বেগম খালেদা জিয়া : সাহস, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি

লেখক : জহিরুল ইসলাম জহির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গ প্রদেশের জলপাইগুড়িতে এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে খালেদা খানম পুতুল জন্মগ্রহণ করেন। সেই পুতুল বেগম খালেদা জিয়া নামেই ব্যাপকভাবে পরিচিত হন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম, মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তিন বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব পালন করেন। দুই বারের বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন বেগম জিয়া।

ক্ষণজন্মা এই নারী ছিলেন তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। বাবা ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। আদি পৈতৃকনিবাস ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ী। বাবা ইস্কান্দর মজুমদার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। ইস্কান্দার মজুমদার ১৯১৯ সালে ফেনী থেকে জলপাইগুড়ি যান। বোনের বাসায় থেকে মেট্রিক পাস করেন ও পরে চা ব্যবসায়ে জড়িত হন। ১৯৩৭ সালে জলপাইগুড়িতে বিয়ে করেন তৈয়বা মজুমদারকে। মা বেগম তৈয়বা মজুমদার ছিলেন একজন গৃহিণী।

খালেদা জিয়া পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুরের মিশন স্কুলে ভর্তি হন। এরপর তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। একই বছর তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে তিনি খালেদা জিয়া বা বেগম খালেদা জিয়া নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি স্বামীর সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাসের পূর্বে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। স্বামী বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান বীরউত্তম। জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যখন তার বিয়ে হয় তখন জিয়া ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। ডিএফআই-এর কর্মকর্তা রূপে তখন দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন।

১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। ১৯৭৭ সালে তার স্বামী রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ফার্স্ট লেডি হিসেবে জাতীয়ভাবে পরিচিত হন।

১৯৮১ সালের ৩০মে একদল বিপথগামী সেনাদের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান শাহাদাৎ বরণ করেন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের আহ্বানে তিনি ১৯৮২ সালের ৩রা জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। বেগম জিয়া এর বিরোধিতা করেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১লা এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ই মে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচনে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই মূলত বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়। দেশজুড়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে শক্ত অবস্থান তৈরি করে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়াকে আলাদা করে চেনা যায় তাঁর সিদ্ধান্তের দৃঢ়তায়। স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের অধীন ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হাসিনা অংশ নিলেও খালেদা জিয়া দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সে পথে যাননি। আপসের বদলে সংগ্রামকেই হাসিমুখে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। সময়ই তাঁর সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেছিলো। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতন ঘটে আর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। পরবর্তী জীবনে কারাবরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়ন তাঁকে বারবার পরীক্ষায় ফেলেছে; কিন্তু আপস করেননি, যা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক চরিত্রের সঙ্গে ‘আপসহীন’ নেত্রীর অভিধা জুড়ে দেয়। যার রাজনৈতিক দৃঢ়তার কাছে ফ্যাসিস্ট হাসিনা বারবার পরাজিত হয়েছে। যদিওবা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল দীর্ঘ ১৭ বছর।

এক-এগারোর পরবর্তী সময়ে রাজনীতি পুনরুদ্ধারের পরও খালেদা জিয়া আপসের পথে হাঁটেননি। চাপ থাকার পরও তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেন। কারণ, তিনি প্রকাশ্যেই বলতেন, শেখ হাসিনার অধীন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এ জন্য তিনি ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সরকারের বৈধতা দিতে রাজি ছিলেন না।

চার দশকের বেশি সময়জুড়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অনড় থাকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন বেগম খালেদা জিয়া। এর জন্য ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও দল হিসেবে বিএনপিকে মূল্যও দিতে হয়েছে। তবে শেষ বিচারে তাঁর দৃঢ়চেতা মনোভাব তাঁকে আপসহীন নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি এমন এক নেত্রী, যাঁর জীবন ও রাজনীতি বারবার প্রমাণ করেছে—সব আপস রাজনৈতিক লাভ আনে না, আর সব অনমনীয়তাও পরাজয় নয়।

বেগম খালেদা জিয়া গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে ৪৫ বছর পার করেছেন।১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপাসন নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন দেশনেত্রী।

বিএনপির চেয়ারপারসন আপসহীন নেত্রী, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ধারক, তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, সবচেয়ে বেশিসংখ্যক সংসদীয় আসনে একসময়কার বিজয়ী, আপসহীন সংগ্রামে স্বৈরশাসনকে বিদায় দেওয়ার অসামান্য কৃতিত্বের অধিকারী বেগম খালেদা জিয়া। সময়ের পরিক্রমায় সাধারণ গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী তিনি। যাঁকে বাংলাদেশের মানুষ ‘আপোষহিন নেত্রী’র খেতাব দিয়েছে। কিন্তু কেন তাঁকে এই উপাধী দেয়া হলো তা হয়ত জানে না এখনকার প্রজন্ম। জানার কথাও না। বিগত ১৬ বছরে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিলো বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে জিয়া পরিবারের ভূমিকা মুছে ফেলার। কিন্তু পারেনি, বরং খালেদা জিয়া এখন বিএনপির ঐক্যের প্রতীক থেকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে রূপান্তরিত হয়েছেন।

এক সময়কার চার দেয়ালের মাঝ থেকে বেরিয়ে বিএনপির মত বড় দলের অভিযাত্রায় জেল, জুলুম, চিকিৎসাহীনতা সহ্য করে তিনি আপোষহীন নেত্রীর তকমা পেয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন সৃষ্টি হয় অনিশ্চয়তা ঠিক তখন ই বেগম খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্বে আসেন। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চার যে পথ সৃষ্টি করেছিলেন জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া সেই পথ ধরেই এগিয়ে নেন বিএনপিকে। তার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় ১৯৯০ সালে পতন হয় স্বৈরশাসক এরশাদের। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিজয়ী হয় এবং তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০০১ সালেও বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

৪ দশকের বেশি সময় ধরে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকার পাশাপাশি তাকে সইতে হয়েছে অচিন্তনীয় অমানবিক নির্যাতন। সশস্ত্র হুমকিতেও দেশ ছেড়ে যাননি শুধু বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকার জন্য। কর্মগুণে ও সততায় হয়ে গেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে প্রমাণ করেছেন, ক্ষমতার প্রলোভন বা নিপীড়নের ভয়—কোনোটিই তাকে জনগণের স্বার্থ থেকে সরাতে পারেনি। “আপোষহীন নেত্রী” উপাধি তিনি পেয়েছেন রাজপথে রক্ত, কারাবাস ও অটল অবস্থানের বিনিময়ে।

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বেগম জিয়া। তার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে পরিণত হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার মেয়াদে কিছু বড় অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। কর্মসংস্থানের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় এই সময় এবং শুধুমাত্র তৈরি পোশাকশিল্প খাতেই পাঁচ বছরে কর্মসংস্থানের বৃদ্ধি ছিল ২৯%। প্রায় দুই লাখ নারী এই সময় তৈরি পোশাকশিল্প খাতে যোগ দিয়েছেন।
তিনি জাতিসংঘে গঙ্গার পানি-বণ্টনের সমস্যা উত্থাপন করেন যাতে বাংলাদেশ গঙ্গার পানির ন্যায্য অংশ পায়। ১৯৯২ সালে তাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হলে সেখানে তিনি রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের সমস্যা উত্থাপন করেন এবং পরে মিয়ানমার সরকার ১৯৯০ দশকের প্রথম দিকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের সাথে একটি চুক্তি করে।
স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এ পর্যন্ত তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৩ সালে তিনি সার্কের প্রথম মহিলা চেয়ারপারসন হন।
১৯৯৬ সালে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর খালেদা জিয়া টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রতিশ্রুতির কারণে, তিনি এক মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেন। যদিও বিএনপি ১৯৯৬ সালের জুনের নতুন নির্বাচনে হেরে যায়, দলটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সংসদে সবচেয়ে বড় বিরোধী দল হিসেবে ১১৬টি আসন পায় সেই নির্বাচনে।
বিএনপি ১৯৯৯ বেগম জিয়ার নেতৃত্বে সালে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে চারদলীয় জোট গঠন করে এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করে। বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হন। ফোর্বস ম্যাগাজিন নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে তার ভূমিকার জন্য ২০০৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় তাকে ২৯ নম্বরে স্থান দেয়।২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট নির্বাচনে জয়লাভের পর তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে।
২০০৬ সালে, তিনি একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে, তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্বাসনে পাঠানোর একাধিক প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে দুর্নীতির তুচ্ছ এবং ভিত্তিহীন অভিযোগে স্বৈরাচারী সরকার গ্রেপ্তার করে।
ক্ষমতায় থাকাকালীন, খালেদা জিয়ার সরকার বাধ্যতামূলক বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, ছাত্রীদের জন্য একটি শিক্ষা “উপবৃত্তি” এবং শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য খাদ্য প্রবর্তন করে শিক্ষা ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি করেছিল। তার সরকার সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করে এবং শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করে।
বেগম জিয়া কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনগুলোতে পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে, তিনি যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সেখানে তিনি জয়লাভ করেছিলেন।
২০০৯ সাল থেকে, যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশকে একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে, তখন তিনি গণতন্ত্রের জন্য তার লড়াই নতুন করে শুরু করেছিলেন। সরকার তাকে জোরপূর্বক তার বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন শুরু করায় তাকে দুইবার গৃহবন্দী করা হয়ে। গণতন্ত্রের প্রতি তার ভূমিকার জন্য, তাকে ২০১১ সালে নিউ জার্সির স্টেট সিনেট “গণতন্ত্রের জন্য যোদ্ধা” উপাধিতে সম্মানিত করে।

পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়ে মিথ্যা বানোয়াট মামলায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়াকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। শুধুমাত্র আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাই ছিলো বেগম খালেদা জিয়ার অপরাধ।

“ভেবেছিলেন, আপস করবেন? দেশ ছেড়ে পালাবেন? না! ইতিহাস বলে, তিনি আপসহীন। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন — গণতন্ত্রের লড়াইয়ে কারাবাসই যদি হয় তার ভাগ্য, তবে তা তিনি মাথা পেতে নেবেন।”
২০২০ সালের কান্ট্রি রিপোর্টস অন হিউম্যান রাইটস প্র্যাকটিস প্রতিবেদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে যে, মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবেই তাঁকে সাজা দেয়া হয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে তার “ন্যায্য বিচারের অধিকারকে সম্মান করা হচ্ছে না।”
“আমি কোনো অন্যায় করিনি। আমি জনগণের জন্য রাজনীতি করি। আমার ওপর যে রায় দেয়া হয়েছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিন্তু আমি মাথানত করবো না।
“দেশত্যাগ অথবা কারাগার— আওয়ামী লীগ সরকারের এমন শর্তের সামনে দাঁড়িয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেছে নিয়েছিলেন কারাগার। বিনা অপরাধে তাকে বন্দি করা হয়। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করতে এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি রায় ঘোষণা করা হয়।”
“নির্জন কারাগারে একাকী তিন বছর কাটান তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। অসুস্থতা তাকে কাবু করলেও, নত করেনি। তার পরিবারের পক্ষথেকে বিদেশে চিকিৎসার আবেদন বারবার নাকচ করে দেয় ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকার।”

হাসিনার সাজানো মিথ্যা দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান খালেদা জিয়া। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হলে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয় সরকার। তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশে যেতে পারবেন না, এমন শর্তে সাজা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই থেকে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নেন তিনি। এর মধ্যে কয়েক দফায় লিভার সিরোসিস, হার্টের জটিলতাসহ নানা রোগে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন নিয়ে যাওয়া হয় বেগম জিয়া কে। দীর্ঘদিন বিনা চিকিৎসার কারনে নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রিয় নেত্রী উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের ডাক্তারদের অধীন চিকিৎসা নিয়েছিলেন। হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় জেলে বন্দী রেখে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া কে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনা।

“২৫ মার্চ ২০২১, সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু এটি ছিল একধরনের গৃহবন্দিত্ব। চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চাইলেও, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার শর্ত দেয়— রাজনীতি ছাড়তে হবে! কিন্তু আপসহীন বেগম খালেদা জিয়া তাতে রাজি হননি।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন সকাল। ফ্যাসিবাদের পতন চূড়ান্ত হয়। নির্যাতন ও গৃহবন্দিত্বের অবসান ঘটে, মুক্তি পান নিরপরাধ খালেদা জিয়া। গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের জনগণ তাদের নেত্রীকে স্বাগত জানায়, ফিরে আসে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের স্বপ্ন।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ৬ আগস্ট হাসিনার কোর্টের দেওয়া সাজা মওকুফ করেন রাষ্ট্রপতি। তিন বছরের গৃহবন্দিত্ব শেষে মুক্ত হয়ে তিনি ফিরে আসেন জনতার মাঝে, আর বাংলাদেশের রাজপথ ফিরে পায় তার অদম্য নেত্রীকে।
আজ বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন; তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনার এক জীবন্ত প্রতীক। ক্ষমতার লোভ, কারাবাস, নির্যাতন—কোনো কিছুই তার রাজনৈতিক বিশ্বাসকে নড়াতে পারেনি। তার এই মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন স্বীকার করে—এদেশে গণতন্ত্রের পথ যতবার বিপন্ন হয়েছে, ততবার তিনি ছিলেন লড়াইয়ের সম্মুখসারিতে।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন দেশবিদেশের ডাক্তার-নার্সদের নিরলস পরিশ্রম আর দেশবাসী সহ বিশ্বের অগনিত মানুষের দোয়া সব কিছু বিফলে ফেলে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মহান আল্লাহর ডাকে চলে গেছেন এই দুনিয়ার মায়া চেড়ে । শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অজস্র সৈনিকের রাজনৈতিক মা, প্রিয় নেত্রী এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ যতোদিন থাকবে ততোদিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। তিনি শুধু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণীই নন, বরং নিজ গুণে ও নেতৃত্বে নিজেকে একজন শক্তিশালী ও শ্রদ্ধেয় জাতীয় নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গণতন্ত্রের জন্য তাঁর সংগ্রাম, আপসহীন মনোভাব এবং দেশপ্রেম ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের জন্য গণতন্ত্রের মাতা ও জাতীয় নেত্রী হিসেবে জনগনের ভালবাসায় তিনি সম্মানিত হন। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উনার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও লাখ লাখ নেতা-কর্মী জানাজায় অংশ নেন।

এ ছাড়া বিদেশি কূটনৈতিকরা এই জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের খতিব। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইতিহাসে কোনো মুসলিম নারীর সর্ববৃহৎ জানাজা। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের স্মরণকালের বড় জানাজা। বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

১৫ আগস্ট ২০২৬ বেগম খালেদা জিয়া’র ৮১ তম জন্ম বার্ষিকীতে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। মা, মাটি ও মানুষের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের জনগণের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন ও অবিস্মরণীয় এক নেত্রী হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং বিনীত ফরিয়াদ জানাই—মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন – আমিন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা : বেসরকারি ওয়েবসাইটে ফাঁস ব্যক্তিগত তথ্য

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে গত চার বছরে ১০ লাখের বেশি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীর রোল, রেজিস্ট্রেশন নাম্বার, জিপিএ এবং জন্মতারিখসহ স্পর্শকাতর সব তথ্য এখন পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বেসরকারি ওয়েবসাইটে, যা সাইবার জগতে বিপুল শিক্ষার্থীকে ফেলেছে নিরাপত্তাঝুঁকিতে, একই সঙ্গে এর মাধ্যমে লঙ্ঘন হচ্ছে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষার আইনেরও। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীদের রোল, রেজিস্ট্রেশন নাম্বারসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য থাকার কথা অনুমোদিত তিনটি সরকারি ওয়েবসাইটের অনলাইন সার্ভারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা বোর্ডের তথ্যভাণ্ডার বা ডেটাবেজ হ্যাকিং না হলে এসব সংবেদনশীল তথ্য বাইরে আসার সুযোগ নেই। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। ফলে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া তথ্যগুলো জনসমক্ষে উন্মুক্ত হয়ে পড়ায় তাদের মারাত্মক সাইবার ঝুঁকিতে ও সামাজিক প্রতারণার মুখে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

তবে তথ্য ফাঁসের বিষয়টি অস্বীকার করলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। তার দাবি, বোর্ড থেকে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত করা হয়নি বা কাউকে দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। আমাদের মূল ডেটাবেজ হ্যাক হওয়ার সুযোগ নেই। ফলাফল প্রক্রিয়ার জন্য আমরা বুয়েট, চিটাগং ডকইয়ার্ড লিমিটেড ও টেলিটককে তথ্য দিয়ে থাকি, সেখান থেকে কিছু হয়ে থাকতে পারে। তবে এতে বড় কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি হবে না বলেও তিনি মনে করেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ৭ লাখ ২২ হাজার ৩৯৯ জন। আর ২০২৩-২৫ পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন ৩ লাখ ১০ হাজার ১৩৬ জন। সব মিলিয়ে দুই পাবলিক পরীক্ষায় ১০ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৫ শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য এভাবে ফাঁস হয়েছে। অনুসন্ধানে অন্তত তিনটি ওয়েবসাইট ঠিকানার সন্ধান মিলেছে।

এর মধ্যে দুটির ডোমেইন ভারসেল ডট অ্যাপ এবং আরেকটি ডোমেইন গিটহাব ডট আইও। ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে একটিতে পরীক্ষার্থীদের রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম, পরীক্ষার বছর, ধরন, বিভাগ, মেরিট র‌্যাংক, মোট প্রাপ্ত নম্বর, জিপিএ, মা-বাবার নাম, জন্মতারিখ এবং বিষয়ভিত্তিক প্রাপ্ত নম্বরসহ ১৪ ধরনের তথ্য সরাসরি দেখা যাচ্ছে। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

আরেকটিতে শিক্ষার্থীর নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম, রোল, জিপিএসহ সাত ধরনের তথ্য যে কেউ দেখতে পাচ্ছেন। এখানে ২০২২ সালের এসএসসি, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি এবং ২০২৬ সালের এসএসসির ফলাফলভিত্তিক আটটি তথ্য উন্মুক্ত। একইভাবে অন্তত আট ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত তৃতীয় ওয়েবসাইটটিতেও। এখানে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এইচএসসি এবং ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসির ফলের সব তথ্য মিলছে।

এদিকে দৈবচয়ন ভিত্তিতে অন্তত ১০০ শিক্ষার্থীর রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ফলাফলের ওয়েবসাইটে দিয়ে যাচাই করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, সরকারি পোর্টালে সার্চ দিলে ফল, গ্রেডসহ ১১টি তথ্য মেলে। অথচ অননুমোদিত ওয়েবসাইটগুলোয় রোল-রেজিস্ট্রেশনের বিপরীতে জন্মতারিখসহ বাড়তি আরও তিনটি তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন-২০২৬ ও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ডেটা প্রাইভেসি নীতিমালা অনুযায়ী, নাম, জন্মতারিখ, মা-বাবার নাম এবং প্রাতিষ্ঠানিক রোল ও রেজিস্ট্রেশন ‘ব্যক্তিগতভাবে শনাক্তযোগ্য তথ্য’ (পিআইআই) হিসেবে বিবেচিত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া এসব তথ্য প্রকাশ বা প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ বেআইনি।মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছরের নিচে, তাই আইনের বিধান অনুযায়ী তাদের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের আগে অভিভাবকের স্পষ্ট সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব ওয়েবসাইটে কোনো ধরনের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা বা সম্মতির প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কোনো অভ্যন্তরীণ ডেটাবেজ বা এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) থেকে হয়তো এসব তথ্য হ্যাক করা হয়েছে। এভাবে নাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মা-বাবার নাম প্রকাশ্যে থাকলে তা দিয়ে হ্যাকার বা প্রতারক চক্র খুব সহজেই ভুয়া পরিচয় তৈরি (আইডেন্টিটি থ্যাফট) করতে পারে। একই সঙ্গে বিষয়ভিত্তিক নম্বর ও ফলের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা কোচিং সেন্টার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগ করে বিরক্ত করার সুযোগ পায়, যা সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকিও বাড়ায়।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মু. সাক্বী কাওসার বললেন, যেসব তথ্য শিক্ষা বোর্ড প্রকাশ করেনি, সেগুলো থার্ডপার্টি ওয়েবসাইটে পাওয়ার অর্থ হলো, তাদের ডেটাবেজ হ্যাক হয়েছে। কারণ কেউ স্ক্র্যাপ করলে তারা যা প্রকাশ করেছে, তা-ই শুধু পাওয়া যেত। বাড়তি তথ্য পাওয়া যেত না। এটি ভয়াবহ ঘটনা। ব্যক্তিগত তথ্য পাবলিক ডোমেইনে প্রকাশ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রতারিত হওয়াসহ নানা নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার দায়িত্ব শিক্ষা বোর্ডের। এর দায় শিক্ষা বোর্ডকে নিতে হবে।শিক্ষা বোর্ড ও সরকারের সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভাগগুলোর দ্রুত এসব অননুমোদিত ওয়েবসাইট বন্ধ করা এবং শিক্ষা বোর্ডের তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি বলে মনে করছেন তিনি।

ডিজিটাল অধিকার ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ডিজিটালি রাইট’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরীও বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং এটি বোর্ডের পুরো ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি এসব তথ্য ব্যবহার করে প্রতারকরা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের নানামুখী হয়রানি ও আর্থিক প্রতারণার মুখে ফেলতে পারেন। এজন্য শিক্ষা বোর্ডকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিইআরডি মন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সালাহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ।সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান । এলজিইডি মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়ার পর সালাউদ্দিন আহমেদকে এলজিইডি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়।

তিনি কক্সবাজার-১(চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন।
তিনি ইতিপূর্বে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিএনপি,র মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ