সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা : বেসরকারি ওয়েবসাইটে ফাঁস ব্যক্তিগত তথ্য

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে গত চার বছরে ১০ লাখের বেশি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীর রোল, রেজিস্ট্রেশন নাম্বার, জিপিএ এবং জন্মতারিখসহ স্পর্শকাতর সব তথ্য এখন পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বেসরকারি ওয়েবসাইটে, যা সাইবার জগতে বিপুল শিক্ষার্থীকে ফেলেছে নিরাপত্তাঝুঁকিতে, একই সঙ্গে এর মাধ্যমে লঙ্ঘন হচ্ছে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষার আইনেরও। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীদের রোল, রেজিস্ট্রেশন নাম্বারসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য থাকার কথা অনুমোদিত তিনটি সরকারি ওয়েবসাইটের অনলাইন সার্ভারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা বোর্ডের তথ্যভাণ্ডার বা ডেটাবেজ হ্যাকিং না হলে এসব সংবেদনশীল তথ্য বাইরে আসার সুযোগ নেই। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। ফলে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া তথ্যগুলো জনসমক্ষে উন্মুক্ত হয়ে পড়ায় তাদের মারাত্মক সাইবার ঝুঁকিতে ও সামাজিক প্রতারণার মুখে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

তবে তথ্য ফাঁসের বিষয়টি অস্বীকার করলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। তার দাবি, বোর্ড থেকে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত করা হয়নি বা কাউকে দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। আমাদের মূল ডেটাবেজ হ্যাক হওয়ার সুযোগ নেই। ফলাফল প্রক্রিয়ার জন্য আমরা বুয়েট, চিটাগং ডকইয়ার্ড লিমিটেড ও টেলিটককে তথ্য দিয়ে থাকি, সেখান থেকে কিছু হয়ে থাকতে পারে। তবে এতে বড় কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি হবে না বলেও তিনি মনে করেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ৭ লাখ ২২ হাজার ৩৯৯ জন। আর ২০২৩-২৫ পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন ৩ লাখ ১০ হাজার ১৩৬ জন। সব মিলিয়ে দুই পাবলিক পরীক্ষায় ১০ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৫ শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য এভাবে ফাঁস হয়েছে। অনুসন্ধানে অন্তত তিনটি ওয়েবসাইট ঠিকানার সন্ধান মিলেছে।

এর মধ্যে দুটির ডোমেইন ভারসেল ডট অ্যাপ এবং আরেকটি ডোমেইন গিটহাব ডট আইও। ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে একটিতে পরীক্ষার্থীদের রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম, পরীক্ষার বছর, ধরন, বিভাগ, মেরিট র‌্যাংক, মোট প্রাপ্ত নম্বর, জিপিএ, মা-বাবার নাম, জন্মতারিখ এবং বিষয়ভিত্তিক প্রাপ্ত নম্বরসহ ১৪ ধরনের তথ্য সরাসরি দেখা যাচ্ছে। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

আরেকটিতে শিক্ষার্থীর নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম, রোল, জিপিএসহ সাত ধরনের তথ্য যে কেউ দেখতে পাচ্ছেন। এখানে ২০২২ সালের এসএসসি, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি এবং ২০২৬ সালের এসএসসির ফলাফলভিত্তিক আটটি তথ্য উন্মুক্ত। একইভাবে অন্তত আট ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত তৃতীয় ওয়েবসাইটটিতেও। এখানে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এইচএসসি এবং ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসির ফলের সব তথ্য মিলছে।

এদিকে দৈবচয়ন ভিত্তিতে অন্তত ১০০ শিক্ষার্থীর রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ফলাফলের ওয়েবসাইটে দিয়ে যাচাই করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, সরকারি পোর্টালে সার্চ দিলে ফল, গ্রেডসহ ১১টি তথ্য মেলে। অথচ অননুমোদিত ওয়েবসাইটগুলোয় রোল-রেজিস্ট্রেশনের বিপরীতে জন্মতারিখসহ বাড়তি আরও তিনটি তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন-২০২৬ ও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ডেটা প্রাইভেসি নীতিমালা অনুযায়ী, নাম, জন্মতারিখ, মা-বাবার নাম এবং প্রাতিষ্ঠানিক রোল ও রেজিস্ট্রেশন ‘ব্যক্তিগতভাবে শনাক্তযোগ্য তথ্য’ (পিআইআই) হিসেবে বিবেচিত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া এসব তথ্য প্রকাশ বা প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ বেআইনি।মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছরের নিচে, তাই আইনের বিধান অনুযায়ী তাদের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের আগে অভিভাবকের স্পষ্ট সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব ওয়েবসাইটে কোনো ধরনের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা বা সম্মতির প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কোনো অভ্যন্তরীণ ডেটাবেজ বা এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) থেকে হয়তো এসব তথ্য হ্যাক করা হয়েছে। এভাবে নাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মা-বাবার নাম প্রকাশ্যে থাকলে তা দিয়ে হ্যাকার বা প্রতারক চক্র খুব সহজেই ভুয়া পরিচয় তৈরি (আইডেন্টিটি থ্যাফট) করতে পারে। একই সঙ্গে বিষয়ভিত্তিক নম্বর ও ফলের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা কোচিং সেন্টার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগ করে বিরক্ত করার সুযোগ পায়, যা সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকিও বাড়ায়।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মু. সাক্বী কাওসার বললেন, যেসব তথ্য শিক্ষা বোর্ড প্রকাশ করেনি, সেগুলো থার্ডপার্টি ওয়েবসাইটে পাওয়ার অর্থ হলো, তাদের ডেটাবেজ হ্যাক হয়েছে। কারণ কেউ স্ক্র্যাপ করলে তারা যা প্রকাশ করেছে, তা-ই শুধু পাওয়া যেত। বাড়তি তথ্য পাওয়া যেত না। এটি ভয়াবহ ঘটনা। ব্যক্তিগত তথ্য পাবলিক ডোমেইনে প্রকাশ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রতারিত হওয়াসহ নানা নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার দায়িত্ব শিক্ষা বোর্ডের। এর দায় শিক্ষা বোর্ডকে নিতে হবে।শিক্ষা বোর্ড ও সরকারের সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভাগগুলোর দ্রুত এসব অননুমোদিত ওয়েবসাইট বন্ধ করা এবং শিক্ষা বোর্ডের তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি বলে মনে করছেন তিনি।

ডিজিটাল অধিকার ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ডিজিটালি রাইট’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরীও বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং এটি বোর্ডের পুরো ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি এসব তথ্য ব্যবহার করে প্রতারকরা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের নানামুখী হয়রানি ও আর্থিক প্রতারণার মুখে ফেলতে পারেন। এজন্য শিক্ষা বোর্ডকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’-এর যাত্রা শুরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এটিই প্রথম কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডারিন (চীনা) ভাষা শেখা এবং চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।এ ছাড়া চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বাংলাদেশ-চীনের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও ইনস্টিটিউটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবনের পঞ্চম তলায় ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’-এর ফলক উন্মোচন করেন অতিথিরা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান চাওছি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. ইকবাল শাহীন খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, চবির পরিচালক ও উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আজকের দিনটি খুবই ঐতিহাসিক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে আমাদের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের যে সুযোগ সৃষ্টি হবে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অনন্য মাত্রা যোগ করবে।’

তিনি বলেন, ‘রুয়ান চাওছি যখন আমাদের কনফুসিয়াস সেন্টারটি উদ্বোধন করছিলেন, তিনি বলেছেন—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সেন্টারটিকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চান, যাতে এটি ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটির একটি রেপ্লিকা হিসেবে এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়।’

চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজকদের অভিনন্দন জানাতে চাই। আপনারা জানেন, আমাদের সরকার বর্তমানে তৃতীয় আরেকটি ভাষা শেখার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। এর গুরুত্ব বিবেচনা করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটকে প্রায় ৮ থেকে ৯টি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি ভাষা হবে চীনা ভাষা।’

কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, চবির পরিচালক ও উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এই কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট তৈরির পেছনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাজ করেছেন, সবাইকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন ডায়নামিক নেতৃত্ব দিয়ে সর্বশেষ পর্যায়ে এই কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে একটি সফল ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে আজ কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।’

নিজেদের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে অনেক চেষ্টা করেছিলাম—আমরা আসলেই নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ করতে পারব কি না, শ্রেণিকক্ষগুলো প্রস্তুত করতে পারব কি না, শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারব কি না। আমাদের উপাচার্য স্যার বলেছিলেন, তোমরা পারবে। যেহেতু আমরা তাদের কথা দিয়েছি, তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করতে পেরেছি।তিনি বলেন, ‘ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি আমাদের যে অর্থায়ন করেছে, সেটি এই কাজ সফল করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’এ উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের চীনা ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি চীনে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রামে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ অভিযানে আটক ৪৪৫

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রাম জেলার ১৭টি থানা এলাকায় একযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে উক্ত অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থান এবং কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য জায়গায় এ অভিযান চালানো হয়।পুলিশ জানায়, অভিযানে বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিশোরদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় ৩৫৪ জন কিশোরকে থানায় আনা হয়।

যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ৬১ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া মাদক ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরও ৯১ জনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে বিশেষ অভিযানে ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়।

অভিযান শেষে অভিভাবকদের থানায় ডেকে সন্তানদের বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সন্তান কখন, কোথায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, নিয়মিত কোথায় যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বাড়ি ফিরছে কি না এসব বিষয়ে নজর রাখার জন্য তাদের বলা হয়।পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা, চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি এবং মাদক ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে দূরে রাখার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা হয়।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল জানান, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ