা গুরুত্ব, আলাদা মর্যাদা দিতে চাই। তাদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলেই আজকের অনুষ্ঠান সফল।

নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া বললেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ। জনশক্তি রপ্তানিতে প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে আছে বাংলাদেশ। আর সিফেয়ারার বা মেরিনারস সরবরাহকারী দেশ হিসেবে যখন দেখি, তখন অবস্থান ৫০ দেখে মনটা খারাপ হয়ে যায়। কই আট, কই পাঁচ, আর সিফেয়ারারের ক্ষেত্রে আমরা ৫০ নম্বর!সেই অবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসা দরকার। আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জগুলো আমরা মোকাবিলা করে মেরিনারস সরবরাহকারী হিসেবে আমরা প্রথম ১০ নম্বরে যেতে চাই।স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিকে এগিয়ে নিতে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

মূল প্রবন্ধে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর শফিউল বারি ২৯টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুমোদন, পুরনো রেগুলেশন সংশোধন এবং ‘গ্রিন ভয়েজ ২০৫০’-এর অংশ হিসেবে জীবাশ্মজ্বালানি থেকে বিকল্প জ্বালানিতে রূপান্তরের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মহাসাগরকে শুধু সম্পদের উৎস নয়, বরং দায়িত্ব¡ ও যৌথ নেতৃত্বের সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী জানালেন, যে খাতে হাজার হাজার মার্চেন্ট মেরিন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করছেন, সেই খাতের নীতিনির্ধারণী ও অ্যাকাডেমিক নেতৃত্বে অংশগ্রহণ বেশ সীমিত। আমাদের প্রশাসনে বিশেষায়িত মেরিন ক্যাডারের ঘাটতি রয়েছে। দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শিপিং প্রশাসনে মেরিন ক্যাডার ও দক্ষ মেরিটাইম পেশাজীবী অর্ন্তভূক্তি জরুরি।
বঙ্গোপসাগরের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শুধু সমুদ্রগামী নাবিক তৈরিই যথেষ্ট নয়; শিপ ম্যানেজমেন্ট, পোর্ট অপারেশন, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত, শিপ রিসাইক্লিং, মেরিন ইনস্যুরেন্স এবং অন্যান্য শোর-বেজড মেরিটাইম সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সমন্বিত সামুদ্রিক অর্থনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এ বি এম শামীম।

দিবসটি উপলক্ষে ক্যাডেট কর্তৃক প্রধান অতিথিকে গার্ড অব অনার, প্যারেড পরিদর্শন, র‌্যালি, বেলুন উড্ডয়ন, বৃক্ষরোপণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা, মেরিটাইম খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সরকারি কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্যাডেট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ ৬৪ বছরের পথচলায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি দেশের মেরিটাইম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের ব্লু ইকোনমি, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একাডেমি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।একাডেমির প্রশিক্ষিত ৫ হাজারের বেশি মেরিনার বর্তমানে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ও বিশ্বের বিভিন্ন মেরিটাইম প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ও ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক আয় ও রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। একই সঙ্গে নারী ক্যাডেটদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় ১২৫ জনেরও বেশি নারী মেরিনার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি গত ৬৪ বছর ধরে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মেরিটাইম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে আসছে। কর্ণফুলীর মোহনায় জুলদিয়ায় অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠান ওগঙ ঝঞঈড মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ঢুকতে পারছেন না নতুন ভিসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসে যেতে পারছেন না নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনদিন ধরে চট্টগ্রামে অবস্থান করেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্যের দায়িত্বও নিতে পারছেন না। অধ্যাপক শরীফুল বলছেন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের তৃতীয় দিনে বৃহস্পতিবারও (২৪ সেপ্টেম্বর) চুয়েটে চলছে সর্বাত্মক শাটডাউন। ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ আছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমও চলছে না। তবে শিক্ষকরা বলছেন, তারা অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করেননি। শিক্ষার্থীরা না আসায় ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া যাচ্ছে না।

সকালে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে মানববন্ধন করেছেন চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সরকারের প্রতি দাবি মেনে নিয়ে ক্যাম্পাস সচল করার অনুরোধ করে খোলা চিঠিতে শান্তির বার্তা লিখে পায়রা উড়িয়ে দেন। দুপুরে সংবাদ সম্মেলন থেকে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্ত না হয়ে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সর্বাত্মক শাটডাউন চালিয়ে যাবার আহ্বান জানানো হয়।

সকালে চুয়েট শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও মিছিল নিয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে সংহতি জানানো হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের পরিবর্তে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক সায়েমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে রাত থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চলছে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি।উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর গত মঙ্গলবার রাতে খুলনা থেকে চট্টগ্রামে আসেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার সঙ্গে কথা হয় মোবাইল ফোনে।

তিনি বললেন, আমি ইচ্ছে করলে যে কোনোভাবে জয়েন করতে পারি। কিন্তু জয়েন করাটা তো বড় বিষয় না। আমি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি দেখছে। তারা আন্দোলনের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে আমি অবশ্যই যাব। সিনিয়র শিক্ষক, ডিনদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য দিয়ে অধ্যাপক শরীফুল বললেন, শিক্ষক সমিতিতে সিনিয়র যারা আছেন তারা কেউ এ আন্দোলনের সঙ্গে একমত নন। জুনিয়র কিছু টিচার করছে। আমি শিক্ষক সমিতির সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি। ইলেকট্রিক্যালের ডিন অধ্যাপক দোলন, সায়েন্স ফ্যাকাল্টির অধ্যাপক আবু কাউছারের সঙ্গে কথা বলেছি। ক্লাস-পরীক্ষা যেন বন্ধ না থাকে সেটা বলেছি। কারণ এটার জবাবদিহি কিন্তু পরে শিক্ষকদেরই করতে হবে। নিরাপত্তা শাখাকে বলেছি ক্যাম্পাস যেন অনিরাপদ না থাকে।

আন্দোলন করার অধিকার তাদের আছে। তবে নেগোসিয়েশনের পথ খোলা না রেখে আন্দোলন কাম্য নয়। আমি কুয়েটের টিচার। এজন্য চুয়েটে আমার নিয়োগ তো অবৈধ হতে পারে না। চুয়েট দেশের বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। আমি নিজেও চুয়েটের ছাত্র। সরকার আমাকে যোগ্য মনে করেছে বলেই নিয়োগ দিয়েছে। আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন আছে বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক শরীফুল, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এটা খতিয়ে দেখছে।’

যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বললেন, উনি (শরীফুল) আমার স্টুডেন্ট ছিলেন। আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে। তবে আমি এখানে শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে একটি ফোরামের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমি ফোরামের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারি না।
চুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন বললেন, উনি (শরীফুল) আমাকে কল করেছিলেন। ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে আমরা কী করতে পারি ! আমরা তো এটা বন্ধ করিনি। ছাত্রছাত্রীরা যদি ক্লাসে না আসে আমরা কী করতে পারি! আলোচনার একটা পথ তৈরি করতে হবে। সেটা তো আমি পারব না। যারা দায়িত্বে আছেন তারা পারবেন।

চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বললেন, আমাদের ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল। তবে অনিরাপদ নয়। হোস্টেলগুলোর কার্যক্রম ঠিকঠাকভাবে চলছে। আমরা শিক্ষকরা তো ক্লাসে যাচ্ছি। দুপুরেও পরীক্ষার হলে শিক্ষকরা গেছেন। কিন্তু স্টুডেন্টরা বলছেন দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ